kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাকিস্তানে হামলা চালাতে চাপ ভারতীয় সেনাবাহিনীর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পাকিস্তানে হামলা চালাতে চাপ ভারতীয় সেনাবাহিনীর

ভারত শাসিত কাশ্মীরের উরির একটি সেনাঘাঁটিতে রবিবার ভোরে বন্দুকধারীদের হামলায় ১৮ জন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে জোরালো দাবি উঠেছে। এই হামলার জন্য পাকিস্তানের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করছে ভারত।

পাকিস্তানকে  জবাব দেওয়ার জন্য সরকারের ভেতরেও চাপ রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের জবাব কী হবে তা ঠিক করতে গতকাল সোমবার দিল্লিতে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ইতিমধ্যে ভারত প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গ্রুপ জইশ-ই-মোহাম্মদ এই হামলা চালিয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং তাঁর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানকেও একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে পাকিস্তান ভারতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গতকাল পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ভারতের ‘উসকানিমূলক মন্তব্যে’র নিন্দা জানিয়েছে।  

ভারত এখন ধরেই নিচ্ছে, উরিতে রবিবারের হামলার পেছনে পাকিস্তানের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।

রবিবারের হামলার সম্ভাব্য জবাব কী হতে পারে, এ নিয়ে গতকাল প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবনে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, সেনাপ্রধান এবং তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

রবিবার হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদি টুইট বার্তায় বলেছিলেন, ‘আমি দেশবাসীকে নিশ্চিত করছি যে এই হামলার পেছনে  যারা রয়েছে তারা কেউই শাস্তি এড়াতে পারবে না। ’ মোদি এই বার্তায় পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেননি। তবে তাঁর এই মন্তব্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষের লোকদের উৎসাহিত করেছে।

এই হামলায় পাকিস্তান নিজেদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাত নিশপিশ করছে উরি হামলার পাল্টা জবাব দিতে। ভারতীয় সেনাবাহিনী এটিকে ‘ইজ্জতের’ প্রতিশোধ মনে করছে।

দিল্লির সামরিক পরিকল্পনাকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই ভুল ভেবে আসছেন যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও ভারত সফলভাবেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ত্বরিত শাস্তিমূলক হামলা চালাতে পারে। আর তা পারমাণবিক সীমানা অতিক্রম না করেই করা সম্ভব। প্রতিপক্ষকে পারমাণবিক হামলার উসকানি ছাড়াই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এই ধারার ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করেন, ভারতের পরমাণু সক্ষমতা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘ত্বরিত’ হামলার জন্য দিল্লির জন্য প্রচুর সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, যাতে দিল্লি কৌশলগত ও রাজনৈতিক জয় পেতে পারে। আর এই সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সব ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার ঠেকাতে হস্তক্ষেপ করবে। কিন্তু এ ধরনের হামলার পদ্ধতি কেবল দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের বেলায় হতে পারে, যা রবিবারের হামলার ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটতে পারত। ফলে সে ধরনের হামলার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে গেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদির বিবৃতি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘আগ্রাসী মনোভাবাপন্ন’ কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করছে।

ওই বৈঠকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লে. জে. বিজয় কাপুর বলেছেন, ‘পাকিস্তানকে এখনই দেখাতে হবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্ষমতা কতটা। ’ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও এই মতবাদের পক্ষে।

তবে বিবিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষক রাহুল বেদি বলছেন, সে রকম অভিযানের পেছনে ঝুঁকি যে কত মারাত্মক হতে পারে, তা নিয়ে হয়তো এই তত্ত্বের সমর্থকরা অতটা ভাবেন না। তিনি বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর বর্তমান কমান্ডের একাংশ মনে করে, সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোর আস্তানায় স্পেশাল ফোর্স দিয়ে হামলা করা সম্ভব। তারা সম্প্রতি মিয়ানমারের ভেতরে নাগা বিদ্রোহীদের দুটো আস্তানায় যে কমান্ডো অভিযান চালানো হয়েছিল, সেটার আদলে হামলা চালাতে চায়।

অন্যদিকে ঘটনার পর কাশ্মীরের শ্রীনগর পরিদর্শন করে গতকাল ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর জানিয়েছেন, হামলায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি এক টুইট বার্তায় এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘১৮ সেনার এই সাহসী আত্মোৎসর্গ বৃথা যাবে না। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। উরি ঘাঁটিতে হামলার পর সেনাপ্রধান ও কমান্ডারদের নিয়ে কাশ্মীরের পরিস্থিতির পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। ’

ভারতের লেফটেন্যান্ট রণবীর সিং নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমাদের লোকেরা উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে আছে। ’ তবে এ বিষয়ে তিনি খোলাসা করে কিছু বলেননি।

পাকিস্তানের বিবৃতি : গত রবিবার উরিতে হামলার ঘটনায় পাকিস্তানকে দোষারোপ করায় পাল্টা জবাব দিয়েছে ইসলামাবাদ। গতকাল পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই দোষারোপ ‘উসকানিমূলক’। ভারতের এ অবস্থানকে একটি ‘স্থূল চেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বিবৃতিতে বলা হয়, ভারত কাশ্মীরের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি থেকে মনোযোগ সরাতে চায়। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য