kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘খুনি’ গ্রেপ্তার শরীয়তপুরে লাশ দাফন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘খুনি’ গ্রেপ্তার শরীয়তপুরে লাশ দাফন

ইয়নাতন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের কুইন্সে বাংলাদেশি নাজমা খানমকে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে নাজমার মরদেহ গতকাল রবিবার সকালে বিমানে করে দেশে পৌঁছে।

পরে রাত সোয়া ৯টার দিকে জানাজা শেষে মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে দাফন করা হয়েছে।   

নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজ জানায়, ইয়নাতন গালভেজ-মারিন (২২) নামের ওই যুবককে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে (বাংলাদেশ সময় সকালে) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনতাইয়ে ব্যর্থ হয়ে সে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নাজমা খানম (৬০) তাঁর টাকার ব্যাগ দিতে না চাওয়ায় তাঁকে ছুরিকাঘাতের কথা স্বীকার করেছে গালভেজ-মারিন। নাজমাকে যে স্থানে হামলা করা হয়েছে, ওই এলাকায়ই তার বাসা। গালভেজ-মারিনের বিরুদ্ধে হত্যার পাশাপাশি ছিনতাই ও অস্ত্র

রাখার অভিযোগ আনা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এর আগে কোনো অভিযোগ পুলিশের খাতায় ছিল না।

গত ৩১ আগস্ট রাতে বাঙালি অধ্যুষিত কুইন্সের জ্যামাইকায় নিজ বাসভবনের কাছে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন নাজমা। তাঁর বোনের ছেলে হুমায়ুন কবির নিউ ইয়র্কে পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি জানান, ধর্ম কিংবা জাতিগত বিদ্বেষের কারণে নাজমাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছিলেন তাঁর স্বজনরা। হত্যাকাণ্ডের পর খুনিকে ধরতে পুলিশের অভিযান শুরু হয়। শুক্রবার হত্যাকাণ্ড স্থানে থাকা সিসিটিভির দুটি ফুটেজ প্রকাশ করে পুলিশ।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, নাজমার বুকে উপর্যুপরি আঘাত করেছে ঘাতক। একপর্যায়ে ছুরি ভেঙে যায়। ছুরির ভাঙা ফলা তাঁর শরীরে চার ইঞ্চি পর্যন্ত গেঁথে ছিল।

গত শুক্রবার জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে প্রথম জানাজার পর নাজমা খানমের মরদেহ দেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে নাজমার মরদেহ ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। এরপর মরদেহ তাঁর গ্রিন রোডের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুর ২টার দিকে সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে শরীয়তপুরের উদ্দেশে রওনা দেন স্বজনরা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে শরীয়তপুর বালিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এই স্কুলের সাবেক শিক্ষক তিনি। লাশ স্কুল মাঠে পৌঁছার পর তাঁর প্রাক্তন সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী ও স্বজনদের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের জন্ম হয়। পরে তাঁর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার আটিপাড়ায়। সেখানে নুরুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে চতুর্থ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এ সময় তাঁর স্বামী শামসুল আলম খানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।   

ডিভি লটারি জিতে স্বামী ও এক সন্তানকে নিয়ে ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন নাজমা খানম। যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার আগে তিনি শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। তাঁর স্বামী শামসুল আলম সে সময় শরীয়তপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের অন্য দুই সন্তান ঢাকায় থাকেন।


মন্তব্য