kalerkantho

বাড়ি যাব কখন

পার্থ সারথি দাস   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাড়ি যাব কখন

মহাসড়ক স্থবির হয়ে আছে ভয়াবহ যানজটে। ফলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের বড় একটা অংশ বেছে নিয়েছে ট্রেন। কিন্তু ঠাঁই নেই। অগত্যা ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠেই শিকড়পানে যাত্রা। টঙ্গী রেলস্টেশনে গতকালের দৃশ্য। ছবি : শেখ হাসান

ব্যাংক কর্মকর্তা নাজমুল আলমের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে। যানজটের খবর আগেই পেয়েছিলেন, তাই ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটের বাসে না উঠে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের আলম এশিয়া পরিবহনের বাসে উঠেছিলেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে তাঁর বাস ছাড়ে।   টার্মিনাল ছাড়িয়ে খিলক্ষেত পৌঁছতেই যানজটে পড়ে বাসটি। জট ঠেলে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পার হতেই লেগে যায় ছয় ঘণ্টা। ভালুকার ভরাডোবা এলাকায় পৌঁছে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে বাস থেকে নেমেই যান। এরপর দুইবার সিএনজি অটোরিকশা বদল করে শেষ পর্যন্ত বিকেল ৪টায় মধুপুরে পৌঁছেন তিনি। চার ঘণ্টার রাস্তায় তাঁর লেগেছে আট ঘণ্টা, বাড়তি ভাড়া দিতে হয়েছে ৫০০ টাকা। অথচ ঢাকা-টাঙ্গাইল পথে তাঁর লাগত ২০০ টাকা। কিন্তু তীব্র যানজটের কারণে গতকাল সেই পথে যাওয়ার উপায়ই ছিল না।  

যানজটে আটকে থাকার সময় মোবাইল ফোনে দুপুর  ১২টায় কালের কণ্ঠকে নাজমুল আলম বলেন, ‘৮টায় রওনা দিয়ে এখনো জয়দেবপুর চৌরাস্তায় পৌঁছতে পারিনি। সামনে-পিছে শুধু গাড়ি আর গাড়ি, একটাও নড়ছে না। বাসের ইঞ্জিন বন্ধ করে বসে আছেন চালক। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় বাসের মধ্যে আটকে থাকায় নারী-শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ’

কম দূরত্বের পথ হওয়ায় নাজমুল শেষ পর্যন্ত দিনের আলো থাকতে থাকতেই বাড়ি যেতে পেরেছেন। কিন্তু দূরের পথের যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল মাত্রাছাড়া। মহাসড়কে দিনভর আটকে থাকতে হয়েছে তাদের, সেখানেই রাত হয়েছে কারো কারো। যদিও বাড়ির পথ তখনো ছিল অনেক দূরে।

গতকালও ঢাকার বাস কাউন্টারগুলোতে অসংখ্য যাত্রীকে ব্যাগ-বোঁচকা নিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। চার-পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকে তাদের বাসের দেখা পায়নি। যানজটে আটকে থাকায় যাত্রী নামিয়ে ফিরতি বাস কখন আসবে তাও বলতে পারছিলেন না টার্মিনাল-কাউন্টারের কর্মীরা।

ছুটি শুরুর প্রথম দিন গতকাল বাড়ির পথে রওনা দিয়ে হাজার হাজার যাত্রীকে আটকে থাকতে হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-দিনাজপুরসহ বিভিন্ন মহাসড়কে।   

গতকাল রাজধানীর ভেতরের বেশির ভাগ সড়ক ছিল প্রায় ফাঁকা। মানুষ ও গাড়ির ভিড় ছিল রাজধানীর প্রবেশপথ, বাস-লঞ্চ টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও পশুরহাটসংলগ্ন সড়কে। তবে যাত্রীর চাপ থাকলেও গতকাল বেশির ভাগ ট্রেন ও লঞ্চ প্রায় সময়মতোই ছেড়ে গেছে। অবশ্য কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রাজশাহীগামী রাজশাহী এক্সপ্রেস ও সিল্ক সিটি ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে।

যানজট, সঙ্গে বাড়তি ভাড়ার ভোগান্তি : ফিরতি বাসের জন্য বাস টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। তার পরও তিন থেকে চার গুণ ভাড়া নিয়েছে কাউন্টারগুলো। শেষ পর্যন্ত রওনা দিয়ে মহাসড়কে উঠতেই যাত্রীদের পড়তে হয়েছে যানজটের মুখে।  

জানা যায়, যানজটের কারণে ফিরতি বাস কম ছিল গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে। সেই সুযোগে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটের বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়। টার্মিনালে ভিজিলেন্স টিম থাকলেও ক্লান্ত যাত্রীরা ছিল অভিযোগহীন।

সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটের নিরালা পরিবহনের বাসে ওঠার জন্য নির্ধারিত ১৫০ টাকার জায়গায় ৫৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে ইরানী বেগমকে। তার পরও আসন পেয়েছেন ইঞ্জিনের ওপর। একইভাবে ধলেশ্বরী, বিনিময়, মহানগর, অভি এন্টারপ্রাইজ, এসআই এন্টারপ্রাইজ, স্টারলিংক ক্লাসিক, রাজীব এন্টারপ্রাইজ, একতা এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাসে যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিয়ে উঠতে বাধ্য হয়েছে।

গাবতলী টার্মিনালে সকাল ৭টায় বাস ধরতে এসে চার ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে নজরুল ইসলামকে। বরিশাল যাওয়ার সাকুরা পরিবহনের বাস কখন আসবে জানতে কাউন্টারে যোগাযোগ করেও কোনো জবাব পাননি তিনি।

সেখানেও বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য হয় যাত্রীরা। ঈগল পরিবহনে ঢাকা-যশোর রুটের এসি বাসে ভাড়ার হার ছিল এক হাজার টাকা। গতকাল চাওয়া হয়েছে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। কেয়া পরিবহনে ঢাকা-ঠাকুরগাঁও রুটের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে ৫৫০ টাকা, গতকাল নেওয়া হয়েছে ৯০০ টাকা পর্যন্ত।

হাহাকার বেশি উত্তরের পথে : ঢাকা-টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কে গতকাল সকাল থেকেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে ছিল হাজার হাজার যানবাহন। সকাল ৮টায় কোনাবাড়ী থেকে কালিয়াকৈর বাইপাস পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার যানজট পড়ে। রাত ৯টায় গাজীপুরের ভোগড়া থেকে কালিয়াকৈর বাইপাস পর্যন্ত গাড়ির জট ছিল।    

হানিফ পরিবহনে ঢাকা থেকে গতকাল সকাল ৬টায় রওনা দিয়ে রাতেও রংপুর পৌঁছাতে পারেননি খায়রুল ইসলাম রুজেন। গত রাতে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হতেই সন্ধ্যা ৬টা বেজে গেছে। তারপর গাড়ি চললেও গতি ছিল খুব কম।  

রাজশাহী কাজলার বাসিন্দা লায়লা বেগম গতকাল দুপুরে এ মহাসড়কে যানজটে আটকা পড়েন। তিন মেয়ে নিয়ে গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বসে ছিলেন। সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে তিনি বললেন, ‘বাস চলছেই না। বাড়ি কখন যাব? আর কত দিন এভাবে বাড়ি যেতে হবে?’ 

এবার পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ঘাট বিপর্যয়ের ফলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অর্ধেকের বেশি যানের চাপ পড়ছে অপ্রশস্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা ৭০ কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। তাতে এই মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় যান চলাচলের অংশ কমে গেছে। মহাসড়ক পুলিশ ও গাড়িচালকরা জানান, এ মহাসড়কে চলাচলে এখন কখনো তিন গুণের বেশি সময় লাগছে। তার ওপর ফিটনেসহীন গাড়ি বিকল হলে যানজটের দৈর্ঘ্য বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত গিয়ে ঠেকছে। এ মহাসড়কে চাপের কারণে ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কের চাপ পড়ছে চন্দ্রা পয়েন্টে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়েই ঢাকা থেকে উত্তরের ১৬ জেলায় যাত্রীরা চলাচল করে। ঢাকা-জয়দেবপুর ও ঢাকা-বাইপাইল-আশুলিয়া দুটি রুটই মিলেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড়ে। মহাসড়ক পুলিশের হিসাবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি এবং ঢাকা-জয়দেবপুর অংশের জয়দেবপুর মোড়ের চেয়েও বেশি চাপ পড়ছে চন্দ্রা মোড়ে। স্বাভাবিক সময়ে গড়ে মিনিটে সাতটি গাড়ি অতিক্রম করে চন্দ্রা মোড়, এখন সেই হার কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দুই লেন থেকে চার লেন হওয়ার পর এই দুই মহাসড়কে যানজটের তীব্রতা কমেছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চন্দ্রা, কোনাবাড়ী, এলেঙ্গা, আশুলিয়া, বাইপাইল, নবীনগর, কালিয়াকৈর, গড়াইসহ বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট ছিল মাত্রা ছাড়া। চন্দ্রায় চাপ বেশি থাকায় ঢাকা থেকে বের হতে অনেকে বিকল্প তিন সড়ক কালিয়াকৈর-দিয়াবাড়ী-সাটুরিয়া, কালামপুর-ধামরাই-আরিচা-ঘিওর ও আরিচা-ঘিওর-নাগরপুর-টাঙ্গাইল সড়ক ব্যবহার করছে বলে বিভিন্ন পরিবহন সমিতি সূত্রে জানা গেছে।

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মানুষ ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এবং বিভিন্ন পয়েন্ট যত্রতত্র গাড়ি পার্ক করে রাখায় যানজট দীর্ঘ হয়েছে। কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কের চন্দ্রা থেকে জিরানী পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার যানজটে আটকা থাকে ঈদযাত্রীরা। রমজানের ঈদেও এ মহাসড়কের যাত্রীরা একই রকম যানজটের শিকার হয়েছিল। গতকাল দুপুরের দিকে এ মহাসড়কে এক কিলোমিটার রাস্তা পেরোতেই দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে।

সালনা-কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ওসি হোসেন সরকার বলেন, দুপুরের পর বিভিন্ন পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করায় ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

যানজট নিরসনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়ে পুলিশের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশ, স্কাউট সদস্যরা কাজ করছে। চন্দ্রা মোড়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে হাইওয়ে পুলিশের রেকার, অ্যাম্বুল্যান্স ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ির গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি খলিলুর রহমান জানান, গাড়ির চাপ অতিরিক্ত। তা ছাড়া ঢাকাগামী গরুবোঝাই ট্রাকের চাপ বাড়ছে। ট্রাকচালকরা রাতে অনেক সময় রাস্তার ওপর ট্রাক থামিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তখন উভয় পাশে অসংখ্য গাড়ি আটকা পড়ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রামের পথেও গাড়ির জট : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের বড় কারণ মেঘনা ও গোমতী সেতু। সেতু দুই লেন হওয়ায় একসঙ্গে বেশি গাড়ির চাপ পড়ছে। এতে সেতুর এপারে-ওপারে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। সেতু পেরোতেই কখনো তিন ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। মূল মহাসড়কে চার লেনের কাজ শেষ হলেও তিনটি রেলওয়ে ওভারপাসের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এগুলোর প্রভাবেও মহাসড়কে যানজট হচ্ছে। সেই সঙ্গে আছে যেখানে-সেখানে গাড়ি থামানো ও চাঁদাবাজি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা সেতুর টোল এলাকা থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার যানজট দেখা দেয়। কুমিল্লাগামী তিশা পরিবহনের যাত্রী সুমন মিয়া ও নুরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে জানান, কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পার হতেই তাঁদের পাঁচ ঘণ্টা বাসে বসে থাকতে হয়েছে। নোয়াখালীর যাত্রী রহমত উল্লাহ ও ইয়াকুব উল্লাহ জানান, তীব্র যানজট ও গরমে সঙ্গে থাকা নারী, শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম পরিবহনের যাত্রী ইয়াসমিন আক্তার ও শান্তা ইসলাম ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, এত পুলিশ সদস্য মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করার পরও কেন যানজটের কবলে পড়তে হয়?

সোনারগাঁ প্রতিনিধি জানান, পুলিশের কিছু সদস্যের চাঁদাবাজির কারণেই যানজটে পড়তে হয় বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া শিমরাইল মোড় ও কাঁচপুর এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, মহাসড়কের ওপর কাউন্টার সার্ভিসের সামনে পার্কিংয়ের কারণেও যানজট হচ্ছে। পুলিশের কিছু কর্মকর্তা গাড়ি দাঁড় করিয়ে যানজটের সৃষ্টি করেন।

চট্টগ্রামগামী দেশ ট্রাভেলস পরিবহনের বাসচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত আসতে আমাদের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। মহাসড়কের গাড়ির চাপ বেশি থাকায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়। তা ছাড়া শিমরাইল থেকে কাঁচপুর ও মদনপুর এলাকায় দুটি সিগন্যাল পার হয়ে আসতে হয়। ’

কুমিল্লাগামী যাত্রী মোতালিব হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১২টায় কমলাপুর থেকে বাসে উঠে সকাল ৬টার দিকে মেঘনা টোল প্লাজায় এসে পৌঁছেন।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শেখ শরিফুল আলম জানান, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও কাঁচপুর সেতুর মধ্যে গাড়ি বিকল হওয়ার কারণেই তীব্র যানজট হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানান, বাড়িমুখী মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সে জন্য সিসি ক্যামেরাসহ পুলিশের সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অতিরিক্ত পরিবহনের চাপে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অন্যতম পয়েন্ট কাঁচপুর সেতুর উভয় পাশে গতকাল তীব্র যানজট ছিল। সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলে যানবাহন জ্যামে আটকে ছিল। ঢাকা থেকে শিমরাইল পর্যন্ত আট লেন থাকায় ঢাকা থেকে আসা যানবাহনগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিমরাইল পৌঁছলেও শিমরাইল থেকে কাঁচপুর পূর্ব ঢাল পর্যন্ত চার লেন থাকায় যানবাহনের গতি কমে যায়। বিভিন্ন গণপরিবহনের কাউন্টার ও বাসস্ট্যান্ডের কারণে জট লেগে যায়।

দাউদকান্দি প্রতিনিধি জানান, দুপুরে শত শত যানবাহন আটকে ছিল মহাসড়কে। পরে চলাচল শুরু হলেও গতি ছিল ধীর। দাউকান্দি কানড়ায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসের চালক মিজান মিয়া, ঈগল পরিবহনের বাসের চালক মহিউদ্দিন আহম্মেদ, চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা পদ্মা পরিবহনের বাসের চালক মোহন মিয়া জানান, দাউদকান্দির গৌরীপুর থেকে সোনারগাঁর মেঘনা সেতুর পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত যানজট গেলে আছে। প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ পার হতে চার থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগছে।


মন্তব্য