kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাসপাতালে কাতরাচ্ছে ৩৫ জন

তৌফিক মারুফ   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হাসপাতালে কাতরাচ্ছে ৩৫ জন

হাত-পা ও মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা তাঁর। ওই অবস্থায় অ্যাম্বুল্যান্স থেকে ট্রলিতে করে নামানো হলো, নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণ কক্ষে।

পেছনে উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটছিলেন তাঁর স্ত্রী। তাঁর কাছেই জানা গেল, টঙ্গীতে বয়লার বিস্ফোরণে আহত ওই শ্রমিকের নাম ওয়াহেদ হাসান স্বপন।

ততক্ষণে স্বপনকে পর্যবেক্ষণ কক্ষের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর স্ত্রী ইতি ভেতরে ঢোকার সাহস পাচ্ছিলেন না। ওই কক্ষের দরজার সামনে দাঁড়ানো আনসার সদস্যের কাছে জানতে চাইলেন, ‘ভাই, আমি এহনে কী করুম, উনি কী বাইচ্চা আছেন?’ আর কিছু বলতে পারলেন না, হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। এ সময় কেউ একজন দরজা খুলে পর্যবেক্ষণ কক্ষের ভেতরে ঢুকল, ইতিও দৌড়ে গেলেন ভেতরে।

ইতির ছোট ভাই সোহাগ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুলাভাইয়ের (স্বপন) এই অবস্থা দেইখ্যা আমার আপু পাগল অইয়া গ্যাছে। এহন আমি কেমনে সামলামু? আমাগো কাছে এহন আর ঈদ বইল্যা কিছু নাই। ’

গতকাল শনিবার ভোরে টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে স্বপনের মতো আহত ২৩ জনকে নিয়ে আসা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। নিহত কয়েকজনের লাশও আনা হয় এ হাসপাতালে। এ সময় হতাহতদের স্বজনদের আহাজারিতে শোকাতুর পরিবেশ সৃষ্টি হয় পুরো এলাকায়।  

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে মজিবুর রহমান নামের একজন জানান, বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় তাঁর ছোট বোনের স্বামী আনোয়ার হোসেন মারা গেছেন। তাঁর বোনের ছোট দুটি সন্তান রয়েছে। মজিবুর বলেন, ‘আমার বোনটি বিধবা হয়ে গেল, ভাগ্নি দুটি এতিম হলো। অথচ ঈদে বাড়ি যাবে বলে শুক্রবার রাতেও ওরা কত খুশিই না ছিল। ’

হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আহতদের মধ্যে দিপন দাস, দিলীপ দাস ও রাসেল দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল কালের কণ্ঠকে জানান, দিপনের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকি দুজনের অবস্থা তেমন গুরুতর নয়। তাঁদের পোড়া খুবই সামান্য। তাঁরা আশঙ্কামুক্তই বলা যায়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুপুর ১২টা পর্যন্ত আমাদের এখানে আহত ২৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া তিনজনের মরদেহও আনা হয়েছে। আহতের মধ্যে একজন হাসপাতালে আসার পর মারা গেছে। এখন চিকিৎসাধীন আছে ২২ জন। তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিতের চেষ্টা করছি। ’

গতকাল সকাল ১০টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি এ সময় কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।


মন্তব্য