kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাকি অর্থের দায়িত্ব ফিলিপাইনের বিচার বিভাগ নেবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাকি অর্থের দায়িত্ব ফিলিপাইনের বিচার বিভাগ নেবে না

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে এক কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ১১৯ কোটি টাকা) ফেরত দিতে ফিলিপাইনের বিচার বিভাগ বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে সে দেশের আদালতে প্রতিনিধিত্ব করলেও বাকি ছয় কোটি ৬০ লাখ ডলারের দায়িত্ব তারা নেবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চুরি হওয়া বাকি অর্থ দাবি করে মামলা করার আগে ওই অর্থ কোথায় আছে, তা খুঁজে বের করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে।

ফিলিপাইনের বিচার বিভাগের প্রধান আইন পরামর্শক রিকার্ডো পারাস গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘চুরি হওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের একটি অংশ (এক কোটি ৫০ লাখ ডলার) ফেরত পাওয়ার বিষয়ে আমরা ফিলিপাইনের আদালতে বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলাম, কেননা ওই অর্থ ফিলিপাইন সরকারের হাতে ছিল। ’

এদিকে রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে প্রায় ১১৯ কোটি টাকা দু-এক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ হাতে পাবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ফিলিপাইনের জুয়া ব্যবসায়ী কিম উং ওই অর্থ ফেরত দিয়েছিলেন। দেশটির আদালত তা বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দেওয়ার রায় দিয়েছেন।

আদালতের রায়ের পর অর্থ ফেরত পেতে কত দিন লাগবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা বোধ হয় আমরা এরই মধ্যে পেয়ে গেছি; না হলে আজ-কালকের মধ্যেই পাচ্ছি। মনে হয় আমরা পেয়েই গেছি। ’

রিজার্ভের বেহাত হওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে বাকি অর্থের কী পরিমাণ ব্যাংকিং চ্যানেলে রয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, ‘সেটা তো আমরা বলতে পারব না। যে অর্থ তারা উদ্ধার করতে পেরেছে, সেটি খুব সহজেই ফেরত আসছে। বাকিটা মামলা করে আদায় করতে হবে। সুতরাং ওটা বলা মুশকিল। ’

ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যম ইনকোয়েরারডটনেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান আইন পরামর্শক রিকার্ডো পারাস বলেন, ‘ওই এক কোটি ৫০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিএসপির ভল্টে রক্ষিত ছিল বলেই আমরা তাদের (বাংলাদেশ সরকার) সহযোগিতা করেছি। ’ তিনি আরো বলেন, ‘বাকি অর্থ দাবি করে মামলা করা যাদের দায়িত্ব, আমি তাদের মধ্যে পড়ি না। ’

পারাস জানান, ‘বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জাতিসংঘ কনভেনশনের আন্তর্দেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের আওতায় ফিলিপাইন সরকারের কাছে আইনি সহায়তা চেয়েছিল বলেই আমরা তাদের পক্ষ হয়ে এই মামলায় আদালতে প্রতিনিধিত্ব করি। ’

আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ওই অর্থ বাংলাদেশকে ফেরত দিতে মাত্র দুই মাস সময় লাগবে, যদি না কেউ সরকারের ওই আদেশের বিরোধিতা করে।

পারাস বলেন, ফিলিপাইন অ্যামিউজমেন্ট অ্যান্ড গেমিং করপোরেশনের (প্যাগকর) কাছে এখনো ২০ লাখ ডলারের বেশি বিদেশি মুদ্রা রয়েছে, যা উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ সরকার এমন আরো একটি মামলা করতে পারে।

৬০০০ কোটি টাকার তহবিল চায় বিএমবিএ : পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের কাছে স্বল্পসুদে ছয় হাজার কোটি টাকার তহবিল চেয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। গতকাল সকালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে বিএমবিএর প্রতিনিধিদল এ তহবিল চেয়েছে।

বৈঠক শেষে বিএমবিএ সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান বলেন, তাঁরা অর্থমন্ত্রীর কাছে পুঁজিবাজারের জন্য ছয় হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। নেগেটিভ ইক্যুইটি আছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওই তহবিল থেকে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হবে। এমন একটি তহবিল পাওয়া গেলে বাজারে গতি সঞ্চার হবে। এতে নেগেটিভ ইক্যুইটির অনেক অ্যাকাউন্টের অবস্থার উন্নতি হবে। আর প্রতিষ্ঠানগুলো সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। তহবিল থেকে নেওয়া ঋণের অর্থও তারা ফেরত দিতে পারবে।

ছায়েদুর রহমান জানান, অর্থমন্ত্রী বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

ওই সময় সংগঠনের সহসভাপতি ও প্রাইম ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্টের সিইও ড. মোশাররফ হোসেন এবং লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সিইও খন্দকার কায়েস হাসান উপস্থিত ছিলেন।

 


মন্তব্য