kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাশ্মীর হামলা : মোদিকে বার্তা শেখ হাসিনার

ভারতের পাশে থাকার ঘোষণা বাংলাদেশের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভারতের পাশে থাকার ঘোষণা বাংলাদেশের

কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় সেনা সদস্য হতাহতের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে পাশে থাকবে বাংলাদেশ।

সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠানো এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষে এ আশ্বাস দেন।

গত রবিবার ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৭ ভারতীয় সেনা নিহত ও অন্তত ৩৫ জন আহত হয়। সেনাদের পাল্টা গুলিতে মারা যায় চার হামলাকারীও। এ ঘটনার পেছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনা বেড়েছে।

শেখ হাসিনা হতাহত সেনা সদস্যের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সন্ত্রাস ও উগ্রবাদী সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ এই কঠিন সময়ে ভারতের পাশে থাকবে। ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে এই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ও সীমানাজুড়ে চলমান সব হুমকি নির্মূলে আমরা একসঙ্গে কাজ করব। ”

সব ধরনের সন্ত্রাস ও উগ্রবাদী ধ্যান-ধারণা এবং এর সহিংস প্রকাশের নিন্দা জানিয়ে এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলী সিএনএন-নিউজ১৮-কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রীর বার্তার উল্লেখ করে ভারতের পাশে থাকার কথা জানান। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনায় বাংলাদেশের শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ রয়েছে। ভারতের জন্য কঠিন এ সময়ে বাংলাদেশ তাদের পাশে থাকবে। ”

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বাংলাদেশ বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করবে বলেও জানান হাইকমিশনার।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে উৎসারিত মন্তব্য করে মুয়াজ্জেম বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারতীয় সৈনিকের রক্ত যে বন্ধুত্বের ভিত্তি রচনা করেছিল, তা এখনো চলমান। তিনি বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে একাত্তরের চেতনাই যেন আমাদের ভিত্তি হিসেবে অমলিন থাকে তা আমি চাইব। ওই সময় আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়েছিলাম। ’

২০১৪ সালের পর কাশ্মীরের উত্তরাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলাগুলোর মধ্যে রবিবারের হামলাকে ‘সবচেয়ে প্রাণঘাতী’ বলা হচ্ছে।

দেশ ভাগের পর থেকেই কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ চলছে। প্রতিবেশী দুটি দেশের মধ্যে সংঘটিত তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দুটিই হয়েছে বিরোধপূর্ণ এই অঞ্চল ঘিরে।

এই হামলা পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত তিক্ত সম্পর্কের দুটি শত্রুভাবাপন্ন দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরো উসকে দিয়েছে; তৈরি হয়েছে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সামরিকায়িত এই সীমানাজুড়ে অনেক জায়গায় ভারত ও পাকিস্তানের সেনারা খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। সূত্র: বাসস ও বিডিনিউজ।


মন্তব্য