kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১৭০০ টন ফরমালিনের কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি টিকে গ্রুপের

আবুল কাশেম ও সরোয়ার আলম   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



১৭০০ টন ফরমালিনের কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি টিকে গ্রুপের

শিল্পগোষ্ঠী টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুপার বোর্ড মিলস লিমিটেড শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করে গত সাড়ে তিন বছরে ৬২৭ টন প্যারাফরমালডিহাইড খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। এ পরিমাণ প্যারাফরমালডিহাইড ব্যবহার করে এক হাজার ৭০০ টন ফরমালিন উৎপাদন করা সম্ভব।

খোলাবাজারে যার দাম পড়বে প্রায় ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বেআইনিভাবে ফরমালিনের কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির অপরাধে টিকে গ্রুপের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনুমোদন চেয়েছে সংস্থাটি। তবে টিকে গ্রুপের কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁরা প্যারাফরমালডিহাইড খোলাবাজারে বিক্রি করেননি।

প্যারাফরমালডিহাইড বা ফরমালডিহাইডের সঙ্গে পানি মিশিয়ে ফরমালিন তৈরি করা হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসার্স সুপার বোর্ড মিলস লিমিটেড ২০১৩-২০১৪ অর্থবছর থেকে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর পর্যন্ত এক হাজার ৪৫১ টন প্যারাফরমালডিহাইড আমদানি করেছে। তার মধ্যে একই সময়ে ৮২৪ টন ফরমালডিহাইড তারা গ্লু (আঠা) তৈরিতে ব্যবহার করেছে। বাকি ৬২৭ টন খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদনটি এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের কাছে পাঠিয়েছে। তারা এনবিআরের কাছে টিকে গ্রুপের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা দায়েরের অনুমোদন চেয়েছে। পাশাপাশি খোলাবাজারে ফরমালডিহাইড বিক্রির মাধ্যমে ফাঁকি দেওয়া শুল্ককর ও ভ্যাট টিকে গ্রুপের কাছ থেকে আদায়ের অনুমোদন চেয়েছে তারা। এ ছাড়া ওই তিন অর্থবছরে বিভিন্ন কম্পানি কাঁচামাল হিসেবে যে ৩৭ হাজার ৯৪৩ টন প্যারাফরমালডিহাইড আমদানি করেছে তা সঠিকভাবে ব্যবহার হয়েছে, নাকি টিকে গ্রুপের মতোই খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে, তা তদন্তের অনুমতি চেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫ অনুযায়ী খোলাবাজারে ফরমালিন বিক্রি করা, খাদ্যপণ্যে মেশানো ফৌজদারি অপরাধ। কোনো কম্পানি এ আইন লঙ্ঘন করলে তার চেয়ারম্যান, পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করার বিধান রয়েছে।

অবৈধভাবে খোলাবাজার থেকে যারা ফরমালিন কেনে তারা পরে তা আবার বিক্রি করে দেয়। অসৎ ব্যবসায়ীরা মাছ, মাংস, সবজি, ফলসহ পচনশীল নানা খাদ্যপণ্যের সঙ্গে ফরমালিন মেশায়। ফরমালিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

২০১৫ সালে ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন পাসের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স ছাড়া কেউ ফরমালিন আমদানি, ক্রয়-বিক্রয় ও স্থানান্তর করতে পারে না। তবে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান কাঁচামাল হিসেবে ফরমালিন ব্যবহার করে, তাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে প্যারাফরমালডিহাইড আমদানি করতে হয়। এ আইন করার পর প্যারাফরমালডিহাইড আমদানির পরিমাণ ১০ ভাগের এক ভাগে নেমেছে। ফলে খোলাবাজারে ফরমালিনের জোগান অনেক কমে গেছে। এ কারণে খোলাবাজারে প্যারাফরমালডিহাইড বা ফরমালিনের দামও অনেক বেড়েছে। প্রতি টন ফরমালিনের আমদানি ব্যয় ৬৫ হাজার টাকা। আর খোলাবাজারে এর মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। ফলে অনেক অসাধু প্রতিষ্ঠান শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের কথা বলে প্যারাফরমালডিহাইড আমদানির পর খোলাবাজারে বিক্রি করছে।

সুপার বোর্ড মিলস লিমিটেডের কারখানা মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার শিকিরগাঁওয়ে। প্রতিষ্ঠানটির আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৪৬০ টন এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৯৯১ টন প্যারাফরমালডিহাইড আমদানি করেছে তারা। একই সময়ে তাদের দেওয়া উৎপাদন খরচ পর্যালোচনা করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানতে পেরেছে, কম্পানিটি ৬২৭ টন প্যারাফরমালডিহাইড পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করেনি। তাদের মজুদের হিসাবেও ওই পরিমাণ প্যারাফরমালডিহাইড ছিল না। তাই এই বিপুল পরিমাণ প্যারাফরমালডিহাইড প্রতিষ্ঠানটি খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে সিদ্ধান্তে এসেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

তদন্তের সময় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সুপার বোর্ড মিলস লিমিটেডের কাছে অব্যবহৃত ৬২৭ টন প্যারাফরমালডিহাইডের তথ্য জানতে চান। তখন সুপার বোর্ডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক (ভ্যাট ও হিসাব) মোহাম্মদ মহসিন সরকার জানান, টিকে গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান সুপার ফরমিকা অ্যান্ড লেমিনেশন লিমিটেডকে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সুপার বোর্ড মিলস লিমিটেড ৫০৫ টন প্যারাফরমালডিহাইড দিয়েছে। আর ২০১৪ সালের ১৯ জুন সুপার বোর্ড মিলসে অগ্নিকাণ্ডে ১৮০ টন প্যারাফরমালডিহাইড সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে।

তাদের এ যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ১৯ জুন অগ্নিকাণ্ড সংঘটনের আগের দিন সুপার বোর্ড মিলস লিমিটেডের ক্রয় হিসাব পুস্তকে প্যারাফরমালডিহাইডের সমাপনী জের ছিল ৩১২ টন। অগ্নিকাণ্ডের পর ওই বছরের ১ জুলাইও ক্রয় হিসাব পুস্তকের প্রারম্ভিক জের একই পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।  

তদন্ত প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডে প্যারাফরমালডিহাইড ভস্মীভূত হওয়ার তথ্য নাকচ করে দিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর বলেছে, অগ্নিকাণ্ডের পরবর্তী মাসের শুরুতে অগ্নিকাণ্ডের আগের দিনের সমপরিমাণ প্যারাফরমালডিহাইড মজুদ ছিল, তাই ১৮০ টন প্যারাফরমালডিহাইড আগুনে পুড়ে যাওয়ার বিষয়ে সুপার বোর্ডের দাবি যথার্থ নয়।  

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপার ফরমিকা অ্যান্ড লেমিনেশন লিমিটেডকে ৫০৫ টন প্যারাফরমালডিহাইড ধার দেওয়ার বিষয়ে অনুমোদন চেয়ে সুপার বোর্ড ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কার্যালয়ে আবেদন করেছিল। কিন্তু তিন বছর আগের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৫ সালে কাঁচামাল হস্তান্তরের বিষয়টি বেআইনি ও সন্দেহজনক। তা ছাড়া উল্লিখিত দীর্ঘ সময়ে মূল্যের পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে নতুন মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আইনানুগভাবে অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল হস্তান্তর করার বিষয়টিও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় না।

সুপার ফরমিকা অ্যান্ড লেমিনেশন লিমিটেড নির্মাণ ও অন্দরসজ্জার নানা সামগ্রী উৎপাদন করে। প্রতিষ্ঠানটির কারখানাও শিকিরগাঁওয়ে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপার ফরমিকা অ্যান্ড লেমিনেশন লিমিটেড ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৮০৮ টন এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩৪০ টন প্যারাফরমালডিহাইড আমদানি করেছে।

সুপার ফরমিকা অ্যান্ড লেমিনেশন লিমিটেডও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। ওই প্রতিষ্ঠানের বিষয়েও সরেজমিন পরিদর্শন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত আগস্ট থেকে ওই তদন্ত চালায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ওই সময় সুপার বোর্ড মিলস লিমিটেডের আমদানি করা ২০ কনটেইনার প্যারাফরমালডিহাইড চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে ছিল।

তদন্তকালীন সেগুলো খালাসে স্থগিতাদেশ দেয় এনবিআর। তবে গত ১১ আগস্ট কনটেইনারগুলো খালাসের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে টিকে গ্রুপকে। আর সুপার ফরমিকা অ্যান্ড লেমিনেশনের খালাসের অপেক্ষায় থাকা ১০ কনটেইনার প্যারাফরমালডিহাইড খালাসে গত ২৩ আগস্ট নির্দেশ দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা। উভয় ক্ষেত্রেই খালাস হওয়া প্যারাফরমালডিহাইড যাতে কারখানায় ঢুকে সে জন্য নিরাপত্তা পাহারার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫-এর ৩০(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইনের অধীন কোন বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি যদি কোম্পানি হয়, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানির মালিক, অংশীদার, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোন কর্মকর্তা বা এজেন্ট বিধানটি লঙ্ঘন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে উক্ত লঙ্ঘন তাঁহার জ্ঞাতসারে হয় নাই অথবা উক্ত লঙ্ঘন রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন। ’

৩০(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘উপধারা (১)-এ উল্লিখিত কোম্পানি আইনগত ব্যক্তিসত্তা (বডি করপোরেট) হইলে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট উক্ত কোম্পানিকে আলাদাভাবে একই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে ফৌজদারি মামলায় উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে শুধু অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে। ’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৫ অনুযায়ী, কোনো কম্পানি কাঁচামাল হিসেবে প্যারাফরমালডিহাইড আমদানির পর খোলাবাজারে বিক্রি করে দিলে তা ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত কম্পানি টিকে গ্রুপেরই হোক বা অন্য কোনো গ্রুপের, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

তিনি বলেন, ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের পর খোলাবাজারে ফরমালিন কেনাবেচা ও ফরমালিনের আমদানি অনেক কমে গেছে। আগের চেয়ে এখন ফরমালিন আমদানি ১০ ভাগের এক ভাগে নেমেছে। এ অবস্থার মধ্যে কোনো কম্পানি ফরমালিন খোলাবাজারে বিক্রি করলে তাকে কোনোমতেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর অবস্থান রয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর মইনুল খান কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘মাছ ও ফলমূলে ফরমালিন দিয়ে মানুষের জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে একাধিক চক্র। তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে টিকে গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খোলাবাজারে ফরমালিন বিক্রি করার অভিযোগ এসেছে। আমরা তা আমলে নিয়েছি। পরে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সুপার বোর্ড মিলস লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শন করে। এতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্যারাফরমালডিহাইড আমদানি করে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ’

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন এনবিআরের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন।  

অভিযোগের বিষয়ে টিকে গ্রুপের পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মার্কেটিং) তারিক আহমেদ কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই। সুপার বোর্ড মিলস লিমিটেড আমার অধীন নয়। ’

তবে টিকে গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (অর্থ ও বাণিজ্য) মো. সাফিউল আত্হার তাসলিম গতকাল দুপুরে কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘শুল্ক গোয়েন্দার প্রতিবেদন সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল আছি। তবে প্রতিবেদনটির সঙ্গে আমরা একমত হতে পারছি না। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, টিকে গ্রুপ কখনো অপরাধ বা প্রতারণা করে না। এ গ্রুপের ৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুপার বোর্ড মিলস লিমিটেড একটি। এ প্রতিষ্ঠানটিও দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা চালাচ্ছে। কখনো আমরা খোলাবাজারে ফরমালিন বিক্রি করিনি। একটি স্বার্থান্বেষী মহল টিকে গ্রুপের সুনাম নষ্ট করতে এসব রটাচ্ছে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘শুল্ক গোয়েন্দার তদন্তের সময় চট্টগ্রামে আসা প্রায় ২০০ টন প্যারাফরমালডিহাইড আমদানি পণ্য খালাস বন্ধ রাখা হয়েছিল। গত সোমবার এনবিআর আমাদের চিঠি দিয়ে সেগুলো খালাস করতে বলেছে। ইতিমধ্যে আমরা খালাস শুরু করেছি। এ থেকেও প্রমাণিত হয়, আমরা কোনো অনিয়ম বা খোলাবাজারে ফরমালিন বিক্রি করছি না। ’

একই কথা বলেছেন টিকে গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (বিক্রয় ও মার্কেটিং) মো. মোফাচ্ছেল হক। তিনি কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘৪০ বছরে ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠান সুনামের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। শুল্ক গোয়েন্দার কাছে যে অভিযোগ গেছে, তা সত্য নয়। খোলাবাজারে ফরমালিন বিক্রি করার প্রশ্নই আসে না। সরকারের নির্দেশনা মেনেই আমরা ব্যবসা চালাচ্ছি। আমরা যদি খোলাবাজারে ফরমালিন বিক্রি করতাম, তাহলে এনবিআর আমাদের চিঠি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্যারাফরমালডিহাইড খালাস করতে বলেছে কেন?


মন্তব্য