kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অপমানে ধর্ষিতার আত্মহত্যা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অপমানে ধর্ষিতার আত্মহত্যা

ধর্ষক পলাশ সরকার

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ধর্ষণের শিকার এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। তার নাম সীমা সরকার (১৫), বাড়ি উপজেলার সাদুল্যাপুর ইউনিয়নের পিড়ার বাড়ি গ্রামে।

এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে স্থানীয়রা অভিযুক্ত পলাশ সরকারকে (৪০) ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

পলাশ ও সীমা চাচাতো ভাইবোন। পাশাপাশি ঘর তাদের। বাড়ির পাশেই পলাশের একটি মুরগির খামার রয়েছে। সীমার মা লিপিকা সরকার

 জানান, গত বুধবার পলাশ তার খামারে নিয়ে সীমাকে ধর্ষণ করে। এ সময় স্থানীয়রা পলাশকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ নিয়ে পরদিন রাতে বাড়ির লোকজন পারিবারিকভাবে সালিস করে। মুরব্বিরা পলাশকে গালাগাল করে এবং জরিমানা করেন। কিন্তু জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পলাশ ও তার বড় ভাই লিটন সরকার সালিস থেকে উঠে যায়।

সীমার বৌদি ভক্তি সরকার জানান, গত শনিবার দুপুরে বিশ্বকর্মা পূজা ছিল। বাড়ির সবাই পূজা নিয়ে ব্যস্ত ছিল। এই ফাঁকে পলাশ ঘরে ঢুকে ফের সীমাকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে লোকজন এসে পড়লে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন স্থানীয়রা তাকে ধরে সেই খামারে আটকে রাখে। সবাই যখন পলাশকে নিয়ে ব্যস্ত ছিল তখন সীমা তার ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয়। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টায় সীমা মারা যায়।

স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে বিকেলের দিকে কোটালীপাড়া থানার পুলিশ এসে পলাশকে আটক করে নিয়ে যায়। সীমার মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মাধব সরকার বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলায় পলাশ ও তার বড় ভাই লিটন সরকারকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় গতকাল রবিবার দুপুরে পলাশকে কোটালীপাড়া আমলি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সীমার মা বলেন, ‘অর্থের অভাবে মেয়েকে পড়াতে পারিনি। পলাশের জন্যই মেয়েটিকে এভাবে মরতে হলো। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। যাতে এভাবে আর কোনো নিরীহ মেয়েকে জীবন দিতে না হয়। ’

সাদুল্যাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শান্তি রঞ্জন মল্লিক বলেন, এ ধরনের কাজ করা পলাশের ঠিক হয়নি। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

পলাশ বিবাহিত, তার চারটি সন্তান রয়েছে। আটকের পর সে দাবি করে, প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে সীমার সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক ছিল। এত দিন বিষয়টি গোপন ছিল। গত বুধবার জানাজানি হয়ে যায়। এ নিয়ে সালিস বৈঠকে তাকে ও সীমাকে অপমানিত করা হয়। এ ঘটনায় লোকলজ্জায় সীমা আত্মহত্যা করেছে।

গোপালগঞ্জের এএসপি মো. আমীনুল ইসলাম বলেন, মামলা হয়েছে, পলাশকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছ। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে।

 


মন্তব্য