kalerkantho


ভেস্তে গেল নিজের ভাস্কর্য নির্মাণের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভেস্তে গেল নিজের ভাস্কর্য নির্মাণের চেষ্টা

রতনা আমিন

অবশেষে ভেস্তে গেল ‘জনগণের টাকায়’ এমপি রতনা আমিনের ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ। গতকাল বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত এক জরুরি সভায় বিধিবহির্ভূত প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বরিশাল জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধের চিঠি দেওয়া হচ্ছে। চিঠিতে কাজ বন্ধের ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট কালের কণ্ঠ’র প্রথম পৃষ্ঠায় “‘জনগণের টাকায়’ নিজের ভাস্কর্য গড়ছেন এমপি” শীর্ষক একটি  প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর জেলা পরিষদ জরুরি সভা ডেকে ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। প্রসঙ্গত, রতনা আমিন বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য।

বরিশাল জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী শেখ তৌফিক আজিজ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পরিষদের প্রশাসক খান আলতাফ হোসেন ভুলুর সভাপতিত্বে একটি সভা হয়েছে। সেখানে জেলা পরিষদের সচিব দেবী চন্দ্র উপস্থিত ছিলেন। ফাইল ঘেঁটে ভাস্কর্য নির্মাণের  বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। যেহেতু জনগণের টাকায় কোনো ব্যক্তির ভাস্কর্য নির্মাণে অর্থ বরাদ্দের বিধান নেই, তাই বরাদ্দকৃত অর্থ জেলা পরিষদের প্রশাসকের ক্ষমতাবলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে নির্বাচিত ঠিকাদারকে চিঠি দিয়ে জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই অর্থ পুনরায় জেলা পরিষদের ফান্ডে ফিরিয়ে আনা হবে। জনকল্যাণমূলক অপর প্রকল্পে তা ব্যয় করা হবে। ’ 

এমপির ডিও লেটার : বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য বেগম নাসরিন জাহান রতনা ওরফে রতনা আমিন জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে ২৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর সংসদীয় প্যাডে দেওয়া আধাসরকারি পত্রে (ডিও লেটার) রতনা আমিন নিজেই স্বাক্ষর করেন, যার স্বারক নং-বাজাস/স/১২৪বরি-৬/ডিও/জে-০৩৪। সেই তালিকার ২৩ নম্বরে প্রকল্প ‘রতনা আমিন মহিলা কলেজে প্রতিষ্ঠাতার ভাস্কর্য নির্মাণ’ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় দুই লাখ টাকা ধরা হয়েছিল। ডিও লেটারের ৬ নম্বর প্রকল্পে রতনা আমিন মহিলা কলেজের রাস্তা সংস্কার করতে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সেটিরও দরপত্র বিজ্ঞপ্তি জেলা পরিষদ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে গতকাল কালের কণ্ঠ’র দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় রতনা আমিনের প্রতিবাদলিপি প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, ‘ডিও লেটার দিয়ে জনগণের টাকায় ভাস্কর্য করার বিষয়ে যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা আমার স্বাক্ষর করা নয়। যদি কোনো স্বার্থান্বেষী মহল স্বাক্ষর জাল করে থাকে তবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। ভাস্কর্য নির্মাণ হলে তা নিজ অর্থেই হবে। ’

বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক খান আলতাফ হোসেন ভুলু বলেন, ‘সাংসদ রতনা আমিনের ডিও লেটারগুলো পর্যালোচনা করে দেখেছি, সব ডিওতে তাঁর স্বাক্ষর হুবহু মিল রয়েছে। তাঁর স্বাক্ষর জাল করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য তিনি নিজেই ওই ডিওতে স্বাক্ষর করেছেন। ’


মন্তব্য