kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাতক্ষীরায় এমপিপুত্র গ্রেপ্তার

আলোচনায় তাঁর নানা ‘কর্ম’

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সাতক্ষীরায় এমপিপুত্র গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরায় সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি রিফাত আমিনের ছেলে রাশেদ সারোয়ার রুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঁদাবাজির দুটি মামলায় গতকাল রবিবার দুপুরে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ের একটি বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চাঁদাবাজি, মারপিট, তরুণীসহ আটক, গণপিটুনিসহ নানা কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত রুমন। এসব কর্মে আগেও কারাবাস করতে হয়েছে তাঁকে। গতকাল গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতের মাধ্যমে ফের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লা বলেন, দুটি মামলার আসামি হিসেবে রুমনকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছিল। গতকাল একটি মাইক্রোবাস নিয়ে যশোরের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন জানতে পেরে চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়। মিজানুর রহমান নামে  এক ব্যক্তির ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও ডিবির যৌথ টিম। যুবলীগ নেতা জুলফিকার আলী উজ্জ্বল ও ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বুলেটের দায়ের করা দুটি চাঁদাবাজির মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছে পাসপোর্ট, ৫০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে।

ছেলের গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ষড়যন্ত্র আখ্যায়িত করে এমপি রিফাত আমিন বলেন, ‘বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়াতেই মোকাবিলা করা হবে। এ নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। ’

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রিফাত আমিনের ছেরে রাশেদ সারোয়ার রুমন সাম্প্রতিক সময়ে নানা ঘটনায় সাতক্ষীরায় সমালোচিত। মা সাতক্ষীরা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং এমপি হওয়ায় রুমন হয়ে ওঠেন বেপরোয়া। মাদক সেবনসহ বখাটেপনার জন্য আগে থেকেই তাঁকে নিয়ে পরিবার সদস্যরা বিব্রত ছিল। বাবা ব্যবসায়ী রুহুল আমিন তাঁকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ফিরেও একই কর্মকাণ্ডে জড়িত হন রুমন। মূলত মায়ের প্রশ্রয়েই রুমন নানা অপকর্মে জড়িয়েছেন বলে অনেকের মত। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে যুবলীগ নেতা উজ্জ্বলসহ চারজনকে তিনি মারধর করেন বলে অভিযোগ মেলে। এরপর রাতেই তিনি ভোমরা এলাকায় গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে আহত হন এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় আত্মগোপনে চলে যান। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি ফেলে তিনি এক তরুণীসহ মাগুরা বউ বাজারে একটি বাগানবাড়িতে অবস্থান করছেন বলে পরদিন জানা যায়। বাগানবাড়িটির মালিক সোনা চোরাচালান মামলায় কারাবন্দি মিলন পাল। বাগানবাড়িতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছে, এমন অভিযোগে এলাকাবাসী সকালেই ঘেরাও করে বাড়িটি। এরপর রুমনকে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে জানায় স্থানীয় লোকজন। বাড়িটি তালাবদ্ধ করে দিলে পরদিন মাকে নিয়ে রুমন হাজির হন সেখানে। তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে থাকা অস্ত্র ও জামাকাপড় নিয়ে যান। ব্যবসায়িক বন্ধু মিলন পালের খামারবাড়ি থেকে ১৩টি গরুসহ ৫০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করার অভিযোগও পাওয়া যায়। সব কিছু মিলিয়ে সাতক্ষীয়ায় সম্প্রতি নানা অঘটনে নাম এসেছে এমপির ছেলের।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গত মে মাসে শ্যামনগরের একটি রিসোর্টে তিন তরুণীসহ ধরা পড়েন রুমন। সেখানে মায়ের ব্যবহৃত জাতীয় সংসদের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছিল। তরুণীদের মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হলেও সে সময় রুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জামিনে বেরিয়ে রুমন ফের একই ধরনের অপরাধে যুক্ত হন। ঈদের আগে তাঁর চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনা সাতক্ষীরায় বিস্তর আলোচনার জন্ম দেয়। এরই একপর্যায়ে গতকাল তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম নুরুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হলে জামিন প্রার্থনা করেন আইনজীবীরা। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।


মন্তব্য