kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জাদুঘর থেকে সরল জিয়ার স্বাধীনতা পদক

বিডিনিউজ   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জাদুঘর থেকে সরল জিয়ার স্বাধীনতা পদক

সরকারের সিদ্ধান্তের পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে দেওয়া স্বাধীনতা পদক জাতীয় জাদুঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা গতকাল বুধবার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে গিয়ে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদকটি নিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিসচিব আকতারী মমতাজ।

২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার সরকারের ওই পদক্ষেপ জিয়াকে ওপরে তোলার চেষ্টা হিসেবে দেখে তখন জাতির জনককে অবমাননার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সম্প্রতি জিয়াকে দেওয়া রাষ্ট্রের বেসামরিক সর্বোচ্চ সম্মান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় পুরস্কারসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ওই সিদ্ধান্তের আলোকে গতকাল জিয়ার পদকটি জাদুঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সংস্কৃতিসচিব আকতারী মমতাজ বলেন, ‘জাতীয় পুরস্কারসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই পদক বাতিল করার। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা ওই পদকটি আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে। মিউজিয়াম থেকে পদকটি নিতে আমাদের চিঠি দিয়েছিল। ’ তিনি বলেন, ‘ওই কমিটি (পদকসংক্রান্ত কমিটি) পুরস্কার দেয়, ওই কমিটিই পুরস্কারটি প্রত্যাহার করেছে। তারা বলেছে, মিউজিয়ামে কর্নারটি থাকবে না। ’

জাতীয় জাদুঘরের একজন উপপরিচালক বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওই কর্মকর্তা এসে পদকটি নিয়ে যান। তিনি জানান, ২০০৩ সালে দেওয়া এ পদক জাদুঘরের গ্যালারিতে প্রদর্শন করা হয়েছিল। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্যালারি থেকে সরিয়ে নিয়ে সেটা স্টোর রুমে ছিল।

মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক বীরউত্তম জিয়াউর রহমানকে দেওয়া এই পদক বাতিলের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি। এর বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও রয়েছে তাদের। পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা জিয়া বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।

ছাত্রদলের নিন্দা-প্রতিবাদ : জাতীয় জাদুঘর থেকে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক সরিয়ে নেওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। গতকাল এক বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, প্রশাসন আর ক্ষমতার বলে এই অবৈধ সরকার ইচ্ছেমতো দেশ আর স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে যাচ্ছেতাই করছে। কিন্তু এসব করে তারা পার পাবে না। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য এই দেশের মাটিতে একদিন তাদেরও বিচার হবে।


মন্তব্য