kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অস্বস্তি মহাসড়কে স্বস্তি রেলপথে

দিনভর পথে পথে তৎপর সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অস্বস্তি মহাসড়কে স্বস্তি রেলপথে

ঈদে বাড়ি ফিরতেই হবে। তাই তো ট্রেনের ইঞ্জিনেও ঝুলছে ঘরমুখো মানুষ। ছবিটি গতকাল টঙ্গী থেকে তোলা। ছবি : শেখ হাসান

রাজধানীর বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, সদরঘাটে এখন মানুষ আর মানুষ। অনেকে আবার ব্যক্তিগত ও ভাড়া গাড়িতে বাড়ি যাচ্ছে।

ফলে মহাসড়ক আর ঘাটে ঘাটে যানবাহনের প্রবল চাপ। দীর্ঘ সময় কেটে যাচ্ছে পথেই। লঞ্চগুলোতে ছিল উপচানো ভিড়। সে তুলনায় ট্রেনযাত্রায় ছিল স্বস্তি। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল রাজধানীর গাবতলী ছাড়াও সাভার, বাইপাইল, কালিয়াকৈর ও রাতে মেঘনা সেতু এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যান। মন্ত্রীর উপস্থিতি ও নির্দেশনায় ধীরে ধীরে যানজটের তীব্রতা কমে আসে।

গতকাল সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে একের পর এক ট্রেন ছেড়ে যায়। তবে রাজশাহী এক্সপ্রেস তিন ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে। কমলাপুর রেলস্টেশন ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্তী কালের কণ্ঠকে জানান, এবার বেশির ভাগ ট্রেন সময়মতো চলছে।

গতকাল সকালে ঈদযাত্রার আনন্দ ফিকে হয়ে যায় ঢাকা থেকে উত্তরের ১৬ জেলায় যাওয়ার অন্যতম পথ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। রংপুরের যাত্রী শৈলী রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, থেমে থেমে  গাড়ি চলছে। সকাল সাড়ে ৯টায় রওনা হয়ে রাত ৯টায় বঙ্গবন্ধু সেতু পার হচ্ছি মাত্র। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের আটকে থাকতে হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের স্থানে স্থানে।

সকাল থেকেই যানজট ছিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। টাঙ্গাইল প্রতিনিধি অরণ্য ইমতিয়াজ জানান, সন্ধ্যার পর থেকে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী গাড়ি বেশি ধীরে চলছিল। দুপুর সোয়া ১২টায় টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের কান্দিলায় ট্রাক-বাসের সংঘর্ষে কিছু সময় উভয় পাশে বিপুলসংখ্যক গাড়ি আটকা পড়ে। টাঙ্গাইল মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে দুর্ঘটনার শিকার বাসটি সরিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকা থেকে বগুড়াগামী একটি বাসের সহকারী চালক মোতাহার হোসেন জানান, পুরো মহাসড়কে শুধু গাড়ি আর গাড়ি। যানজট লেগেই আছে। চন্দ্রার পর থেকে মির্জাপুরের গোড়াই, পাকুল্লা, নাটিয়াপাড়া ও করটিয়ায় বেশি যানজট ছিল। ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী ট্রাকের আরোহী বেলাল হোসেন বলেন, ‘গরু নিয়ে ঢাকা গেছিলাম। সকাল ৬টার দিকে ঢাকা থেকে রওনা হইছি। এহন বেলা পৌনে দুইটা বাজে। এখনো কান্দিলায় আছি। ’ এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান, মহাসড়কে গাড়ির অতিরিক্ত চাপ। কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি মাহবুব হাসান মেহেদী জানান, চন্দ্রা ত্রিমোড়ে গতকাল বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক। এ সময় তিনি যানজট নিরসনে কর্মরত পুলিশ সদস্য, স্কাউটস, কমিউনিটি পুলিশসহ স্বেচ্ছাসেবকদের খোঁজ নেন।

দাউদকান্দি প্রতিনিধি ওমর ফারুক মিয়াজী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটে নাকাল ছিল যাত্রী-চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাজার হাজার নারী, শিশুসহ বাসযাত্রী, অ্যাম্বুলেন্স আটকে থাকে। দাউদকান্দির আমিরাবাদ থেকে মেঘনা-গোমতী সেতু পেরিয়ে কাঁচপুর পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে টানা চতুর্থ দিন হাইওয়ে পূর্বাঞ্চলের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যানজট নিরসনে বিরামহীন কাজ করেন। দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকায় দায়িত্বরত মহাসড়ক পুলিশের এএসআই দেলোয়ার হোসেন জানান, একে তো ঈদে ঘরমুখো মানুষ বহনকারী যানবাহনের চাপ, তার ওপর গরুর ট্রাকের কারণে থেমে থেমে যানজট হচ্ছে। আর মেঘনা টোল প্লাজায় টোল আদায়ে ধীরগতির কারণে সেটা আরো ব্যাপক আকার ধারণ করছে। আর এভাবে যানজট বাড়তে বাড়তে কুমিল্লার দাউদকান্দির আমিরাবাদ থেকে ঢাকার কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে।

যানজটে আটকে থাকার কারণে এশিয়া, তিশা, রয়েল, প্রাইমসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাসশূন্য হয়ে পড়েছে কুমিল্লার টার্মিনালগুলো।


মন্তব্য