kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

জুবেরী ভবনে নিজ কক্ষে শিক্ষকের লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জুবেরী ভবনে নিজ কক্ষে শিক্ষকের লাশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের আবাসিক কক্ষ থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে কক্ষের দরজা ভেঙে ওই শিক্ষককে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে শিক্ষকদের আবাসিক কক্ষের পাশাপাশি অতিথি কক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব আছে। আকতার জাহান ওই ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষে একাই থাকতেন। পুলিশ রাতে তাঁর কক্ষ থেকে একটি চিরকুট ও বিষের বোতল উদ্ধার করেছে বলে সহকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন।

চিরকুটের লেখাটি যে আকতার জাহানের, সেটা তাঁর সহকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন। ওই চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক, মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করলাম। সোয়াদকে যেন ওর বাবা কোনোভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে। ...আমার মৃতদেহ ঢাকায় না নিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেওয়ার অনুরোধ করছি। ’

সাংবাদিকতা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের সহকর্মী তানভীর আহমদের সঙ্গে আকতার জাহানের চার বছরের বেশি আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এর পর থেকে তিনি জুবেরী ভবনের ওই কক্ষে একাই থাকতেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান আয়মান সোয়াদ আহমেদ ঢাকার একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ঢাকার মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকায় নানা মৃত ফোরকান আলীর বাড়িতে থাকে।

সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর তাঁদের এই সহকর্মীর ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। ৭ তারিখ রাতে তাঁর সঙ্গে ছেলের সর্বশেষ কথা হয়।

শিক্ষকরা আরো জানান, গতকাল দুপুরে আকতার জাহানের ছেলে ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষককে মোবাইল ফোনে জানায় যে সে তার মাকে ফোনে পাচ্ছে না। তিনি বিষয়টি সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকদের জানালে তাঁরা জুবেরী ভবনে যান। কিন্তু আকতার জাহানের কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁকে ডাকাডাকি করে সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পুলিশের সহায়তায় সহকর্মীরা বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দরজা ভেঙে আকতার জাহানের কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁকে মশারির ভেতর শুয়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। তাঁর মুখের দুই পাশ দিয়ে লালা ঝরছিল। এরপর দ্রুত তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক মাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে আনার অনেক আগেই এই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক। তাঁর মুখে রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া গেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। ’

সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকরা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার দিকে পুলিশ তাঁদের নিয়ে জুবেরী ভবনে আকতার জাহানের কক্ষ তল্লাশি করে একটি চিরকুট ও বিষের বোতল পায়।

নগরের মতিহার থানার ওসি হুমায়ূন কবির বলেন, ‘শিক্ষকের লাশের সুরতহাল হবে, ময়নাতদন্ত হবে, তারপর চিকিৎসকই বলে দেবেন কী হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কিছু ধারণা করতে চাই না। কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাতিল সিরাজ বলেন, ‘আকতার জাহানের পরিবারের সদস্যরা ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছেন। শনিবার ময়নাতদন্ত হবে। এরপর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষক হিসেবে তিনি খুবই মেধাবী ও দায়িত্বশীল ছিলেন। সবার সঙ্গে তিনি খুব বন্ধুসুলভ আচরণ করতেন। আমরা তাঁকে একজন সদালাপী সজ্জন হিসেবেই জানি। এ কারণে আমরা সবাই মর্মাহত। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মজিবুল হক আজাদ খান বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এলে তাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। ’

শোক প্রকাশ : গত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আকতার জাহানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।


মন্তব্য