kalerkantho


জগন্নাথ ক্যাম্পাস সম্প্রসারিত হচ্ছে কেরানীগঞ্জে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জগন্নাথ ক্যাম্পাস সম্প্রসারিত হচ্ছে কেরানীগঞ্জে

 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বুড়িগঙ্গার ওপারে কেরানীগঞ্জে নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেখানেই একসঙ্গে আবাসিক হল, একাডেমিক ভবনসহ একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যা যা করার তা করা হবে। জগন্নাথের ছাত্রদের জন্য কেরানীগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ১০ তলা একটি আবাসিক হল নির্মাণের যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেখানেই আরো জমি নিয়ে এই ক্যাম্পাস হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনা ২৫ বিঘা জমির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হবে।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের শেষ দিকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এসব কথা জানান।

আবাসিক হলের দাবিতে প্রায় এক মাস ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকারের এই সিদ্ধান্ত এলো। কেরানীগঞ্জে নতুন ক্যাম্পাস হলেও পুরান ঢাকার চিত্তরঞ্জন এভিনিউয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী পুরনো স্থাপনাগুলোও থাকবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনটি মূল ক্যাম্পাস হবে, কোথায় কী কাজ হবে—সেসব বিষয়ে একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। কেরানীগঞ্জে ২৫ বিঘা জায়গা কেনা আছে। ওই জায়গার আশপাশে আরো জমি আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পরিমাণ জমি প্রয়োজন তা ওখান থেকে নিতে পারব। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব এ অধিগ্রহণ-প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত একজন মন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানান, বৈঠকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গটি উত্থাপিত হলে প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথের শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চান। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, কেরানীগঞ্জে ছেলেদের জন্য একটি হল নির্মাণ করা হবে। আর মেয়েদের জন্য একটি হল নির্মাণ করা হচ্ছে। এর বাইরে পূর্বাচল ও ঝিলমিল প্রকল্পে জায়গা খোঁজা হচ্ছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন—একাডেমিক ভবন এক স্থানে, মেয়েদের হল আরেক জায়গায়, ছেলেদের হল অন্য জায়গায় কেন? একই সঙ্গে তিনি এক জায়গায় জমি কিনে সেখানেই একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, উপাচার্য বাসভবনসহ সব স্থাপনা নির্মাণের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা করতে শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নাজিমউদ্দিন রোডে সদ্য সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতার স্মৃতি জড়িয়ে থাকায় সেখানে পার্ক ও জাদুঘর করার আগের সিদ্ধান্ত ঠিক রাখার কথা বলেন।

কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার পর গত সাত বছর ধরে হলের দাবি জানিয়ে এলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসিক সংকট সমাধানে কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। কেরানীগঞ্জে ১০ তলা হল নির্মাণের জন্য প্রকল্প নেওয়া হলেও তাতে তেমন গতি ছিল না। এর মধ্যে নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়ার পর ওই স্থানে হল নির্মাণের দাবিতে গত মাসে রাজপথে নামে জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা। এরপর গত ২৪ আগস্ট সচিবালয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ জানান, হল নির্মাণ প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়েছেন।


মন্তব্য