kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অবশেষে শেখ কামালের ঋণ শোধ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অবশেষে শেখ কামালের ঋণ শোধ

দৃষ্টির আড়ালে তো মনেরও অন্তরালে তিনি। তাই বুঝি সত্তরের দশকের ক্রীড়া বিপ্লবের নায়ককে মনে করতে ৩৬ বছর লেগে গেল! যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ গলার স্বর খানিকটা নামিয়ে বেদনার আবহে স্মরণ করলেন শেখ কামালের কীর্তিকে।

ক্রীড়াঙ্গনের এই কীর্তিমানকে ২০১১ সালের মরণোত্তর জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন। মঞ্চে বসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভেতরটাও আরেকবার দুমড়ে-মুচড়ে দিল সহোদর হারানোর যন্ত্রণা। ২৫ হাজার টাকাসমেত স্বর্ণপদক তুলে দিলেন কামালের আবাল্য বন্ধু অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ সাহেদ রেজার হাতে। বন্ধুর জন্যও এটা বড় সহজ কাজ নয়, ‘শেখ  কামালের মরণোত্তর পুরস্কার নেওয়াটা কোনো সুখের অনুভূতি নয়, অনেক কষ্ট আর বেদনার। আমার বন্ধুটা বেঁচে থাকলে আজ ক্রীড়াঙ্গনের অন্য চেহারা দাঁড়াত। ছেলেবেলা থেকে কী অসমান্য উদ্যোগী এক মানুষ ছিল কামাল। তরুণ বয়সে যে আবাহনীর মতো একটা ক্লাবের কথা ভাবতে পারে, পরিণত বয়সে সে আরো কত কী করতে পারত। ’

শুধু কি আবাহনীর স্রষ্টা কিংবা দেশে আধুনিক ফুটবলের ফেরিওয়ালা হিসেবে তাঁর খ্যাতি। ১৯৭৫ সালে ঢাকা ক্রিকেট লিগের চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর ছিলেন ওপেনিং বোলার, আছে ২০ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব। একই বছর ওয়ান্ডারার্সে খেলে জিতেছেন বাস্কেটবল লিগ। ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলের দ্রুততম মানব। বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাডমিন্টন দ্বৈতে জিতেছিলেন রানার্স-আপ ট্রফি। এমন সব্যসাচী ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে যে শেষ পর্যন্ত মনে পড়েছে, সেটাও কি কম। নইলে যে খালেদ মাসুদ, সাকিব আল হাসানদেরও পেছনে পড়ে যেতেন শেখ কামাল।

তিনি বেঁচে থাকলে কি এই পুরস্কার খুশি মনে গ্রহণ করতে পারতেন? জাতীয় পুরস্কার পাওয়া এক ক্রীড়াবিদ বলেছেন, ‘শেখ কামাল বেঁচে থাকলে অন্তত এরকম হাস্যকর কাণ্ড হতো না। ২০১০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত ৩২ জনকে একসঙ্গে পুরস্কার দিয়ে জাতীয় পুরস্কারের মর্যাদাহানি করতে দিতেন না। মানুষের কাজের স্বীকৃতিটা কিভাবে কখন দিতে হয়, সেটাও জানে না এরা। ’ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কাল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে তিন বছরের জন্য ৩২ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তাঁদের হাতে একটি করে স্বর্ণপদক ও ২৫ হাজার টাকা তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ২০১৬ সালে দাঁড়িয়ে ২০১২ পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়াটা যে ভীষণ দৃষ্টিকটু লেগেছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার নিজের বক্তব্যে বলেছেন, ‘নানা কারণে আমাদের দেরি হয়েছে। তবে আগামী জানুয়ারির মধ্যেই ২০১৫ সাল পর্যন্ত পুরস্কার দিয়ে দেব। এ জন্য একটা নীতিমালাও আমরা তৈরি করেছি। ’ তাঁর কথার মানেটা দাঁড়াচ্ছে কোনো নীতিমালা ছাড়াই চলছিল এত দিন! এ জন্যই আগের দুই বছরে কোনো ফুটবলার না রেখে ২০১২ সালে একসঙ্গে পাঁচ ফুটবলারকে মনোনীত করা হয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারের জন্য। পাঁচ তারকা মোহাম্মদ মহসীন, খুরশিদ বাবুল, আশীষ ভদ্র, সত্যজিৎ দাশ রূপু ও আবদুল গাফফারের সঙ্গে একই বছরে দেওয়া হয়েছে হালের ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানকেও। আশীষ ভদ্র পুরস্কারটা উৎসর্গ করেছেন তাঁর প্রথম জীবনের ফুটবল গুরু ইকবাল খানকে। গাফফারের কৃতজ্ঞতা তিন কোচ আলী ইমাম, মালা, দীপুর কাছে। আর রূপুর মনে পড়ছে তাঁর ক্যারিয়ারে প্রেরণাদায়ী ফরশাদ বাবুলের কথা।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, আশীষ-গাফফারদের সময়ের ফুটবল যৌবন ফুরিয়ে গেছে। এই কথা বলতেও ভোলেননি প্রধানমন্ত্রী, ‘আমাদের মেয়েরা যখন ১০ গোল দেয়, ছেলেরা তখন ৫ গোল খায়। ’ ছেলেদের পায়ে ফুটবলের সুদিন ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা ক্রিকেটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন, ‘এখন সত্যি সত্যি আমাদের ক্রিকেট রয়েল বেঙ্গল টাইগার হয়েছে। অন্যরা মাঠে নামার আগে দু’বার ভাবে। ’ ক্রীড়াঙ্গনের অগ্রগতি অব্যাহত রাখাতে তিনি ৪৯০টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম অর্থাৎ শুধুই খেলার মাঠ তৈরির কথা বলেছেন। তাঁর নতুন ঘোষণায় ফি বছর ৬ এপ্রিল পালিত হবে জাতীয় ক্রীড়া দিবস।

২০১০ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তরা : হারুন-অর-রশিদ (সাঁতার), আতিকুর রহমান (শ্যুটিং), মাহমুদা বেগম (অ্যাথলেটিকস), দেওয়ান মো. নজরুল ইসলাম (জিমন্যাস্টিকস), মিজানুর রহমান মানু (সংগঠক), এ এস এম আলী কবীর (সংগঠক), মরহুম তকবির হোসেন (সাঁতার), ফরিদ খান (অ্যাথলেটিকস), নেলী জেসমিন (অ্যাথলেটিকস), নিপা বোস (অ্যাথলেটিকস)।

২০১১ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তরা : রওশন আরা ছবি (জিমন্যাস্টিকস), সার্জেন্ট মো. কাঞ্চন আলী (বক্সিং), সুবেদার হাজী মো. আশরাফ আলী (কুস্তি), হেলেনা খান ইভা (ভলিবল), খালেদ মাসুদ (ক্রিকেট), রবিউল ইসলাম (শরীর গঠন), জুম্মন লুসাই (হকি), কুতুব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আকসির (সংগঠক), আশিকুর রহমান মিকু (সংগঠক), শহীদ শেখ কামাল (ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক)।

২০১২ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তরা : সাকিব আল হাসান (ক্রিকেট), মো. মহসীন (ফুটবল), খুরশিদ আলম বাবুল (ফুটবল), আশীষ ভদ্র (ফুটবল), সত্যজিৎ দাশ রূপু (ফুটবল), আবদুল গাফফার (ফুটবল), ফিরোজা খাতুন (অ্যাথলেটিকস), নাজিয়া আখতার যুথী (ব্যাডমিন্টন), কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল (সংগঠক), মামুন উর রশীদ (হকি), উম্মে সালমা রফিক (অ্যাথলেটিকস, সংগঠক), নুরুল আলম চৌধুরী (সংগঠক)।

 


মন্তব্য