kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সংবিধান রক্ষার শপথ ভঙ্গ

দুই মন্ত্রীকে লিগ্যাল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দুই মন্ত্রীকে লিগ্যাল নোটিশ

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ। নোটিশে তাঁরা ‘কোন কর্তৃত্ববলে মন্ত্রী পদে রয়েছেন’ তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে এর জবাব দিতে হবে। অন্যথায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দুই মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান ওই আইনজীবী। আদালত অবমাননার দায়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে, ওই দুই মন্ত্রী সংবিধান রক্ষার শপথ ভঙ্গ করেছেন। কিন্তু তাঁরা এখনো মন্ত্রী পদে বহাল রয়েছেন। শপথ ভঙ্গ করলে মন্ত্রিত্ব যাবে—এমন কোনো বিধান অবশ্য সংবিধানে নেই।

ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ১৪৮(২) অনুচ্ছেদে মন্ত্রীর শপথ উল্লেখ করা হয়েছে। এই শপথ পাঠের মাধ্যমে তাঁরা মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেন। এই শপথ ভেঙেছেন বলে আপিল বিভাগ থেকে রায় আসার পর তাঁরা আর মন্ত্রী পদে থাকতে পারেন না।

গত ৫ মার্চ রাজধানীর বিলিয়া মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ‘৭১-এর গণহত্যাকারীদের বিচারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র : সরকার, বিচার বিভাগ ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ বক্তারা প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তাঁরা প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে মীর কাসেম আলীর মামলায় ফের আপিল বিভাগে শুনানির দাবি জানান। এ সময় প্রধান বিচারপতি নেপাল সফরে ছিলেন। তিনি ৭ মার্চ দেশে ফেরেন। পরদিন দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয়। এ রুলের ওপর শুনানি শেষে ২৭ মার্চ সংক্ষিপ্ত রায় দেওয়া হয়। রায়ে আদালত অবমাননার দায়ে দুই মন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়, এই অর্থ অনাদায়ে সাত দিনের বিনা শ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার এই অর্থ দাতব্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ও লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে জরিমানার টাকা জমা দেন দুই মন্ত্রী। সংক্ষিপ্ত রায় দেওয়ার পাঁচ মাস পর গত ১ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।


মন্তব্য