kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নিউ ইয়র্কে এবার বাংলাদেশি নারীকে ছুরি মেরে হত্যা

নিউ ইয়র্ক ও শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নিউ ইয়র্কে এবার বাংলাদেশি নারীকে ছুরি মেরে হত্যা

ইমামসহ দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার দুই সপ্তাহ পরই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এবার বাংলাদেশি এক নারীকে ছুরি মেরে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় সময় বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে (বাংলাদেশ সময় গতকাল সকালে) কুইন্সের জ্যামাইকা হিলসের নরম্যাল রোডে এ ঘটনা  ঘটে।

ওই নারী ‘ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলা’র শিকার হয়েছেন বলে মনে করছে স্বজনরা।

নিহত নাজমা খানমের (৬০) বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটিপাড়া গ্রামে। তিনি শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষিকা। তাঁর স্বামী শামছুল আলম খান শরীয়তপুর সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক। তিন সন্তানের মা নাজমা এক সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে ২০০৮ সাল থেকে নিউ ইয়র্কে ছিলেন। অন্য দুই ছেলেমেয়ে থাকেন ঢাকায়। তাঁর বোনের ছেলে মোহাম্মদ কবির নিউ ইয়র্ক মুসলিম পুলিশ অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, নিজেদের বাসা থেকে দুই ব্লক দূরে ঘটনার সময় কাছেই ছিলেন স্বামী শামছুল আলম খান। স্ত্রীর চিৎকার শুনে এগিয়ে আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে জ্যামাইকা হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।

নাজমার ভাই বাংলাদেশে থাকা আলতাফ হোসেন ভগ্নিপতির বরাত দিয়ে জানান, তাঁর বোন ও ভগ্নিপতি কেনাকাটার জন্য বাসার বাইরে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় বাসার কাছাকাছি আসার আগে তাঁর বোন কিছুটা এগিয়ে যান। এরই মধ্যে বোনের চিৎকার শুনে ভগ্নিপতি তাকিয়ে দেখেন দু-তিনজন দুর্বৃত্ত বড় ধরনের চাকু দিয়ে বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাচ্ছে।

নাজমার ভাগ্নে নিউ ইয়র্ক প্রবাসী মোহাম্মদ রহমান বলেন, ‘এটা হেইট ক্রাইম। কারণ আমার খালা মুসলিম পোশাকে হাঁটছিলেন। তাঁর কাছে থেকে কিছুই নেয়নি দুর্বৃত্তরা। ’

তবে পুলিশ কর্মকর্তারা এখনই কোনো সিদ্ধান্ত না টেনে বলেছেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘাতককে গ্রেপ্তারে সহায়তা চেয়ে কোনো তথ্য থাকলে তা ১-৮০০-৫৭৭-৮৪৭৭ নম্বরে ফোন করে জানাতে বলা হয়েছে।

নাজমার দেবর এসকান্দার আজম খান জানান, ডিবি লটারি জিতে ২০০৮ সালে স্বামী ও ছোট ছেলে শুভকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন নাজমা। সেখানে তাঁরা ব্যবসা করছিলেন। শুভকে বিয়ে করাতে দুই মাস পরেই দেশে ফেরার কথা ছিল নাজমার। তাঁর বড় ছেলে নাজমুল আলম খান লিটু ও মেয়ে তৃণা খানম ঢাকায় বসবাস করেন।

গত ১৩ আগস্ট কুইন্সের ওজন পার্কে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় বাংলাদেশি ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আকঞ্জি (৫৫) এবং তাঁর সঙ্গী থারা মিয়াকে (৬৪)। ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে অস্কার মরেল (৩৫) নামে এক স্প্যানিশভাষীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৭ দিনের ব্যবধানে আরেক বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ায় কুইন্সের জ্যামাইকা এবং ওজন পার্ক এলাকায় বসবাসরত লক্ষাধিক বাংলাদেশির মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

জ্যামাইকায় বাস করা আকবর হোসেন বলেন, ‘এখানকার সব বাংলাদেশিই বাঙালি পোশাকে চলাফেরা করেন। এভাবে চোরাগুপ্তা হামলার শিকার হওয়ায় কেউই এখন নিরাপদ বোধ করছেন না। ’ ১৫ বছর ধরে ওই এলাকায় বাস করা আকবর বলেন, ‘ভেবেছিলাম, এটি আমাদের নিরাপদ আবাস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনায় এলাকাটিকে একেবারেই অপরিচিত লাগছে। ’

এদিকে নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাজমা ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন বলে মনে করছে পুলিশ। তবে বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখছে।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নাজমা খানমের নিহত হওয়ার বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে অফিসিয়ালি আমাদের কাছে এখনো কোনো চিঠি আসেনি। তাঁর মৃতদেহ দেশে নিয়ে আসতে পরিবার আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করব। ’


মন্তব্য