kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নব্য জেএমবিতে মিলেছে তিন ধারার জঙ্গিরা

এস এম আজাদ   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নব্য জেএমবিতে মিলেছে তিন ধারার জঙ্গিরা

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ‘ধীরে চলো’ নীতি থেকে বেরিয়ে সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে যারা কথিত খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারাই ‘নব্য জেএমবি’ নামে সংগঠিত। এই মতাদর্শের জঙ্গিরা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কর্মকাণ্ড অনুসরণ করছে।

আইএসের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রও তৈরি করতে চাইছে তারা। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম আহমেদ চৌধুরী তিন বছর আগে দেশে আসার পর থেকেই নব্য জেএমবির কর্মকাণ্ড শুরু। প্রায় একই সময়ে ভারতে পালিয়ে থাকা পুরনো জেএমবির কিছু সদস্যও সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। তাদের সবাই তখন নব্য জেএমবিতে যোগ না দিলেও সামপ্রতিক কর্মকাণ্ডের কারণে মত-পার্থক্য ভুলে কয়েকজন নেতা পরে যোগ দিয়েছে। তাই ধারাবাহিক হত্যায় জড়িত জেএমবির বেশ কিছু সদস্য গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত হলেও কার্যক্রম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। নব্য জেএমবির কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তে নিয়োজিত পুলিশ ও র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, যে তিনটি ধারার জঙ্গিরা মিলে নব্য জেএমবির কার্যক্রম চালাচ্ছে তাদের একটি অংশ এসেছে সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে। আরেকটি অংশ এসেছে পুরনো জেএমবি থেকে। তৃতীয় অংশটিতে আছে বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু এলাকায় অবিচ্ছেদ্যভাবে কর্মকাণ্ড চালিয়ে কথিত খেলাফত প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী জঙ্গিরা। তারা সম্প্রতি ‘দাওলাতুল ইসলাম’ নামও ব্যবহার করেছে। প্রথম ধারাটির প্রধান ছিল তামিম চৌধুরী। গুলশান ও কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গিদের কয়েকজন এবং পলাতক কিছু জঙ্গিও দেশের বাইরে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছে বলে তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। ওই জঙ্গিরা শিক্ষত এবং প্রযুক্তিতে পারদর্শী। কয়েকটি নিষিদ্ধ অ্যাপসে তারা যোগাযোগ করার কৌশল শেখায়। তারা দেশে ফিরে অন্যদের অনুপ্রাণিত করে এবং অর্থ সহায়তা দেয়। পুরনো জেএমবি থেকে আসা জঙ্গিরা সদস্য সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণের এলাকা ঠিক করে।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনায় আটক হওয়ার পর ময়মনসিংহে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত জঙ্গি শফিউল ইসলাম ডন, দিনাজপুর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সাহাবুদ্দিন শিহাব রকি এবং কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার রাকিবুল হাসান রিগ্যানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা। রিগ্যানকে আদালতের নির্দেশে সাত দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা।

সূত্র মতে, পুরনো জেএমবির শুরা সদস্য মাহফুজ সোহেল ওরফে হাতকাটা সোহেল ওরফে নাসিরুদ্দিন ওরফে ভাগিনা সোহেল দীর্ঘদিন ভারতে পালিয়ে থাকলেও গুলশানে হামলার কয়েক মাস আগে দেশে আসে। নব্য জেএমবিতে যোগ দেওয়া সোহেলই গুলশানে হামলার জন্য বোমা সরবরাহ করে। ত্রিশালে জঙ্গি ছিনতাইয়ের অন্যতম সংগঠক সোহেল বর্তমানে ঢাকায় আছে বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। সর্বশেষ শেওড়াপাড়ায় একটি বাসার সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে কিছুদিন আগেও ছিল সে। পুলিশের ধারাবাহিক তদন্তে এরই মধ্যে ঢাকায় এক ডজন বাসায় নব্য জেএমবির আস্তানার সন্ধান মিলেছে। জঙ্গিরা নকল জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিয়ে ওই সব বাসা ভাড়া নেয়। কল্যাণপুরের জাহাজবাড়ী, পাশের আনোয়ারা মঞ্জিল, রূপনগরে মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামের বাসা, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় অভিযান চালিয়ে এ তথ্য পান গোয়েন্দারা।

সিটিটিসি ইউনিটের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, গুলশানে হামলার আগে ও পরে নব্য জেএমবি সম্পর্কে প্রায় সব তথ্য পেয়েছেন তাঁরা। প্রাথমিক তদন্তেই শনাক্ত করা হয়েছে তামিম চৌধুরী, নূরুল ইসলাম মারজান, মেজর মুরাদ ওরফে জাহাঙ্গীর নামে পরিচিত মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম খালেদ, মামুনুর রশিদ রিপনসহ এক ডজন জঙ্গিকে। তবে তদন্তের একপর্যায়ে জানা গেছে, ভারতে পালিয়ে থাকা শীর্ষ জঙ্গিরাও মিলেছে নব্য জেএমবিতে। বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন নাম।

জানতে চাইলে ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা তদন্ত করে অনেক কিছু পেয়ে গেছি। তার ফল কিছুটা দৃশ্যমান। অভিযানের সময় কয়েকজন মাস্টারমাইন্ড মারা গেছে। অনেক আলামত মিলেছে। আমরা এখন পুরো চেইনটার ব্যাপারে তদন্ত করছি। এরই মধ্যে ঢাকায় কয়েকটি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘নব্য জেএমবি শেষ হয়ে যাচ্ছে, তা বলব না। তবে তাদের কারণে যে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা শেষ করতে সক্ষম হয়েছি আমরা। এখন তদন্তের মাধ্যমে এগোচ্ছি। ’

দেশে-বিদেশে সক্রিয় দুই ডজনেরও বেশি নেতা :  গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গুলশানে হামলার আগে ও পরে সংগঠক তামিমসহ ২৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে এখনো দেশে-বিদেশে সক্রিয় আছে দুই ডজনেরও বেশি জঙ্গি নেতা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নূরুল ইসলাম মারজান, ওয়াসিম আজওয়াদ আব্দুল্লাহ ওরফে আসিফ আজওয়াদ, খেলাফত নেতা আবু ইউসুফ মোহাম্মদ বাঙালি, আবুল কাশেম ওরফে বড় হুজুর, রাজীব গান্ধী ওরফে রাজীব ওরফে শুভাস ওরফে জাহাঙ্গীর, উত্তরাঞ্চলের মামুনুর রশিদ রিপন, শরিফুল ইসলাম খালিদ, কমান্ডার মানিক, ইকবাল, মামুন, জুনায়েদ হাসান খান, সাকিব ওরফে মাস্টার, বাদল, সাগর, আকাশ, আজাদুল ওরফে কবিরাজ এবং ‘চকোলেট’ ছদ্মনামের একজন।

ভারতে থাকা জঙ্গিরা এখন নব্য জেএমবিতে : সূত্র মতে, ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বছরেরই ২৩ ফেব্রুয়ারি ত্রিশালে জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ নেতা সালেহ উদ্দিন ওরফে সালাউদ্দিন ও জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজানকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যারা পরে ভারতে চলে যায়। এসব ঘটনা তদন্তে পশ্চিমবঙ্গে জেএমবি জঙ্গিদের তত্পরতার তথ্য উঠে আসে। বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনায় চার বাংলাদেশিসহ ২১ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় এনআইএ। অভিযুক্তরা হলো তালহা শেখ, কাওসার, নাসিরউল্লাহ ওরফে শাহাদত শেখ ওরফে সোহেল মাহফুজ ও শেখ রহমতুল্লাহ ওরফে সাজিদ। এরপর এনআইএ বাংলাদেশকে ১০ জঙ্গির নামের তালিকা দিয়ে নিশ্চিত করেছে কাউসার, তালহা শেখ ও হাতকাটা মাহফুজের বাড়ি বাংলাদেশে। ধারাবাহিক ওই তদন্তের সূত্রে খবর মিলেছে, বাংলাদেশের পুরনো জেএমবির কয়েকজন জঙ্গি নব্য জেএমবিতে যোগ দিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে মাহফুজ ও আবু ইউসুফ বাংলাদেশে এসেছে। ভারতে পালিয়ে গেছে রিপন, খালেদ, জুনায়েদসহ কয়েকজন। এ ছাড়া দুর্ধর্ষ জঙ্গি বোমা মিজান ও সালেহউদ্দিন ওরফে সালাউদ্দিন নব্য জেএমবিতে সক্রিয় হয়েছে।

সিটিটিসি ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানান, দুই বছর আগে তামিমের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর জেএমবির প্রতিষ্ঠাকালীন শুরা সদস্য মাহফুজ নব্য জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হয়। মাহফুজ গুলশানে হামলার অপারেশনাল কমান্ডার নুরুল ইসলাম মারজানের নিকটাত্মীয়। বোমা তৈরির সময় তার এক হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক হাতেই সে অস্ত্র চালনা করতে পারে।

সূত্র মতে, জোট সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও নদিয়া জেলা নিয়ে গঠিত হয়েছিল জেএমবির বৈদেশিক শাখা। ওই তিন জেলায় জেএমবির শতাধিক এহসার সদস্যের নেতৃত্ব দিচ্ছিল সোহেল মাহফুজ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ে এসে গোপনে সভা করত সে। তবে গুলশানে হামলার আগে তার ঢাকায় আসার খবর ছিল না তদন্তকারীদের কাছে। সিটিটিসি ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় আমরা অভিযান চালিয়েছি, যেখানে মাহফুজ ছিল। সে ঢাকা ছেড়ে পালিয়েছে—এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। কয়েক মাস আগে সে দেশে আসে বলে তথ্য মিলেছে। ’

এদিকে গত ৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান স্টেশন থেকে মূসা নামের এক জঙ্গিকে আটক করে ভারতের সিআইডি। সূত্র মতে, জিহাদি জন ওরফে আবু সুলেমান নামের এক বাংলাদেশি তাকে আইএসের হয়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে বলে দাবি করে মূসা। ওই সুলেমানের কথামতো দেহরক্ষীসহ কলকাতার এক প্রোমোটারকে বীরভূমের লাভপুরে তার বাগানবাড়িতে গলা কেটে খুন এবং পরিচারিকাকে ধর্ষণ করার ভিডিও ধারণ করেছিল মুসা। গত ১৫ আগস্ট বাংলাদেশ পুলিশের তিন সদস্যের একটি দল ভারতে তদন্তে যায়। ওই সময় তাঁরা নিশ্চিত হন, আবু সুলেমানই নব্য জেএমবির সদস্য শরীফুল ইসলাম খালেদ, যাকে তাঁরা খুজছিলেন। রাজশাহীর অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যার আসামি এই খালেদ। নব্য জেএমবির আরেক জঙ্গি রিপনও ভারতে আছে।

এনআইএ বাংলাদেশকে যে ১০ জঙ্গির তালিকা দিয়েছে, তাতে দ্বিতীয় নামটি ছিল মাওলানা ইউসুফ শেখ ওরফে বক্কর ওরফে মোহাম্মদ ইউসুফ। সূত্র জানায়, সমপ্রতি নব্য জেএমবির ‘বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় খেলাফত’ প্রতিষ্ঠার নেতা হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে সেই আবু ইউসুফ ওরফে মোহাম্মদ ইউসুফ ওরফে বাঙালিই এনআইয়ের তালিকাভুক্ত ব্যক্তি। গত ১০ আগস্ট ঢাকা থেকে ছয় জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব, যারা ‘দাওলাতুল ইসলাম’ নাম ব্যবহার করে আইএস প্রতিষ্ঠা করতে চাইছিল। তারা নেতা হিসেবে ইউসুফের নাম জানায়।

যেভাবে শুরু : সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান, অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম সমপ্রতি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নব্য জেএমবি হচ্ছে জেএমবির একটি নতুন ফর্ম, যারা সাইদুরের নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ড না মেনে অতিমাত্রায় জিহাদি বা সশস্ত্র হয়ে উঠেছে। তবে দুই পক্ষই সালাফিস্ট। উভয় পক্ষই শায়খ আবদুর রহমানকে আদর্শ মানে। ’

সিটিটিসি ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা জেএমবির প্রধান শায়খ আবদুর রহমানসহ শীর্ষস্থানীয় ছয় জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর মাওলানা সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে জেএমবি পুনর্গঠন করা হয়। ২০০৯ সালে রাজধানীর জুরাইনে সাইদুরকে গ্রেপ্তার করা হলে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে জেএমবি। এরপর সংগঠনের দায়িত্ব নেয় তাসনিম ওরফে তালহা। দুই বছর আগে তাসনিমকে গ্রেপ্তার করার পর দায়িত্ব পায় সাইদুরের ছেলে সায়েম ওরফে ফাহিম। পুলিশ পরে তাকেও গ্রেপ্তার করলে ফারুক নামের একজন জেএমবির এই অংশের নেতৃত্বে আসে। এরই মধ্যে ভারতে পালিয়ে যায় জেএমবির শীর্ষ কয়েকজন, যারা সাইদুরের নেতৃত্বে বিশ্বাসী নয়।

সিটিটিসি ইউনিট সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে জেএমবির এই অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি দল ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা করে জেএমবির তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয়। পুরনো জেএমবির ওই দলের অর্থের জোগান দিতে কয়েকজন জমি ব্যবসা, গার্মেন্ট ব্যবসা, মধু বিক্রিসহ নানা কাজ করে। একপর্যায়ে কয়েকজন ধরা পড়লে তারা আর্থিক সংকটে পড়ে যায়। তখন কৌশল বদল করে। বড় হামলা না করে তাদের ভাষায়, ‘ইসলামবিরোধী কাজ যারা করছে’ তাদের হত্যা করার ছক কষে জেএমবির ওই সদস্যরা। এরপর মাজারের পীরসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের খুন করে তারা।

সূত্র মতে, ২০১৩ সালেই একটি পক্ষ আইএস মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশে বড় ধরনের হামলার ছক কষে। ওই সময়েই দেশে আসে তামিম চৌধুরী। সে সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে খেলাফতে বিশ্বাসী জেএমবির সদস্যদের খুঁজে বের করে উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করে। ওই সময় নাশকতায় বিশ্বাসীরা তামিমসহ কয়েকজনের মাধ্যমে অর্থের সরবরাহ পেতে থাকে। এরপর শুরু হয় প্রশিক্ষণ পর্ব। প্রথমদিকে বগুড়া ও গাইবান্ধায় জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় দিনাজপুর, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও ঢাকায়। ত্রিশালে জঙ্গি ছিনতাই ও আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতি ছাড়াও তারা গোপীবাগে ছয় খুন, পুরান ঢাকায় হোসেনী দালানে হামলা, রংপুরে জাপানি হত্যা, বগুড়ায় শিয়া মসজিদে হামলা, গুলশানে হামলা, শোলাকিয়ায় হামলা, গাবতলীতে পুলিশ হত্যা, আশুলিয়ায় শিল্প পুলিশ হত্যা এবং বাড্ডায় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খান হত্যাসহ বেশ কিছু ঘটনা ঘটায়।

আছে জামায়াতও : গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর জেলা (দক্ষিণ) জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে উত্তরাঞ্চলে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পগুলো চালানো হয়। সামপ্রতিক ঘটনায় জড়িত তিন জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ইংরেজি শেখানো হচ্ছে তাত্ত্বিক গুরুকে : উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা মাওলানা কাশেমকে তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে মানে নব্য জেএমবির সদস্যরা। তাকে বলা হয় বড় হুজুর। পুরনো জেএমবির সদস্য হলেও নব্য জেএমবির কথিত জিহাদ সমর্থন করে সে তামিমের সঙ্গে হাত মেলায়। দাবিকসহ জঙ্গিবাদ বিষয়ক বিভিন্ন প্রচারপত্রের আরবি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছে সে। সূত্র মতে, ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও আলোচনার জন্য কাশেমকে দক্ষ করে তুলতে ইংরেজি শেখানো হচ্ছে। নব্য জেএমবির ইংরেজি ভাষায় পারদর্শীরা মাওলানা কাশেমকে কোচিং করায়। তার সর্বশেষ অবস্থান ছিল দিনাজপুরে।


মন্তব্য