kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


৪৩ কনটেইনারে মাত্র ২০০ কেজি সরিষা!

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



৪৩ কনটেইনারে মাত্র ২০০ কেজি সরিষা!

সরিষা আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা ৪৩টি কনটেইনার প্রায় খালি পাওয়া গেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। গত সপ্তাহে এ ঘটনা ঘটেছে।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের ধারণা, পণ্য আমদানির নামে বিদেশে অর্থ পাচার করে দেওয়া হয়েছে। যদিও আমদানিকারকরা তা অস্বীকার করেছেন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার চপল চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কনটেইনারগুলো বন্দর থেকে বের করার আগে স্ক্যানিং পরীক্ষায় খালি থাকার সিগন্যাল পাওয়া যায়। এরপর সেগুলোর  ডেলিভারি স্থগিত করা হয়। গত সপ্তাহে ৪৩ কনটেইনার খুলে মাত্র ২০০ কেজির মতো সরিষার দানা মেলে। অথচ প্রতিটি কনটেইনারে প্রায় সাড়ে ২২ টন পণ্য থাকার কথা। তাঁর মতে পণ্য আমদানির পুরো টাকাই হয়তো বিদেশে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ’

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য মতে, সিঙ্গাপুরের এগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এক হাজার টন সরিষার দানা আমদানির ঋণপত্র খোলে চট্টগ্রামের আমদানিকারক লাকি ট্রেডিং। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখার ঋণপত্র নম্বর হচ্ছে ০০০০১২১৪১৬০১০০৭৪। চালানটি খালাসের জন্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চট্টগ্রাম কাস্টমসে বিল অব এন্ট্রি নম্বর ৯৮০৫৬৩ জমা দেয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এইচকে অ্যান্ড কোং প্রাইভেট লিমিটেড। চালানটি বন্দর থেকে একটি বেসরকারি ডিপোয় নিয়ে যাওয়ার আগে স্ক্যানিং পরীক্ষায় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর সব কনটেইনার বন্দরের এনসিটি ইয়ার্ডে জব্দ করে রাখা হয়।

জানতে চাইলে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এইচকে অ্যান্ড কোং প্রাইভেট লিমিটেডের কর্ণধার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাস্টমস যদি বলে টাকা পাচার হয়েছে, তাহলে আমাদের বলার কিছু নেই। সেটা প্রমাণ করতে পারলে আমরা দিতে বাধ্য। আর এখানে তো সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ’

তবে সেদিন সব প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কনটেইনারগুলো কায়িক পরীক্ষার সময় অনেকগুলোই কাটা পাওয়া যায় বলে দাবি করে তিনি বলেন, বীজগুলো কোথায় পাচার হয়েছে, তা বলা যাচ্ছে না।

আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ কর্মকর্তারা বলছেন, সিঙ্গাপুরের এগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল দেশের সরকারি-বেসরকারি বহু প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহ করে আসছে। তবে এবারের চালান কোথায় পাচার হয়েছে তা প্রমাণ করা এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিরা চট্টগ্রাম বন্দরে এসে বিষয়টি যাচাই করে গেছেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে এক মাস সময় চেয়েছেন তাঁরা।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সুরক্ষিত এলাকা থেকে এর আগে একসঙ্গে ১৩ কনটেইনারের পণ্য পাচারের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সরিষার দানাগুলো পাচার হয়ে যাওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়।

এ বিষয়ে আমদানিকারক লাকি ট্রেডিংয়ের কর্ণধার ইউসুফ চৌধুরীকে ফোন করা হলে কালের কণ্ঠ পরিচয় পেয়ে তিনি রং নাম্বার বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে আর তিনি ফোন ধরেননি।


মন্তব্য