kalerkantho

সদরঘাটে মানবজট

তৌফিক মারুফ   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সদরঘাটে মানবজট

ঈদে বাড়ি যেতে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে দুপুর ১২টায় ভাসানটেক থেকে রওনা হন মাইনুল হোসেন। বাস ও রিকশায় চড়ে সদরঘাটে পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে ৩টা।

নৌবন্দরে প্রবেশ করতে গিয়েই মুখোমুখি হন বেজায় ভিড়ের। গ্যাংওয়েতে উঠতে গিয়ে মানুষের চাপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন স্ত্রী-সন্তান থেকে। ধাক্কা সামলে পন্টুনে পৌঁছে অন্যদের সহায়তায় স্ত্রী-সন্তানকে কাছে নেন। মাইনুল বলেন, ‘ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় আগেও একবার ভয়ানক অবস্থার শিকার হয়েছিলাম। তাই সতর্ক ছিলাম। কিন্তু ভিড়ের চাপে শেষ পর্যন্ত সামলাতে পারিনি। ’ গতকাল বৃহস্পতিবার সদরঘাট টার্মিনালে যাত্রীদের নানা দুর্দশার চিত্র দেখা গেছে, মিলেছে ভোগান্তির প্রায় অভিন্ন কাহিনী।

সদরঘাটে ঈদের সময় যাত্রীদের ধাক্কাধাক্কি ও হেনস্তার পরিস্থিতি তৈরি হয় প্রতিবছরই। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে যানজট ঠেলে সদরঘাটে পৌঁছে লঞ্চ-স্টিমার ধরতে নাকাল হতে হয় অব্যবস্থাপনায়।

লঞ্চের সামনে থাকা পন্টুন মানুষের  ভিড়ে হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ। ধাক্কাধাক্কিতে নদীতে পড়ে যান অনেকে। নিরাপত্তাকর্মীরা নানাভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের ঢাকা নৌবন্দর কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে নৌপথে ঈদযাত্রা শুরুর প্রথম দিনই বেশ চাপ পড়েছে। যাত্রীরা দুপুরের আগে থেকেই ভিড় করতে শুরু করে ঘাটে। আর বন্দরে থাকা বিভিন্ন রুটের ৭০টি লঞ্চ আগে থেকেই ছিল প্রস্তুত। যে লঞ্চ আগে যাত্রী বোঝাই হবে সেটিকেই আগে ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সময়ের সূচি কার্যকর হবে না। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করতে না দেওয়ার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, যাত্রীরা একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে মাত্র দুই-তিনটি গ্যাংওয়ে ব্যবহার করে লঞ্চে ছুটতে চান। কেউ ধৈর্য ধরেন না। তাতেই বাড়ে ভোগান্তি। নিয়ম মানলে এবং মাইকের ঘোষণা করা নির্দেশ মানলে এমন হয় না।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের আগে থেকেই সদরঘাটমুখী মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করে। কেউ যাবেন লঞ্চে কেউ বা সরকারি স্টিমারে। সদরঘাটের ঢাকা নৌবন্দরে নোঙর করা একেকটি বিলাসবহুল লঞ্চ ঘিরে যাত্রীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। কেবিনের যাত্রীদের আগে থেকেই কক্ষ নির্ধারিত থাকায় সমস্যা ছিল কম। কিন্তু ডেকের বা তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে জায়গা দখলে নিতে এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলেন। নির্ধারিত জায়গা না পেয়ে অনেকেই ঢুকে পড়েন কেবিন ব্লকের করিডরে, মাস্টার ডেকে কিংবা ছাদ পর্যন্ত। কোনো মতে লঞ্চে উঠতে পারলেই যাত্রীদের মুখে হাসি ফুটে ওঠে।

সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নৌবন্দর কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীদের চাপ বিবেচনায় এবার মোট ১১টি গ্যাংওয়ের সঙ্গে ২০ পন্টুন দেওয়া হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি গ্যাংওয়েতে আলাদা করে নিরাপত্তাকর্মী দেওয়া হয়েছে। মাইকযোগে যাত্রীদের সতর্ক করা হচ্ছে একই গ্যাংওয়েতে বেশি লোক চলাচল না করার জন্য। কিন্তু যাত্রীদের বেশির ভাগই হুড়োহুড়ির চেষ্টা করেন। এবার ঢাকা নৌবন্দরে যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩০০ সদস্য, নৌ পুলিশের ২০০ সদস্য ছাড়াও কোস্ট গার্ড, র‌্যাবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন। ৩২টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বেসরকারি লঞ্চ ছাড়াও গতকাল থেকে শুরু হয়েছে সরকারি স্টিমারেরও বিশেষ সার্ভিস।


মন্তব্য