kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পদ্মায় ছেলেকে ভাসিয়ে রেখে চলে গেলেন মা

নাটোর প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পদ্মায় ছেলেকে ভাসিয়ে রেখে চলে গেলেন মা

পদ্মার তীব্র স্রোত আর ঢেউয়ের তোড়ে আস্তে আস্তে ডুবে যাচ্ছিলেন তানজিলা খাতুন। যখন বুঝলেন মৃত্যু নিশ্চিত তখন হয়তো শেষ চেষ্টা হিসেবে শিশুসন্তানকে বাঁচাতে তুলে নিলেন মাথার ওপর।

তাঁর চেষ্টা বৃথা যায়নি। বেঁচে গেছে শিশুটি।

তানজিলার আধডোবা শরীরের ওপর থেকে ভাসমান অবস্থায় তিন বছর বয়সের শিশুটিকে যখন উদ্ধার করা হয় সে সময় তার পা জড়িয়ে যায় মায়ের মাথার চুলে। তাই যাঁরা উদ্ধার করেছেন তাঁদের ধারণা ডুবে যাওয়ার আগে তানজিলা নিজের সন্তানকে মাথায় তুলে নিয়েছিলেন।

শনিবার রাতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের অদূরে পদ্মা নদী থেকে তানজিলা ও তাঁর ছেলেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটির জ্ঞান ফিরে আসে। কিন্তু তানজিলার আর জ্ঞান ফেরেনি।

তানজিলা খাতুন (২৪) নাটোরের লালপুর উপজেলার হবিরচর এলাকার জালেফ উদ্দিনের স্ত্রী।

স্থানীয় লোকজন জানায়, ছেলে তানভীরকে নিয়ে বিয়ের যাত্রীবাহী নৌকায় করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বৈরাগীরচর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষায় গিয়েছিলেন তানজিলা। শনিবার রাত ৮টার দিকে একই নৌকায় বাড়ি ফিরছিলেন। নাটোর ও কুষ্টিয়ার মাঝামাঝি চিলমারী-জোতাশীর এলাকায় আরেকটি নৌকার সঙ্গে ধাক্কা লেগে তাঁদের নৌকাটি ডুবে যায়। অন্য সাত-আটজন যাত্রী বেঁচে গেলেও সন্তানসহ নিখোঁজ হন তানজিলা।

প্রত্যক্ষদর্শী দৌলতপুরের ফিলিপ নগর গ্রামের উজ্জ্বল হোসেন ও ইসলামপুর গ্রামের আক্কাস আলী জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইসলামপুর গ্রামের কাছে অন্য একটি নৌকার যাত্রীরা শিশুটিকে নদীতে ভেসে থাকতে দেখে। আধডোবা মায়ের শরীরের ওপর অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিল শিশুটি। কিন্তু দেখে মনে হচ্ছিল সে জীবিত আছে। মা-ছেলে দুজনকেই অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানায়, তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন কিভাবে এই বয়সের একটি শিশু ভেসে থাকতে পারে। আর তার মা ডুবে না গিয়ে কিভাবে আধডোবা অবস্থায় ভেসে ছিলেন।

লালপুরের বিলমারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান মিন্টু কালের কণ্ঠকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সকালে লোকমুখে খবর পেয়ে তিনি একজন ইউপি সদস্যকে খোঁজ নেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন। গতকাল রবিবার বিকেলে লালপুর উপজেলার নওপাড়া গ্রামের সুলতানপুর কবরস্থানে তানজিলার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।


মন্তব্য