kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অবশেষে এসপি বাবুল আক্তারকে অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অবশেষে এসপি বাবুল আক্তারকে অব্যাহতি

চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো আলোচিত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাবুলকে অব্যাহতি দিয়ে আদেশ জারি করা হয়।

সেই আদেশের কপি গতকাল বিকেলেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাবুল আক্তারের পদত্যাগপত্র ও তাঁর করা পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের আবেদন দুটিই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সেটি যায় রাষ্ট্রপতির দপ্তরে। রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে তা যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সেখান থেকে গতকাল দুপুরে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে। বিকেল ৫টার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন তাঁর অব্যাহতিসংক্রান্ত জিও (গভর্নমেন্ট অর্ডার) স্বাক্ষর করেন। পরে সেটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জানতে চাইলে মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বাবুল আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ’

গত ৫ জুন চট্টগ্রামে বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ওই ঘটনায় গত ২৪ জুন পুলিশ বাবুলকে ডিবি অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের ভাষ্য মতে, ওই সময় বাবুল আক্তার তাদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সেই পদত্যাগপত্র আগস্টের প্রথম সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় পুলিশ সদর দপ্তর। পরে গত ৯ আগস্ট বাবুল আক্তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। অবশেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পদত্যাগপত্র ও পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারসংক্রান্ত দুটি আবেদনই পাঠায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। বাবুল আক্তারের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের আবেদন গৃহীত না হওয়ায় তাঁর পদত্যাগপত্রই গৃহীত হয়। সেই অনুযায়ী গতকাল তাঁকে পুলিশ বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।  

গতকাল বিকেলে বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তার অব্যাহতির বিষয়টি আমরা এখনো জানি না। সাংবাদিকদের কাছ থেকে শুনছি। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এখন বাইরে আছি। বাবুল বাসায়। সে জানে কি না জানি না। ’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৫ জুন চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহামুদ খানম। এর পর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এর পর থেকেই তিনি রাজধানীর

খিলগাঁও এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে দুই সন্তান নিয়ে অবস্থান করছেন। শোক কাটিয়ে গত ৩ আগস্ট বাবুল আক্তার পুলিশ সদর দপ্তরে যান। পরদিন ৪ আগস্ট যোগদানপত্র জমা দেন পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখায়। তবে তাঁর যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়নি। বেশ কয়েক দিন তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে যাওয়া-আসা করেন। এর মধ্যেই তাঁর পদত্যাগপত্র পুলিশ সদর দপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। বিষয়টি জানতে পেরে বাবুল আক্তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।  

বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় গত ২৪ জুন শুক্রবার রাত থেকে পরদিন ২৫ জুন বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১৫ ঘণ্টা রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বসিয়ে রাখা হয়েছিল বাবুল আক্তারকে। সেই সময় নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই ধূম্রজালের মধ্যে রয়েছে মিতু হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি। এত দিন ধরে তাঁর চাকরি নিয়ে ধূম্রজাল ছিল। তাঁর অব্যাহতির মধ্য দিয়ে গতকাল সেটির অবসান হয়েছে। এখন স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকা না থাকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। দ্বিধাবিভক্ত পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও। এরই মধ্যে আলোচনা শোনা যায়, অব্যাহতি দেওয়ার পর বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তারও করা হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. কামরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উনি তো (বাবুল আক্তার) মামলার বাদী, আসামি নন। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে কেন?’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ওপর কোনো নির্দেশনা নেই। ’


মন্তব্য