kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কানাডায় প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরতে জনমত তৈরি করুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরতে জনমত তৈরি করুন

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে জনমত তৈরি করতে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কিভাবে একটি সভ্য দেশ অভিযুক্ত খুনিকে আশ্রয় দিতে পারে।

শনিবার রাতে কানাডার সেন্টার মন্ট রয়েলে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের কানাডা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে গতকাল রবিবার রাতেই কানাডা থেকে বিমানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর রওনা দেওয়ার কথা।   

কানাডার অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আপনাদের সামনে এই দাবি রেখে যাচ্ছি, যে দেশে আপনারা বসবাস  করছেন, সেই দেশের জনপ্রতিনিধিদের চিঠি লিখুন এবং এই চেতনা জাগ্রত করুন, কেন এসব দেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে?’ তিনি বলেন, ‘যত দূর আমরা জানি বঙ্গবন্ধুর এক খুনি যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আছে। একজন কানাডায়, দুজন পাকিস্তানে এবং অন্য দুজন কোথায় আছে সন্ধান পাওয়া যায়নি, আমরা তাদের আটকের জন্য খুঁজছি। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সরকারকে বলেছে, কেন তারা খুনিদের লালন করছে এবং আশ্রয় দিচ্ছে। তারা বলেছে কানাডার সংবিধানে উল্লেখ আছে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ থাকলে তাকে তার দেশে ফেরত পাঠাবে না, ‘এটি কী ধরনের কথা’ বলে বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, পিতা হারানোয় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা বাংলাদেশের নাগরিক এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি ভোগ করতে হবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘কেন হত্যাকারীদের রক্ষার চেষ্টা হচ্ছে। কেন এই দেশগুলো হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধে অভিযুক্তদের আশ্রয় দিচ্ছে। যদি এই খুনিরা তাদের দেশের নাগরিক হতো তাহলে সেটি বিষয় হতো। যদি তারা হত্যাকারীদের আশ্রয় দিতে চায় তাহলে সব হত্যাকারী সেই দেশে আশ্রয় চাইবে। তারা কি তাহলে সব খুনিকে আশ্রয় দেবে?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর অর্থ হলো, যে দেশে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিধান নেই, সেই দেশ হত্যাকারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এ জন্য জনমত সৃষ্টিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামনে আমি এই প্রশ্ন রেখে গেলাম। ’ তিনি বলেন, তাঁর সরকার ১৯৯৬ সাল থেকে পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর হওয়া পর্যন্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার বাধার সম্মুখীন হয়েছে এবং স্বাধীনতা যুদ্ধকালে যারা ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে, সেই ঘৃণ্য খুনিদের বিচার বন্ধের জন্য অনেক বড় জায়গা থেকে তিনি টেলিফোন পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি যে আমাদের বিচারব্যবস্থা স্বাধীন এবং এখানে আমাদের দেশের আইন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী রায় কার্যকর হবে। ’

সন্তানরা যাতে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে আরো সতর্ক থাকার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ দমন করে আমরা যখন দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছি তখনই গুলশান ক্যাফেতে হামলার ঘটনা ঘটে। এটা অপ্রত্যাশিত যে এই ঘটনা আমাদের অগ্রগতিকে থমকে দিয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে এ ধরনের কিছু ঘটনা ঘটেছে, বাংলাদেশ এর বাইরে ছিল, তবে গুলশান হামলা বিনিয়োগের পাশাপাশি আমাদের উন্নয়নপ্রচেষ্টা থমকে দিয়েছে। ’

২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগ কানাডা শাখার সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ মাহমুদ মিয়ার সভাপতিত্বে ও  সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রিন্সের পরিচালনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক এবং আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

ভয়ংকর তিনটি রোগ প্রতিরোধে গ্লোবাল ফান্ড এক হাজার ৩০০ কোটি ডলার পাচ্ছে : বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর তিনটি রোগ এইডস, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে গ্লোবাল ফান্ডকে বিশ্ব নেতাদের এক হাজার ৩০০ (১৩ বিলিয়ন) কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শনিবার শেষ হয়েছে ফিফথ রিপ্লেনিশমেন্ট কনফারেন্স অব দ্য গ্লোবাল ফান্ড (জিএফ)।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে যোগদান করেন।

কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমন্ত্রণে গ্লোবাল ফান্ড (জিএফ) সম্মেলনে অংশ নিতে কানাডায় চার দিনের সরকারি সফর শেষে গতকাল জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটে মন্ট্রিয়লের পিয়েরে ইলিয়ট ট্রুডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। নিউ ইয়র্ক সময় বিকেল ৩টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) লা গুয়ার্দিয়া বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন। বিমানবন্দর থেকে বর্ণাঢ্য মোটর শোভাযাত্রা সহযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালীন আবাসস্থল নিউ ইয়র্কের হোটেল ওয়াল্ডোর্ফ অস্টোরিয়াতে নিয়ে যাওয়া হবে। ২৬ সেপ্টেম্বর দুবাই হয়ে বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৫টার দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য