kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাইকোর্টে রিট

দুই মন্ত্রীর পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দুই মন্ত্রীর পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ

আদালত অবমাননার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে হাইকোর্টে। কোন কর্তৃত্ববলে দুই মন্ত্রী ওই সব পদে রয়েছেন, তা জানাতে রুল জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ গতকাল রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দাখিল করেন। দুই মন্ত্রীকে পাঠানো লিগ্যাল নোটিশের জবাব না পেয়ে এ রিট আবেদন করা হয়েছে বলে জানান রিট আবেদনকারী ইউনুছ আলী আকন্দ। সংবিধান রক্ষার শপথ ভঙ্গ করায় তাঁরা মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য পদে থাকার অধিকার হারিয়েছেন—এমন যুক্তি দেখিয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

রিট আবেদনে বলা হয়, আপিল বিভাগ শপথ ভঙ্গ হয়েছে বলে পর্যাবেক্ষণ দেওয়ার পর মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য পদ আঁকড়ে থাকার কোনো অধিকার নেই ওই দুই মন্ত্রীর। ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করায় তাঁদের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য পদে থাকা পাবলিক সার্ভেন্ট ডিসমিসড অন কনভিকশন অর্ডিনেন্স-১৯৮৫-এর পরিপন্থী। তাঁরা অবৈধভাবে পদে রয়েছেন। সংবিধান সুরক্ষায় শপথ ভঙ্গের মাধ্যমে তাঁরা মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে নেওয়া শপথ ভেঙেছেন, যা সংবিধান পরিপন্থী।

আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ওই দুই মন্ত্রীকে সাজা দেন আপিল বিভাগ। সাজা হিসেবে তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এই অর্থ অনাদায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি দাতব্য চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ও লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশের পর দুই মন্ত্রী জরিমানার টাকা জমা দেন।

গত ৫ মার্চ রাজধানীর বিলিয়া মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ‘৭১-এর গণহত্যাকারীদের বিচারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র : সরকার, বিচার বিভাগ ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ বক্তারা প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের সমালোচনা করেন। ওই সময় প্রধান বিচারপতি নেপাল সফরে ছিলেন। তিনি ৭ মার্চ দেশে ফেরেন। এরপর ৮ মার্চ দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয়। তাঁদের ১৪ মার্চের মধ্যে রুলের জবাব দাখিল এবং ১৫ মার্চ আদালত হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে উভয় মন্ত্রী আইনজীবীর মাধ্যমে তাঁদের ব্যাখ্যা দাখিল করেন। ১৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আদালতে হাজির হলেও খাদ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে থাকায় আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন জানান। আদালত ২০ মার্চ পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এ অবস্থায় ২০ মার্চ খাদ্যমন্ত্রী ক্ষমা চেয়ে সম্পূরক ব্যাখ্যা দাখিল করেন। ওই দিন আদালত খাদ্যমন্ত্রীর জবাব দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আদালত ২৭ মার্চ পরবর্তী দিন ধার্য করে দুই মন্ত্রীকে ওই দিন হাজির থাকতে নির্দেশ দেন। নির্ধারিত দিনে দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে শুনানি শেষে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় গত ১ সেপ্টেম্বর। রায়ে বলা হয়েছে, ওই দুই মন্ত্রী সংবিধান রক্ষার শপথ ভঙ্গ করেছেন।


মন্তব্য