kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মায়ের কোলে ফেরত এলো বুকের ধন

কুদ্দুস বিশ্বাস, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মায়ের কোলে ফেরত এলো বুকের ধন

গতকাল রাতে রৌমারীতে গিয়ে শিশু বন্যাকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান। ছবি : কালের কণ্ঠ

অভাবের তাড়নায় ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা ২২ দিন বয়সী মোরশেদা আক্তার বন্যাকে ফেরত দেওয়া হলো দুঃখিনী মায়ের কোলে। ওই ৩৫ হাজার টাকাও ফেরত দেওয়া হয় শিশুটির ক্রেতা পানফুল বেগমকে।

একই সঙ্গে অভাব মোচনের জন্য সন্তান বিক্রি করা মা রেবী খাতুনকেও আর্থিক সহায়তা করা হয়। জামালপুরের জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান গতকাল শুক্রবার রাতে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে এসে বিক্রি হওয়া দুধের বাচ্চাকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন।

গতকাল দৈনিক কালের কণ্ঠ’র প্রথম পৃষ্ঠায় ‘বুকের ধন বিক্রি করে অন্যের জমিতে ঘর’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। টনক নড়ে প্রশাসনেরও। পরে জামালপুরের জেলা প্রশাসক ও কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে ওই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

গতকাল রাতে জামালপুরের জেলা প্রশাসক, দেওয়ানগঞ্জের ইউএনও সাইফুল ইসলাম, জামালপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুকন্ত হাজং, রৌমারীর ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার, রৌমারী থানার ওসি এ বি এম সাজেদুল ইসলাম সন্তান কিনে নেওয়া মা পানফুল বেগমের বাড়ি রৌমারীর কাঁঠালবাড়ী খাঁপাড়ায় যান। সব কিছু জানার পর সন্তান বিক্রি করা মা রেবী খাতুনকে ডেকে আনা হয়। গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে দুধের বাচ্চাকে তার প্রকৃত মায়ের কোলে ফেরত দেওয়া হয়। এ সময় এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। জেলা প্রশাসক সন্তান বিক্রির ৩৫ হাজার টাকা ফেরত দেন কিনে নেওয়া মা পানফুলকে। একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১০ হাজার টাকা দেন অভাবগ্রস্ত মা রেবী খাতুনকে। রৌমারী থানার ওসি এ বি এম সাজেদুল ইসলামও ব্যক্তিগতভাবে মাকে ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেন।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসক প্রতি মাসে অভাবী পরিবারের জন্য খাবারের চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। রৌমারীর ইউএনও আব্দুল আল মামুন তালুকদার ওই পরিবারের জন্য ভিজিডি সুবিধা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সব ধরনের সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

উল্লেখ্য, সংসারে তীব্র অভাবের কারণে গত ২২ আগস্ট উপজেলার সীমান্তঘেঁষা উত্তর বারবান্দা গ্রামের জনম দুঃখিনী মা তাঁর বুকের ধনকে মাত্র ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। সন্তান বিক্রির ওই টাকায় মাথা গোঁজার মতো একটা ঘর তোলেন মা, সেটাও আবার অন্যের জমিতে। দুধের বাচ্চাকে কিনে নেন নিঃসন্তান পানফুল বেগম। পানফুল বেগমের স্বামীর নাম দেলোয়ার হোসেন। তাঁদের বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাথরের চর চেংটিমারী গ্রামে।


মন্তব্য