kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


২৩৬৭ গেরিলাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



২৩৬৭ গেরিলাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির নির্দেশ

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া কমরেড মণি সিংহ, প্রফেসর মোজাফফর আহমেদ, পঙ্কজ ভট্টাচার্যসহ ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর দুই হাজার ৩৬৭ জনের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সব সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা দিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেনআদালত।

ন্যাপের কেন্দ্রীয় নেতা ও একাত্তরে বিশেষ গেরিলাবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার পঙ্কজ ভট্টাচার্যের করা রিট আবেদনে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও ব্যারিস্টার উর্মি রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এস এম নাজমুল হক।

আদালত রায়ে বলেছেন, সরকার মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তাঁদের ভূমিকার প্রশংসাও করেছে। এ অবস্থায় কোন প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেওয়া হলো সেটা বড় কারণ হতে পারে না। রায়ে বলা হয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের কোথাও বলা হয়নি যে সনদের জন্য প্রত্যেককে আলাদা করে আবেদন করতে হবে। তাঁরা (রিট আবেদনকারীপক্ষ) একটি কমান্ডের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। আর ওই কমান্ড তাঁদের একসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রত্যয়ন করেছে। এটা বেআইনি নয়। রাষ্ট্রপক্ষ এই একসঙ্গে করা প্রত্যয়নের বিরুদ্ধে কোনো আইন দেখাতে পারেনি। সুতরাং তাঁদের মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া অবৈধ।

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, যেদিন (২০১৩ সালের ২২ জুলাই) তাঁরা তালিকাভুক্ত হয়েছেন, সেদিন থেকে তাঁদের স্বীকৃতি দিয়ে সব সুযোগ-সুবিধা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রিট আবেদনে বলা হয়, ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলাবাহিনী। এরপর থেকে তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। এ অবস্থায় ২০১৩ সালের ২২ জুলাই জাতীয় গেজেটে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ওই বিশেষ গেরিলাবাহিনীর দুই হাজার ৩৬৭ জনের নাম তালিকাভুক্ত হয়। কিন্তু গত বছর ২৯ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁদের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ওই নাম ত্রুটিপূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

এ অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন বাতিল চেয়ে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর রিট আবেদন করা হয়। এর ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি এক আদেশে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে ওই আদেশ কেন অবৈধ ও বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। এ রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত রায় দিলেন।

আইনজীবী ২০১৩ সালের ২২ জুলাই গেরিলা বাহিনীর ওই দুই হাজার ৩৬৭ জন যোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন কমরেড মণি সিংহ, প্রফেসর মোজাফফর আহমেদ ও পঙ্কজ ভট্টাচার্য। পরবর্তী সময় কোনো কারণ ছাড়াই ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যেটিতে ওই গেরিলা যোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর সরকারের তালিকা বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ওই গেরিলা বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও ইউনাইটেড ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ঐক্য ন্যাপ) সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য। পরে ওই রিটের শুনানি শেষে প্রজ্ঞাপনটিকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত বলে ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।


মন্তব্য