kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গুলশান হত্যাযজ্ঞ

জঙ্গিদের ব্যবহৃত বোমার কারিগর শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গিদের ব্যবহৃত বোমার কারিগর শনাক্ত

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় জঙ্গিদের ব্যবহার করা বোমাগুলো তৈরি করেছে সোহেল মাহফুজ নামের এক জঙ্গি। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) থেকে নব্য জেএমবিতে যোগ দিয়েছে।

ঘটনার পর থেকে এ বোমার কারিগরও পলাতক। ঘটনায় জড়িত অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে সোহেলকেও খুঁজছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।  

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, গুলশানে হামলায় জড়িত সোহেল মাহফুজ নামের এক ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ। ওই ব্যক্তি কিভাবে জড়িত জানতে চাইলে মনিরুল বলেন, সে বোমা প্রস্তুতকারী ছিল। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, গুলশানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরী। তার সমন্বয়ক ছিল নূরুল ইসলাম মারজান। পেছন থেকে ইন্ধন দিয়েছে জেএমবি নেতা আবুল কাশেম, আবু ইউসুফ বাঙালি, ওয়াসিম আজওয়াদ। পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল জোনায়েদ খান ও শরিফুল ইসলাম খালিদ।

প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে জাহাঙ্গীর ওরফে মুরাদ আর সমন্বয়ক ছিল মানিক। এ ছাড়া নব্য জেএমবি নেতা রাজিব ওরফে রাজিব গান্ধী গুলশানে হামলা চালাতে দুজনকে নিয়োগ দিয়ে তামিম চৌধুরীর কাছে পাঠিয়েছিল। ওই হামলার বিষয়ে জানত নব্য জেএমবির আরেক নেতা উত্তরাঞ্চলের মামুনুর রশিদ রিপন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিপন ও খালিদের অবস্থান ভারতে বলে তথ্য মিলেছে। জোনায়েদ খানের সর্বশেষ অবস্থান ছিল কল্যাণপুর আস্তানায়। মারজানও ঢাকায় আছে বলে তথ্য মিলেছে। জোনায়েদের ভাই ইব্রাহিম হাসান খান এবং ‘চকোলেট’ ছদ্মনামের আরেক জঙ্গিকেও খুঁজছে পুলিশ।

এদিকে গত ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের আস্তানায় নিহত হয় তামিম এবং তার সহযোগী তাওসিফ ও ফজলে রাব্বি। সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, গুলশানে হামলার পরিকল্পনাকারী এবং অর্থ ও অস্ত্রের জোগানদাতাসহ ৮-১০ জনের সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে আরো তদন্ত চলছে।  

গত ১ জুলাই রাতে গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের পাশে অবস্থিত হলি আর্টিজান বেকারি এবং ও’কিচেন রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা হামলা চালায়। ওই রাতে প্রাথমিক অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হয়। পরে পুলিশ ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনের লাশ উদ্ধার করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রেস্তোরাঁর এক কর্মী। অভিযানের আগে ও পরে ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়।


মন্তব্য