kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


টিআর কাবিখায় এখন থেকে নগদ অর্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



টিআর কাবিখায় এখন থেকে নগদ অর্থ

টেস্ট রিলিফ ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচিতে খাদ্যশস্যের পরিবর্তে এখন থেকে নগদ অর্থ দেওয়া হবে। গতকাল রবিবার খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সভায় ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজিতে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের চিলমারীতে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

কমিটির সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘কাবিখা কর্মসূচিতে বছরে প্রায় সাড়ে আট লাখ টন চাল ও গম যেত। এখন থেকে ওই পরিমাণ খাদ্যশস্যের মূল্যমানে তা নগদ অর্থ আকারে  দেওয়া হবে। টিআর কর্মসূচিতেও একই নীতি নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী একসময় বলেছিলেন ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়াব। এ লক্ষ্যেই  সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে এই কর্মসূচি যোগ হলো। ’

টিআর ও কাবিখা কেন টাকায় দেওয়া হবে—জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে যাচ্ছি। সেখানে সাড়ে সাত লাখ টন চাল চলে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত টাকা পেলে কাজটা আরো ভালো হয়, পরিষ্কার হয়, সুন্দর হয়। এমপিদের বরাদ্দটা চাল বা গমের আকারে নিয়ে সেটা মার্কেটে বিক্রি করা, তারপর আবার সেটা টাকায় পরিণত করে কাজ করানোর চেয়ে সরাসরি টাকায় গেলে সাধারণ মানুষ আরো উপকৃত হবে। কাজ করানোটাও সুবিধাজনক হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এই পাঁচ মাস হতদরিদ্র ৫০ লাখ পরিবারকে চাল দেওয়া হবে। এ কর্মসূচিতে বছরে সাড়ে সাত লাখ টন চাল বিতরণ করা হবে। নারীপ্রধান পরিবারকে প্রাধান্য দিয়ে তালিকা করা হচ্ছে। যেসব দুস্থ পরিবারে শিশু রয়েছে, সেসব পরিবারও অগ্রাধিকার পাবে। তালিকা প্রণয়নের কাজ করছে ইউনিয়ন কমিটি। উপজেলা পর্যায়ের একজন বিভাগীয় কর্মকর্তার সভাপতিত্বে এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি, ইউনিয়ন পরিষদের সব কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিব। এ কমিটির অনুমোদন দেবে উপজেলা তালিকা যাচাই কমিটি। উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হলেও এ কমিটিতে এমপি প্রধান উপদেষ্টা আর উপজেলা চেয়ারম্যান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন। ইউনিয়ন কমিটি প্রতি ৫০০ পরিবারের জন্য একজন ডিলার নিয়োগ করবে এবং হতদরিদ্র পরিবারের সংখ্যা নির্ধারণ করে তাদের কার্ড দেবে। নীতিমালা অনুযায়ী তাদের চাল দেওয়া হবে।

খাদ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য