kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ

কৃষ্ণা সরকারের গোলে স্বপ্নপূরণের আরো কাছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের মেয়েরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কল্পনাকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল। কয়েক বছর আগেও যারা তাচ্ছিল্যের চোখে তাকাত মহিলা ফুটবলের দিকে, সেই তারা গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হাজির হয়ে অভিবাদন জানিয়েছে কিশোরীদের।

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবলের বাছাইয়ে তারা ৪-২ গোলে চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে পৌঁছে গেছে টুর্নামেন্টের মূল পর্বে। শামসুন্নাহারের জোড়া গোলের পর কৃষ্ণা ও মার্জিয়ার দুই গোলে দেশের মহিলা ফুটবল নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

ইরান, সিঙ্গাপুর ও কিরগিজস্তানের জালে গোলের মহড়া দেওয়া বাংলাদেশের জন্য কোনো ম্যাচই যেন বড় সমস্যা নয়। এটা হয়তো-বা সাদা চোখের বিশ্লেষণ। কিন্তু বিশ্ব মহিলা ফুটবলের র্যাংকিংয়ের দিকে চোখ রাখলে বোঝা যায় ব্যবধান কত যোজন যোজন মাইলের। বাংলাদেশ যখন ১২১-এ দাঁড়িয়ে, তখন চাইনিজ তাইপে ৩৮তম অবস্থানে। অর্থাৎ ঐতিহ্য ও শক্তিতে প্রতিপক্ষ অনেকখানি এগিয়ে। সেই আগুয়ানদের নিয়ে ম্যাচের আগে একটু দুশ্চিন্তাই ছিল। ম্যাচ শুরু হতেই সেটা আরো বড় হয়ে যায় ১১ মিনিটে গোল খেয়ে বসলে। বক্সের বেশ দূর থেকে সু ইউ হুসানের দুর্দান্ত শট মাহমুদাকে ফাঁকি দিয়ে জালে পৌঁছে যায়। এই গোলের পর বুঝি মাঠে আসা দর্শকদের উৎসাহে খানিকটা ভাটা পড়ে। আজ বুঝি আর হচ্ছে না! মানুষ যা-ই ভাবুক, ফেডারেশনেও তো তারা অবহেলার পাত্র (অন্তত ছেলেদের ফুটবল বিচারে), সব কিছুর জবাব দেওয়ার জন্যই যে তারা মাঠে নেমেছিল। তাই শুরুতে গোল খাওয়ার চাঁই উতরে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়ে। দেশের পতাকা জড়িয়ে মাঠে দেয় ‘ল্যাপ অব অনার’। আর অধিনায়ক কৃষ্ণা সরকার মুখে বলে, ‘ছেলেরা সব সুযোগ-সুবিধায় এগিয়ে আছে, তার পরও মালদ্বীপের কাছে হারে ৫ গোলে...। ’ বলেই সে লজ্জায় মুখ লুকিয়ে ফেলে। ছেলেদের ফুটবলের লজ্জা ডেকে দিয়েছে তারা কাল দেশের মহিলা ফুটবলকে উঁচুতে তুলে ধরে।

গোল খাওয়ার পর ম্যাচে ফেরার এমন তাড়া যে আক্রমণের ঢেউ বইয়ে দিয়ে ২৬তম মিনিটে গোলের আয়োজন সেরে ফেরে। কৃষ্ণা গোলে শট নেবে, এমন সময় চাইনিজ তাইপের ডিফেন্ডার ফাউল করে পেনাল্টির বিপদ ডেকে আনে। সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাইপের ওই ডিফেন্ডারকে। সেই সুযোগে শামসুন্নাহার চমৎকার গোল করে ম্যাচে ফেরায় দলকে। এবার এগিয়ে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ৩৭ মিনিটে আরেকটি পেনাল্টি আদায় করে নেয় আনুচিং। বাংলাদেশি ফরোয়ার্ডকে ফাউল করে তাইপের গোলরক্ষক। সেবার শামসুন্নাহার ঠাণ্ডা মাথায় পেনাল্টি কিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে এগিয়ে নেয় দলকে। ৪১ মিনিটে আরেকটি গোলের ঘনঘটা, ডানদিক দিয়ে আক্রমণে উঠে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেও আনুচিং গোলপোস্টকে পরাস্ত করতে পারেনি। পোস্টে লেগে শট যায় বাইরে। ৫৬ মিনিটে আনুচিং-কৃষ্ণা ওয়ান টু খেলে বক্সে ঢোকে, তারপর কৃষ্ণার বাঁপায়ের শট তাইপের জালে পৌঁছে গেলে আর কোনো সংশয় থাকে না বাংলাদেশের জয়ে। ৭৯ মিনিটে মার্জিয়া চতুর্থ গোল করে উৎসবে মাতিয়ে দিয়েছে সবাইকে। এরপর তাইপে একটি গোল ফিরিয়ে দিলেও উৎসবে কোনো ছেদ পড়েনি।

এরপর কৃষ্ণা-মার্জিয়া-মারিয়া-সানজিদারা উৎসবে মাতে বিজয় কেতন উড়িয়ে। শেষ ম্যাচে আরব আমিরাতের সঙ্গে হারলেও চূড়ান্ত পর্বে খেলা নিয়ে কোনো সংশয় নেই বাংলাদেশের। কারণ ইরান-তাইপে ম্যাচে যে জিতুক, দুটি দলই হেরেছে বাংলাদেশের কাছে। সর্বজয়ী বাংলাদেশ হেড টু হেডে এগিয়ে। এখন মহিলা ফুটবলের উৎসবের পালা। তাদের নামেই হবে দেশের ফুটবলের সব জয়ধ্বনি।


মন্তব্য