kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিজিবির ‘সীমান্ত ব্যাংক’ উদ্বোধনীতে প্রধানমন্ত্রী

সন্তান কোথায় যায়, কী করে নজর রাখুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সন্তান কোথায় যায়, কী করে নজর রাখুন

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সম্পর্কে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, নিজের ছেলেমেয়ে কোথায় যায়, কী করে, কার সঙ্গে মেশে, কী পড়াশোনা করছে সে বিষয়ে নজর রাখবেন। তাদের সমস্যা যদি কিছু থাকে সেটা শোনেন, তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হোন এবং পারস্পরিক একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি করুন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় ‘সীমান্ত ব্যাংক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে সবার অংশগ্রহণ চান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের পঁচাত্তরের পর থেকেই এ দেশে নানাভাবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দেখা দিয়েছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে

 সমগ্র দেশবাসী আজ ঐক্যবদ্ধ। কাজেই এ সম্পর্কে কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পৌঁছে দেবেন, যাতে আমরা বাংলাদেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত রাখতে পারি। দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি করতে পারি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন এই বিপথে চলে না যায়। ’

ইসলাম শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ধর্ম কখনো হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে না। হত্যার পথ ইসলামের পথ না, শান্তির পথই ইসলামের পথ। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আজকে যারা এ ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে তারা সব থেকে ক্ষতি করছে ইসলাম ধর্মের। ধর্মের ওপরই তারা একটি দুর্নাম দিয়ে দিচ্ছে। মানুষের কাছে আমাদের পবিত্র ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করছে, প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ’ তিনি বলেন, ‘কাজেই এই পথ পরিহার করে সবাই যেন সুস্থ পথে ফিরে আসে। এ জন্য যার যার কর্মস্থলে প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন, সেটাই আমি আশা করি। ’

পল্লী রেশনিং কার্ডে ১০ টাকায় চাল : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা খুব শিগগির পল্লী রেশনিং চালু করতে যাচ্ছি। হতদরিদ্র, পঙ্গু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য এ ব্যবস্থা চালু করব। এই রেশন কার্ড যাদের হাতে থাকবে তারা মাত্র ১০ টাকায় চাল কিনতে পারবে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বমন্দার মধ্যেও আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭.৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা বিশ্বের অনেক দেশই পারেনি। প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বের প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে। ’ এই বিশাল আর্থসামাজিক উন্নয়ন আসলে কোনো ম্যাজিক নয়, বরং তাঁর জনগণের প্রতি কর্তব্য নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং পরিকল্পনামাফিক উন্নয়নের পদক্ষেপ বলেও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

বিজিবিকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ‘সীমান্ত ব্যাংক’ : প্রথম অ্যাকাউন্ট খুলে বিজিপি পরিচালিত ‘সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড’-এর তফসিলি ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার উদ্বোধন করে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মাত্র কয়েক দিন পরেই আমাদের ঈদুল আজহা। সীমান্ত ব্যাংকের উদ্বোধন এ বাহিনীর সব সদস্যের জন্য আমার ঈদের শুভেচ্ছা উপহার। ’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নতুন এই ব্যাংকের ফলকও উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, এই ব্যাংক বিজিবির সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে। ’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বিজিবির সুনামকে অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষা ও উন্নয়নে আরো নিবেদিত হওয়ারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এ দেশটি আমাদের সকলের। আসুন, সকলে মিলে কাজ করে বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করি। ’

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সীমান্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ উচ্চপদস্থ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সীমান্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোখলেসুর রহমান ব্যাংকটির ওপর একটি অডিও ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।


মন্তব্য