kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খামারিরা প্রস্তুত

জামাল হোসেইন   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



খামারিরা প্রস্তুত

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করছে রাজধানীর আশপাশের খামারিরা। ইতিমধ্যে কেউ কেউ হাটে গরু তোলাও শুরু করেছে।

দেশি গরু ছাড়াও ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে অল্প কিছু ভারতীয় ও ভুটানি গরু রেখেছে কোনো কোনো খামারি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এবার খামারিদের কাছে যে পরিমাণ পশু আছে তাতে ঈদে রাজধানীতে কোরবানির চাহিদায় ঘাটতির আশঙ্কা নেই। ক্রেতারাও তাদের সাধ্যের মধ্যেই পশু কিনতে পারবে।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু খামার। ঢাকায় কোরবানির পশুর হাটে গরুর একটি বড় অংশ আসে এসব এলাকা থেকে। শেষ মুহূর্তে এখন ব্যস্ত সময় কাটছে সেখানকার খামারিদের। আশুলিয়ার দক্ষিণপাড়ার হাসান অ্যাগ্রো ফার্মে রয়েছে দুই শতাধিক গরু। কয়েক মাসের নিবিড় পরিচর্যায় প্রতিটি গরুই এখন যথেষ্ট মোটাতাজা। খামারের মালিক হাসানুজ্জামান বলেন, ‘শুধু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, কোরবানির ঈদকে সামনের রেখে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হাতে খাঁটি গরু তুলে দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এতে যতটা না লাভ করি, তার চেয়ে বেশি রয়েছে সেবার মানসিকতা। আমাদের খামারে স্বাভাবিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করা হয়। এমন কোনো খাবার বা ইনজেকশন দেওয়া হয় না, যা গরু ছাড়াও মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ’

আশুলিয়ার কয়েকজন খামারির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘তাদের গরুগুলো লালন-পালনের কাজ শুরু হয় কোরবানির ঈদের সাত-আট মাস আগে। প্রথমে রোগমুক্ত করার পর গরুকে খাওয়ানো হয় পুষ্টিকর খাবার। সাভার ও আশপাশের এলাকায় মোটাতাজা করা গরুর মাংসে কোনো ক্ষতিকর উপাদান নেই বলেও দাবি তাদের। ’

খামারিরা জানায়, প্রতিটি গরু মোটাতাজা করতে খরচ হয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। ঈদের বাজারে সেগুলোর দাম উঠবে এক লাখ থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত। ভারতীয় গরুর আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ বছর দেশি গরু বেশি লালন-পালন করা হয়েছে। দেশি গরুর চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় কাঙ্ক্ষিত লাভের আশা করছে খামার মালিকরা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এবং আশপাশের এলাকায়ও গরুর খামার গড়ে উঠেছে। কোরবানি ছাড়াও গাবতলী গরুর হাটে এসব গরু সারা বছর বিক্রি করা হয়। কোরবানি উপলক্ষে এ এলাকার প্রায় ১০টির মতো খামার দেশিসহ বিভিন্ন ধরনের গরু নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো নামের গবাদি পশুর খামারের পরিচালক ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমরা বাণিজ্যিকভাবেই গরু পালন করি। এখানে কোরবানির সময় ছাড়াও সারা বছর আকিকা, মেজবান, বিয়েসহ বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে গরু বিক্রি করা হয়। তবে এবার ভারতীয় গরু না আসার সম্ভাবনা থেকে আমরা প্রচুর দেশি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রেখেছি। আশা করছি, ক্রেতাদের হাতে ন্যায্য দামে ভালো গরু তুলে দিতে পারব। ’ গরুগুলোকে ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক উপাদান খাওয়ানো হচ্ছে না জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘গরুর চিকিৎসায় ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে গরুর খাবার হিসেবে গুড় ও খড়ের সঙ্গে সামান্য ইউরিয়া সার দেওয়ার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। তবে ঘাস, ভুসি ও খড় খাওয়ানো হলে গরু এমনিতেই হূষ্টপুষ্ট হয়। ’

বাড্ডার বেরাইদ গ্রামেও রয়েছে একাধিক গরুর খামার। এর মধ্যে মেঘডুবি অ্যাগ্রো ডেইরি ফার্ম অন্যতম। উপযুক্ত দামে সুস্থ ও ভালোমানের গরু সরবরাহ করার কথা জানিয়ে মেঘডুবি খামারের মালিক মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, ‘এখানে ৪৫ হাজার থেকে সাত লাখ টাকা দামের গরুও রয়েছে। আমাদের এখানে যে গরুটির দাম ৪৫ হাজার টাকা, বাজারে তা কমপক্ষে ৬০ হাজার টাকায় কিনতে হবে। আমরা সীমিত লাভে গরু বিক্রি করি। আসলে আমার কাছে লাভের চেয়ে সেবাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভেজালের ভিড়ে মানুষের হাতে গরু-ছাগলের খাঁটি মাংস তুলে দেওয়ার আনন্দটাই অন্য রকম। ’ শাহীন আরো বলেন, ‘আসলে একজন ক্রেতা খামারে এসে শুধু দামের জন্য ফিরে যাবে—এটা আমাকে কষ্ট দেয়। লাভ না হোক, শুধু খরচটা উঠে গেলেই আমরা গরু ধরে রাখি না। আর ক্রেতারা একটু কম দাম পাওয়ার আশায় খামারে আসে। এটাও আমরা জানি। তাই বাধ্য না হলে কোনো ক্রেতাকে আমরা ফেরাই না। ’

বাড়ির ছাদে গরুর খামার : পুরান ঢাকার লালবাগের ডুরি আঙুল লেনের চারতলা বড় বাডিটি দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটির ছাদে রয়েছে একটি গরুর খামার। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলেই চোখে পড়বে খামারটি। খামারের মালিক হাজি হাবিবুর রহমান ও তাঁর ভাইবোন মিলে গড়ে তুলেছেন এ খামার।

হাজি হাবিবুর রহমান জানান, ১০ থেকে ১২ বছর আগে এই খামার করার চিন্তাটা  মাথায় আসে। সে বছর কোরবানির ঈদে একটি গরু কিনে আনেন তিনি। কিন্তু কোরবানির জন্য যথেষ্ট বয়স না হওয়ায় তিনি গরুটি রেখে দেন। পরেরবার আরেকটি গরু আনেন। এভাবেই খামারের শুরু। ছোট দুটি গরু নিয়ে বাসার ছাদে পালতে শুরু করেন, এখন ওই খামারে সব সময় ১৫ থেকে ২০টি গরু থাকে।

হাবিবুর রহমান আরো জানান, গরুগুলো বড় হলে তাদের মধ্যে কয়েকটি বিক্রি করেন তিনি। আর বাকিগুলো থেকে দুধ বিক্রি করেন। প্রতিদিন গরুগুলো থেকে প্রায় ৪০ লিটার দুধ পাচ্ছেন। বর্তমানে খামারটিতে ১২টি দেশি ও আটটি নেপালি গরু আছে। এ বছর কোরবানির ঈদে এগুলো বিক্রি করা হবে।

কোরবানির ঈদ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও গরু এনে জড়ো করা হচ্ছে ঢাকার আশপাশের এলাকায়। শেষ মুহূর্তে এখন গরুগুলোর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে খামারিদের।


মন্তব্য