kalerkantho


ইউএনএইচসিআর ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

২৫ বছরে বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়েছে সোয়া চার লাখ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



২৫ বছরে বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়েছে সোয়া চার লাখ বাংলাদেশি

১৯৯১ থেকে ২০১৫—এই ২৫ বছরে চার লাখ ২৬ হাজার বাংলাদেশি ‘বাধ্য’ হয়ে দেশ ছেড়েছে বলে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইচ্ছার বাইরে দেশ ছাড়ার হিসাবে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২০তম।

যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, গত ২৫ বছরে সিরিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ বাধ্য হয়ে অথবা নিজের ইচ্ছার বাইরে অন্য দেশে চলে গেছে। এই সংখ্যা ৬৬ লাখ। জোরপূর্বক ও বলপ্রয়োগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে এমন দেশের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে কলম্বিয়া। এ দেশ থেকে ৬৩ লাখ মানুষ অন্য দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে গত ২৫ বছরে। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে আছে যথাক্রমে ইরাক ৩২ লাখ ও সুদান ৩১ লাখ। গত ১৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফোসর্ড ডিসপ্লেসমেন্ট : আ ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ল্ড ক্রাইসিস’ শিরোনামের গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় পেয়েছে দুই লাখ ৩২ হাজার জন। যদিও সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, এ সংখ্যা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার। সবচেয়ে বেশি আশ্রয় চেয়েছে সিরিয়ার মানুষ।

এই সংখ্যা ২৫ লাখ। এরা তুরস্কে প্রবেশ করেছে অথবা ঢোকার অপেক্ষায় আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গারা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। যার মধ্যে অন্যতম একটি হলো গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া।

বিশ্বব্যাংক ও ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯১ থেকে ২০১৫—এই ২৫ বছরে সারা বিশ্বে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধসহ নানা কারণে নিজ দেশ থেকে অন্য দেশে চলে গেছে ছয় কোটি ৫০ লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই স্থানান্তরিত হয়েছে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, বুরুন্ডি, কঙ্গো, সোমালিয়া, কলম্বিয়া, সুদান ও সাবেক যুগোস্লাভিয়া থেকে। ২০১৫ সাল শেষে তুরস্ক, লেবানন, জর্দান ও সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো ২৭ শতাংশ স্থানান্তরিত মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তান, ইরান ও আফগানিস্তানের আশপাশের দেশগুলো আশ্রয় দিয়েছে ১৬ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম জানিয়েছেন, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য বিমোচনের পথে এই জোরপূর্বক দেশছাড়া হওয়ার ঘটনা বড় বাধা হয়েছে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনা কমাতে হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার। বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়ার কারণে ব্যক্তি তার সম্পদ হারাচ্ছে। অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ড. তাসনিম সিদ্দিকী এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, এ ধরনের বাধ্য ও জোরপূর্বক দেশ ছাড়ার ঘটনা একমাত্র রাজনৈতিক কারণে ঘটে থাকে। এর সঙ্গে অভিবাসনের সম্পর্ক নেই।


মন্তব্য