kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে দোটানায় বাবুল আক্তার

ওমর ফারুক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে দোটানায় বাবুল আক্তার

পুলিশ বাহিনী থেকে চাকরি হারানোর পর সেটি ফিরে পেতে বাবুল আক্তার আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ বিষয়ে বাবুল কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

উচ্চ আদালতে যাবেন কি যাবেন না এ নিয়ে দোটানায় আছেন তিনি। ‘পদত্যাগপত্র স্বাক্ষরে বাধ্য’ করার পর চাকরিতে যোগদানের ইচ্ছা এবং ‘পদত্যাগপত্র’ প্রত্যাহারের আবেদন—এসবই বাবুল আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে করেছেন বলে জানা গেছে।

আইনজ্ঞরা বলছেন, যে প্রক্রিয়ায় বাবুলের চাকরিচ্যুতি তাতে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি আছে। বাবুল আইনি লড়াইয়ে নামলে ওই ত্রুটির সুবিধা তিনি পেলে পেতেও পারেন।

বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার পর তিন মাস পেরিয়ে গেছে। সেই থেকে অফিসে নেই বাবুল। ফলে তিন মাসের বেতন পাননি তিনি। একদিকে মানসিক অশান্তি, চাকরিচ্যুতি, অন্যদিকে আর্থিক টানাপড়েনে পড়তে হয়েছে বাবুল আক্তারকে।

গত মঙ্গলবার বাবুল আক্তারকে পুলিশের চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। চাকরিচ্যুতই করা হয় তাঁকে। এ অবস্থায় ঘনিষ্ঠজনরা তাঁকে আইনি লড়াইয়ে নামার পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামবেন কি না তা নিয়ে দোটানায় পড়েছেন। বাবুল আক্তার আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন কি না জানতে চাইলে তাঁর শ্বশুর মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা সব দিকই বিবেচনায় রাখছি। ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাবুল আক্তারের কাছ থেকে যদি পদত্যাগপত্র চাপ দিয়ে নেওয়া হয়ে থাকে এবং তিনি তা প্রমাণ করতে পারেন তবে চাকরিচ্যুতির আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে চাকরি ফিরেও পেতে পারেন তিনি। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি কেউ পদত্যাগ করে এবং এর পরপরই পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করে তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করতে হবে। তা না করে যদি তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতিদানের আদেশ প্রদান করে তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি মহামান্য হাইকোর্টের কাছে প্রতিকার দাবি করে রিট দায়ের করতে পারবেন এবং এ ক্ষেত্রে চাকরি ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে। ’

৫ জুন চট্টগ্রামে বাবুলের স্ত্রী হত্যার পর এরই মধ্যে তিন মাস পেরিয়ে গেছে। তখন থেকেই তিনি আছেন রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় শ্বশুরের বাসায়। ঘটনার পর পর বাবুল সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেও একপর্যায়ে এসে তিনি তা বন্ধ করে দেন। এমনকি ফোনে এসএমএস করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলে গতকাল বাবুলের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছি। বাবুল কী করবে, বাচ্চা দুটির কী হবে—আমরা ভেবে পাই না। তবে সব দিক বিবেচনায় যা ভালো হয় তাই আমরা করব। ’

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার চাকরিচ্যুতির খবর পাওয়ার পর বাবুল শ্বশুরের বাড়ি থেকে শাহবাগ এলাকায় তাঁর বোনের বাসায় যান। রাতে ফিরে আসেন। পরদিন বুধবার আবারও যান সেখানে। সেখান থেকে শ্বশুরের বাসায় ফেরেন বিকেলে। তখন থেকে তিনি গতকাল বিকেল পর্যন্ত বনশ্রীর বাসায়ই অবস্থান করছেন। আর এই সময়ের মধ্যে গুজব ছড়ায়, বাবুল আক্তার নিখোঁজ রয়েছেন। কেউ কেউ বলেন পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে বাবুলকে ঘিরে এখন গুঞ্জনের শেষ নেই। পুলিশও স্পষ্ট করে কিছু না বলার কারণে এসব গুঞ্জন আরো ডালপালা মেলছে।

বাবুলকে নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে, তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিতে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে গতকাল পর্যন্ত এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বাবুলের এক আত্মীয় কালের কণ্ঠকে জানান, বিদেশে যাওয়ার কথা তাঁরা কিছু জানেন না। বাবুল সন্তান দুটিকে আগলে রাখার পাশাপাশি নিজের মানসিক অবস্থা শক্ত করার চেষ্টা করছেন।

বাবুলের এক আত্মীয় জানান, চাকরি চলে যাওয়ায় বাবুলকে এখন পুরনো চাকরি ফিরে পেতে আইনি লড়াইয়ে যেতে হবে, নয়তো নতুন চাকরি খুঁজতে হবে। সন্তান দুটিকে নিয়ে বাঁচতে টাকা তো লাগবে। নাম প্রকাশ না করে ওই আত্মীয় বলেন, যত দূর জানতে পেরেছি বাবুল আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলছেন। কী সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন তা সময়ই বলে দেবে।

 


মন্তব্য