kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

মসলার বাজার চড়া

আরিফুর রহমান   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মসলার বাজার চড়া

ঈদুল আজহা সামনে রেখে অস্থির হয়ে উঠেছে মসলার বাজার। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর শেওড়াপাড়া বাজারে খুচরা দোকান নূর স্টোরে আদা, জিরা, এলাচ ও দারচিনি কিনতে গিয়েছিলেন এক বৃদ্ধ।

মসলার দাম শুনে আকাশ থেকে পড়ার মতো অবস্থা হয় ওই বৃদ্ধের। তাঁর চেহারা দেখে বোঝা গেল, দাম শুনে তিনি বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। এক মাস আগেও যে দেশি আদা বিক্রি হতো প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, গতকাল সেই আদার দাম চাওয়া হয় ১৫০ টাকা। চীনা আদারও প্রায় একই দাম। ১০০ গ্রাম দারচিনির দাম বেড়ে ৪৫ টাকায় ঠেকেছে। এক প্রকার  রেগে গিয়ে দোকানির কাছে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চান বয়স্ক ওই ক্রেতা। কিন্তু দোকানি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

শেওড়াপাড়া বাজারে কয়েকটি খুচরা দোকান ঘুরে দেখা গেল, পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে আদা, রসুন, জিরা, এলাচসহ মাংস রান্না করতে প্রয়োজনীয় প্রায় সব মসলার দাম। কাঁচাবাজারে টমেটো, কাঁচা মরিচ ও শসার দামও এখন চড়া। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকায় আর শসা ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। মসলা, সবজি ও সালাতের উপকরণের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা স্বীকার করেন, ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ানোর কারণে তাঁদেরও বাড়াতে হচ্ছে। এক প্রকার সিন্ডিকেট করেই এ দাম বাড়ানো হয়েছে। কয়েকজন ক্রেতা জানায়, ঈদ এলেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে মুনাফা বাড়ানোর মানসিকতা তৈরি হয়।

দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, জিরা, এলাচসহ মসলার দাম বেজায় চড়া। পাইকারি বাজারে গরম মসলার দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। গতকাল কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি জিরা মানভেদে বিক্রি হয়েছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকায়। ১০০ গ্রাম জিরা বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। এক মাস আগেও প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকার মধ্যে। বেড়েছে এলাচের দামও। আগে যেখানে প্রতি কেজি এলাচ ছিল সাড়ে ৯০০ টাকা, গতকাল সেটি এক লাফে বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৮০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। কিশমিশ ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা, কালো জিরা ১০০ গ্রাম ৩০ টাকা, গোলমরিচ ১০০ গ্রাম ১২০ টাকা, দারচিনি ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা, গোলমরিচ প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা, লবঙ্গ ৯৫০ টাকা, তেজপাতা ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের পাইকারি দোকান সোহাগ জেনারেলের স্বত্বাধিকারী আবদুল কাদের হাওলাদার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। শুধু বলেন, বাজারে সরবরাহ কম, তাই দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে যোগ করে বলেন, ঈদ এলে তো দাম একটু বাড়েই।

প্রতিবছর ঈদুল আজহার আগে বেড়ে যায় মসলার দাম। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময়ে মসলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে এর সুযোগ নেন ব্যবসায়ীরা। কারওয়ান বাজারে গতকাল সাইফুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দাম যে বাড়ছে তার জন্য কোনো নজরদারি দেখছি না। প্রশাসনের চোখের সামনে দাম বাড়ানো হচ্ছে, অথচ দেখার কেউ নেই। ’ সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, এক মাসের ব্যবধানে আদার দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশের মতো। আর এলাচের দাম বেড়েছে ১২ শতাংশের মতো।

কারওয়ান বাজারের ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, গরম মসলার দাম বেড়েছে। তবে অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল। আর মদিনা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী স্বীকার করেন, ঈদ সামনে রেখে দেশি ও বিদেশি আদার দাম বেড়েছে।

গতকাল শেওয়াপাড়া, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি রসুন এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। গত ঈদুল ফিতরের সময়ও রসুনের দাম ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। পোলাওয়ের চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়, আর ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫ টাকায়। প্রতি কেজি ব্রয়লার কারওয়ান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়। আর শেওয়াপাড়ায় প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।

কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেল, মসলার দোকানগুলোতেই ভিড় বেশি। পাশাপাশি গরু জবাই ও মাংস কাটার অন্যতম সরঞ্জাম দা, ছুরির দোকানেও ভিড় দেখা গেছে। মাংস কাটা ও চামড়া ছাড়ানোর জন্য গতকাল অনেকে চাপাতি, ছুরি, বঁটিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কিনেছে।

এদিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারেও গরম মসলার দাম বেড়েছে। ভারতীয় জিরা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকায়। প্রতি কেজি কালো জিরা ৮৬০ থেকে ৮৮০ টাকা, এলাচ ৮৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এলাচের দাম ছিল ৮০০ টাকার ঘরে। খাতুনগঞ্জে এক সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের দাম বেড়ে ১৭০ টাকা হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল ১৪০ টাকা। অবশ্য বাংলাদেশ গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বলছেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে বেশি করে সরবরাহ করতে হচ্ছে। কখনো কখনো বেশি দামে পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে। এ ছাড়া ভারতের বাজারে মসলার দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় বাজারেও বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ী নেতারা।


মন্তব্য