kalerkantho


শেরপুরে পুলিশ কনস্টেবলের রক্তাক্ত লাশ

শেরপুর প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শেরপুরে পুলিশ কনস্টেবলের রক্তাক্ত লাশ

শেরপুরে রাকিবুল হাসান রাকিব (২০) নামের এক পুলিশ কনস্টেবলের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে শহরের পূর্ব শেরী মহল্লার বাটারাঘাট এলাকায় লাশটি পাওয়া যায়। পুলিশ তাত্ক্ষণিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের কারণ জানাতে পারেনি।

সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে লাশের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং এসিডে ঝলসানোর চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ খুনের ঘটনায় ঘটনাস্থলের পাশের মিনু বেগম নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

বিকেলে শেরপুর সদর হাসপাতাল মর্গে রাকিবের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। ধারালো অস্ত্রাঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জেলা হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আবদুল মোবারক জানিয়েছেন।

এই চিকিৎসক জানান, হত্যাকাণ্ডে লোহার শাবল বা এ জাতীয় ভারী লৌহদণ্ড ব্যবহৃত হয়েছে। মাথায় আঘাত করায় মাথার খুলি ভেঙে গেছে। পায়ের ঊরুর হাড় ভেঙে কেটে ফেলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য আনার আগে ১৮ ঘণ্টার মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

রাকিবুল হাসান শেরপুর পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। তাঁর কনস্টেবল নম্বর-২২৭। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার শৈলকুরিয়া গ্রামের মো. শাজাহান মিয়ার ছেলে তিনি। গত বছরের ১৫ নভেম্বর রাকিব পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ৭টার দিকে পুলিশ লাইনসংলগ্ন পূর্ব শেরী মহল্লার রাস্তার পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে মৃতদেহটি দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে সদর থানার পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ লাইনসংলগ্ন মিনু বেগম ওরফে ‘নীলার মা’ নামের এক নারীর বাসা ঘেরাও করে তল্লাশি চালায়। তবে সে সময় ওই বাসায় কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে শহর থেকে মিনুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দিন শিকদার জানান, রবিবার রাত ২টা থেকে কনস্টেবল রাকিবুল হাসানের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল পুলিশ লাইনে। কিন্তু রাত ১২টা থেকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। গতকাল সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ লাইনের পাশের পূর্ব শেরী মহল্লার বাটারাঘাট এলাকার রাস্তার পাশ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন শিকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে পুলিশ সদস্য রাকিবুলকে পরিকল্পনামাফিক নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, কারা এ ঘটনায় জড়িত তা বের করতে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।

সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে।

রাকিবের লাশ উদ্ধারের পর জেলা পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের সব কর্মকর্তা, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পুলিশ লাইনে রাকিবের সহকর্মীরা জানান, খুবই সহজ সরল স্বভাবের মানুষ ছিলেন রাকিব। নিরিবিলি থাকতেই পছন্দ করতেন তিনি। তাঁর কোনো শত্রু থাকতে পারে কেউ ভাবতে পারছে না।

তাঁরা আরো জানান, রাকিবের বাবা মো. শাহজাহান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থাকেন। তাঁর বড় এক ভাইও পুলিশে চাকরি করেন। ছোট আরেক ভাইকে পুলিশের চাকরিতে ঢোকানোর জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এ জন্য রাকিব কয়েক দিন ধরে চিন্তিত ছিলেন।

 


মন্তব্য