kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাকিবকে নামিয়ে ফেরার পথে কপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সাকিবকে নামিয়ে ফেরার পথে কপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ১

ক্রিকেটার সাকিবকে কক্সবাজারের উখিয়ায় নামিয়ে ফেরার পথে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারে গতকাল শুক্রবার সকালে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পাইলটসহ আরো চারজন।

নিহত শাহ আলমের (৩২) বাড়ি সাতক্ষীরায়। তিনি ঢাকার মহাখালী এলাকায় ‘ঈগল ভি’ নামে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় চাকরি করেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে উখিয়ার কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের সোনারপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারটি মেঘনা গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান মেঘনা এভিয়েশনের মালিকানাধীন।

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে কক্সবাজারের উখিয়ায় নামিয়ে দিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফেরদৌস আলী জানান, মেঘনা এভিয়েশনের একটি হেলিকপ্টার শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে উখিয়ার বেওয়াচ রিসোর্ট হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। সাকিব ইনানির রয়েল টিউলিপের অতিথি। তাঁকে নামিয়ে দিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চারজন যাত্রী নিয়ে হেলিকপ্টারটি পুনরায় ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সময় ইনানির রেজুখালসংলগ্ন সৈকতে বিধ্বস্ত হয়। এতে মো. শাহ আলম নামে এক যাত্রী নিহত হন। আহত হন পাইলট শফিকুল ইসলাম, যাত্রী শরিফুল ইসলাম (৪৫) ও তাঁর দুই ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রী শাহ আলম ও আহত শরিফুল ইসলাম ঢাকার মহাখালী এলাকার ‘ঈগল ভি’ নামের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় চাকরি করেন। হেলিকপ্টারের পাইলট শফিকুল ইসলাম, যাত্রী শরিফুল ইসলাম ও তাঁর দুই ছেলে সামান্য আঘাত পেয়েছেন। ঘটনার পরপরই আহত শরিফুল তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। নিহত শাহ আলমের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে।

জানা গেছে, ঈদুল আজহার পরের দিন কক্সবাজার আসেন ‘ঈগল ভি’ নামের ওই বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়ে নিহতের লাশ শনাক্ত করেন তিনি। হাসপাতালে সংবাদকর্মীদের তিনি বলেন, নিহত মো. শাহ আলম এবং আহত শরিফুল ইসলাম ওই সংস্থায় চাকরি করেন। তাঁরাও ঈদের পরের দিন কক্সবাজার এসেছিলেন। শহরের কলাতলী এলাকায় একটি হোটেলে উঠেছিলেন তাঁরা। হেলিকপ্টারে ফেরার পথে ওই দুই কর্মী ও একজনের দুই সন্তান দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।

বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি আরো জানান, ক্রিকেটার সাকিব তাঁদের কম্পানির দুটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে অংশ নিতে হেলিকপ্টারে কক্সবাজার আসেন। ফেরার পথে যাত্রী না থাকায় মো. শাহ আলম এবং শরিফুল ইসলাম ও তাঁর দুই ছেলে ওই হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় ফিরছিলেন।

এদিকে দুর্ঘটনার পর মেঘনা গ্রুপের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম ওই হেলিকপ্টারের পাইলট শফিকুল ইসলামের বরাত দিয়ে বলেন, ‘হেলিকপ্টারে পাইলটের পাশে বসেছিলেন মো. শাহ আলম। উড্ডয়নের পরপরই তিনি (শাহ আলম) হেলিকপ্টারের জানালা খুলে মোবাইলে ভিডিও করতে শুরু করেন। এ সময় তাঁকে পাইলট বারবার নিষেধ করলেও তিনি থামেননি। পরে ইনানি সমুদ্রসৈকতে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। নিহত শাহ আলমের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে পাইলট দাবি করেছেন। ’

হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় রেজু খালে অনেক জেলে মাছ ধরছিলেন। তাঁদের মধ্যে জেলে মনজুর আলমসহ আরো কয়েকজন এগিয়ে গিয়েছিলেন উদ্ধারে। দুর্ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী রেজু ব্রিজের পাশে থাকা বিজিবি-৩৪ ব্যাটালিয়নের তল্লাশি চৌকির সদস্যরাও দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে যান। তাঁরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হেলিকপ্টারটি ঝাউ বাগানের ওপর চক্কর দিতে থাকে। এর পরপরই রেজুখালের মোহনায় এটি বিধ্বস্ত হয়। তাঁরা এ সময় এগিয়ে গিয়ে পাঁচজনকে হেলিকপ্টারের ভেতর থেকে বের করে আনেন। এর মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়া আহত একজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সকাল ১০টায় হাসপাতালে পৌঁছলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. রফিকুল ইসলাম তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, কপালের দুই পাশে মারাত্মক আঘাতের কারণে লোকটির দুই কান দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পরে শনাক্ত করা হয় তিনি শাহ আলম।

উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্তের কারণ এখনো জানা যায়নি। তদন্তের পর বেরিয়ে আসবে ঠিক কী ঘটেছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হেলিকপ্টারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।


মন্তব্য