kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

পবিত্র হজ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পবিত্র হজ আজ

পবিত্র হজ আজ রবিবার। প্রতিবছরের মতো আরবি মাস জিলহজের ৯ তারিখের এই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কণ্ঠে ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক...’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠবে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দান।

তালবিয়া পাঠ করে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে পাপমুক্তির আশায় হাজিরা আজ ভোরে মিনা থেকে রওনা দিয়ে ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের মদানে জমায়েত হবেন। সেলাইবিহীন সাদা কাপড়ের এহরাম বাঁধা হাজিরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাঁবুতে বসে, পাহাড়ের কাছে বা সুবিধাজনক জায়গায় বসে ইবাদত করবেন। দুপুরে মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা দেবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমাম।

সৌদি গেজেট পত্রিকা সূত্রে গতকাল শনিবার জানা যায়, গ্র্যান্ড মুফতি ও ইমামুল হজ মুফতি আবদুল আজিজ আল শাইখ স্বাস্থ্যগত কারণে অপারগতা প্রকাশ করায় তাঁর পরিবর্তে গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম ও কমিশন সদস্য মুফতি শেখ সালেহ  বিন হুমাইদ এবার হজের খুতবা পাঠ করতে পারেন।

আজ আরাফাতের ময়দানে এই খুতবার পর এক আজানে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন হাজিরা। তাঁরা সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে পৌঁছে আবারও এক আজানে আদায় করবেন মাগরিব ও এশার নামাজ। রাতে সেখানে অবস্থান করবেন খোলা মাঠে। শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকে।

গত বছরের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে এবার হজের কার্যক্রম সম্পাদনে সৌদি কর্তৃপক্ষ কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করছে। হজের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সাড়ে চার হাজার স্কাউট সদস্য নিযুক্ত করা হয়েছে। হাজিদের দেওয়া হয়েছে পরিচয় শনাক্তকারী ব্রেসলেট। বিশেষ করে দুর্ঘটনা এড়াতে এবার মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময় আগে থেকেই নির্ধারণ করে দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। মোয়াল্লেম নম্বর অনুযায়ী হাজিদের ভাগ ভাগ করে সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সৌদি আরবের বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এবার ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্য দিয়ে ১৫০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা প্রায় ১৫ লাখ মুসলমান হজের বিশ্ব মুসলিম সম্মিলনে উপস্থিত হয়েছেন। তবে শিয়া অধ্যুষিত ইরান ও সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার কারণে হাজার হাজার ইরানি এবার হজে অংশ নিতে পারছেন না।

এবার অংশগ্রহণকারী হাজিদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা এক লাখ এক হাজার ৮২৯। এর মধ্যে গত ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

আজ মুজদালিফায় রাত্রিযাপন শেষে সোমবার সকালে ফজরের নামাজ শেষে আবার ফিরে যাবেন মিনায়। সেখানে জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর (পুরুষরা) মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম খুলে ফেলবেন হাজিরা। এরপর মক্কায় পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ তথা তাওয়াফে জিয়ারা করবেন। এর মাধ্যমে তাঁরা হজের মূল কার্যক্রম শেষ করবেন।

 সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, হাজিদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য এবার মক্কায় আটটি হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধসামগ্রী ও সাপোর্টিং রসদপত্র মজুদ রয়েছে। এ ছাড়া মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় ২৫টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। আজ আরাফাতের ময়দানে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার দিন হাজিদের পিপাসা মেটাতে ১৫ লাখ গ্যালন জমজমের পানি মজুদ রাখা হয়েছে।


মন্তব্য