kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রাণভিক্ষা

আবারও সময় চাইলেন মীর কাসেম

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আবারও সময় চাইলেন মীর কাসেম

রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে আবারও সময় চেয়েছেন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মীর কাসেম আলী। গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের কনডেম সেলে থাকা জামায়াতের এই নেতার কাছে গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রাণভিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছিল কারা কর্তৃপক্ষ।

জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সকাল ১১টার দিকে মীর কাসেম আলীর কাছে প্রাণভিক্ষার বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি আরো একটু সময় চেয়েছেন। ভেবেচিন্তে জানাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। ’ ভাবনাচিন্তার জন্য তাঁকে কত দিন সময় দেওয়া হতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে জেল সুপার বলেন, ‘সেটা সরকার ও কারা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। ’

বুধবার সকালে কারা কর্তৃপক্ষ মীর কাসেমকে তাঁর রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার রায় পড়ে শোনানোর পর প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না—তা জানতে চেয়েছিল। তখনও সময় চেয়েছিলেন তিনি। এরপর বিকেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যান স্ত্রী ও স্বজনরা।

সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে কারা ফটকে মীর কাসেমের স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেমকে ২২ দিন আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ছেলে তাঁর বাবার আইনজীবী প্যানেলের একজন সদস্যও। তাই ছেলেকে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত প্রাণভিক্ষার আবেদন করা না-করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তাঁর স্বামী।

এরপর বুধবার রাতে কাশিমপুর কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না, তা জানাতে মীর কাসেমকে ‘যৌক্তিক সময়’ দেওয়া হবে। কারা কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সকালে আবারও তাঁর সিদ্ধান্ত জানতে চাইবে।

‘যৌক্তিক সময়’ কতটুকু হতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ‘কারা বিধি অনুযায়ী প্রাণভিক্ষার আবেদনের জন্য অন্য বন্দিদের ক্ষেত্রে বা অন্যান্য রায়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত দিনের সময় দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল আইনে এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই। তাই ধরে নেওয়া যায়, মীর কাসেমকে সর্বোচ্চ সাত দিনের সময় দেওয়া হতে পারে। তবে তিনি যদি প্রাণভিক্ষার আবেদন না করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে দ্রুততম সময়েই দণ্ড কার্যকর হবে। ’

বুধবার মাগুরায় এক জনসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করেই মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর করা হবে।

কাশিমপুর কারাগারের একটি সূত্র জানিয়েছে, মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকরের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জল্লাদ। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থাও। সরকারের নির্দেশনা পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, শনি অথবা রবিবার তাঁর ফাঁসি কার্যকর হতে পারে।

মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিলে কারাগারে বসে এক ব্যান্ডের রেডিওর মাধ্যমে সে খবর জানতে পারেন জামায়াতের অর্থ জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত ৬৩ বছর বয়সী মীর কাসেম। ২০১২ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি এ কারাগারে রয়েছেন।


মন্তব্য