kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাটে যাচ্ছিল কোটি টাকার জাল নোট

অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৫

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হাটে যাচ্ছিল কোটি টাকার জাল নোট

রাজধানীতে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার জাল নোট ও সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তার করা হয়েছে সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের পাঁচ সদস্যকে।

তারা হলো আবদুর রশিদ, সারোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ দুলাল, ফাতেমা বেগম ও রুবিনা বেগম। র‌্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে চক্রের হোতা আবদুর রশিদ অগ্রণী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মী।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে র‌্যাব-১ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতিমাহমুদ খান বলেন, বুধবার রাতে রাজধানীর জুরাইন ও বনশ্রী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় কোটি টাকা মূল্যমানের জাল নোট ও এসব তৈরির সরঞ্জাম। জাল টাকার টাঁকশালের সন্ধান ও কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম।

গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে জানিয়েছে, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তারা ইতিমধ্যে কোটি টাকার বেশি জাল নোট বাজারে ছেড়েছে। আরো দুই কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। পরীক্ষা করে দেখা যায়, এসব জাল নোটে নিরাপত্তা সুতা, জাতির জনকের ছবি ছাপা ও অমসৃণ রেখাগুলো এত নিখুঁতভাবে করা হয়েছে যে সাধারণ দৃষ্টিতে তা বোঝা দুরূহ।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদকারী এক র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের এসব সদস্য বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীতে জাল নোট তৈরি করে আসছে। এদের মূল টার্গেট থাকে ঢাকা ও আশপাশের গরুর হাট ও বিপণিবিতানগুলো। গ্রেপ্তার হওয়া এই চক্র ছাড়াও রাজধানীতে এমন আরো বেশ কয়েকটি চক্র রয়েছে। এর আগে মিরপুর, উত্তরা, পুরান ঢাকার কয়েকটি এলাকা ও যাত্রাবাড়ী থেকে একাধিক চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী র‌্যাব-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার আকরামুল হাসান বলেন, ‘গত বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামপুরা থানার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় ১০/৪ নম্বর রোডের এফ/৭৭ নম্বর হোল্ডিংয়ের বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতারকচক্রের নারী সদস্য ফাতেমা ও রুবিনাকে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসার বেডরুমে জাল নোট তৈরির কারখানার সন্ধান মেলে। সেখানে পাওয়া যায় ৭৮ লাখ টাকার জাল নোট (এক হাজার ও পাঁচ শ টাকার নোট), নোট তৈরির সফটওয়্যারসহ একটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টার, জাল টাকার সুতার রোল একটি), টাকার নিরাপত্তা সুতা, বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাপাযুক্ত কাগজ, সাত কেজি ট্রেসিং পেপার, চারটি স্ক্রিন ডাইস, একটি লেমিনেটিং মেশিন, প্রিন্টারের ৪০টি কার্টিজ এবং দুটি মোবাইল ফোনসেট। পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জুরাইনে অন্য একটি বাসা থেকে চক্রের হোতা আবদুর রশিদ, সারোয়ার হোসেন ও দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা হয় দুই লাখ টাকার জাল নোট, বাংলাদেশি ২৩ হাজার ৮০০ আসল টাকা ও একটি মোবাইল ফোন। এরপর গ্রেপ্তার রশিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য একটি বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আরো ২৩ লাখ টাকার জাল নোট, তিনটি ডাইস, একটি প্রিন্টার ও চারটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আবদুর রশিদ সম্পর্কে র‌্যাব জানতে পেরেছে, সে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে চাকরি করত। দুর্নীতির কারণে চাকরিচ্যুত হয় এবং দুই বছর জেলও খাটে। কারাগারে থাকাকালে তার সঙ্গে পরিচয় হয় ভারতীয় জাল নোট প্রস্তুতকারী নুরুজ্জামান নামের এক অপরাধীর সঙ্গে। আবদুর রশিদ জামিনে বেরিয়ে এসে রাজধানীর কাঁটাবন এলাকায় প্রিন্টিংয়ের ব্যবসা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে নুরুজ্জামানও জামিনে বের হয়ে কাঁটাবনে প্রিন্টিংয়ের কাজ করত। পরে দুজন একসঙ্গে জাল নোট তৈরির একটি চক্র গড়ে তোলে।

সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার ফাতেমা ও রুবিনা পরস্পর সতিন। তাদের স্বামীর নাম আবদুর রহিম। স্বামী ও দুই স্ত্রী এর আগেও জাল নোট তৈরির দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছিল। জামিনে মুক্ত হয়ে দুই নারী আবার একই অপকর্ম শুরু করেছিল। আর স্বামী জেলের ভেতরে থেকেই তাদের এ ব্যাপারে উৎসাহ ও পরামর্শ দিত। নিখুঁতভাবে জাল নোট তৈরিতে সিদ্ধহস্ত রহিম অন্যান্য প্রতারক চক্রের কাছে পরিচিত নাম।


মন্তব্য