kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জনতা ধরল ওবায়দুলকে

দ্রুত বিচার ও ফাঁসি দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ও নীলফামারী প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জনতা ধরল ওবায়দুলকে

নীলফামারীর ডোমার থানার সামনে গতকাল পুলিশ হেফাজতে রিশা হত্যা মামলার আসামি ওবায়দুল খান। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক ওবায়দুল খান (২৮) ধরা পড়েছে। নীলফামারীর ডোমার এলাকার জনতা তাকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওবায়দুল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান। গতকাল বুধবার সকালে তাকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকায় আনা হয়েছে। আজ তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হতে পারে।

এদিকে ওবায়দুলকে আটকের সংবাদ পেয়ে তার দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। নিহত রিশার সহপাঠী ও স্বজনরা অভিন্ন দাবি জানায়।

নীলফামারীর ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমেদ রাজিউর রহমান বলেন, ‘এলাকার মানুষের সহযোগিতায় আমরা চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। বেশি অবদান রেখেছেন এলাকার দুলাল হোসেন ও ইসমাইল। মঙ্গলবার রাতে ডিএমপির একটি টিম, ডোমার থানা পুলিশ ও র‌্যাব -১৩ নীলফামারী ক্যাম্পের টিম অভিযান শুরু করে। পরে সকালে সোনারায় বাজারে ওবায়দুলকে ঘোরাফেরা করতে দেখে এলাকাবাসী তাকে আটক করে এবং পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। ’

সোনারায় বাজারের মাংস ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন (৪০) বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এক যুবককে বাজারে ঘোরাফেরা করতে দেখি। প্রথমে তাকে বাসযাত্রী মনে হলেও পরে সন্দেহ হয়। এ সময় তাকে কিছুটা বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। বিআরটিসির একটি বাস থামলেও তাতে ওঠেনি সে। অপরিচিত এ যুবক হেঁটে বাজার থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় সন্দেহের কথা স্থানীয় ইসমাইল হোসেনকে জানালে সেও একমত হয়। দুজনে আধাকিলোমিটার দূরে গিয়ে যুবককে ডেকে এনে কৌশলে বাজারে নাশতা করানোর জন্য বসিয়ে রাখি। এরপর খবর দিয়ে পুলিশ ডেকে আনি। পুলিশ তাকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এ যুবকই রিশা হত্যার আসামি ওবায়দুল। ’

ইজিবাইকচালক ইসমাইল হোসেন (৩৫) বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওবায়দুলের ছবি দেখায় পুলিশ। দুলালের মুখে এলাকায় নতুন মানুষ ঘোরাফেরার কথা শুনে আমার সন্দেহ হয়। এরপর পুলিশের দেখানো ওই ছবির সঙ্গে মিল থাকায় আমরা দুজনে কৌশলে তাকে আটকিয়ে রেখে থানায় খবর দেই। পরে পুলিশ পৌঁছে গ্রেপ্তার করে। আটকের পর ওবায়দুল স্কুল ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের কথা স্বীকার করে। সে আশ্রয়ের জন্য মঙ্গলবার বিকেলে ডোমারে এক আত্মীয়ের খোঁজে এসেছিল। কিন্তু সেখানে পুলিশের অভিযানের কারণে আশ্রয় জোটেনি। পরে রাত কাটাতে হয়েছে জঙ্গলে। আর সকালে বাজারে পৌঁছার পর ধরা পড়ে যায়। ’

ডোমার থানার উপপরিদর্শক আরমান হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে আসামি ওবায়দুলকে ধরতে অভিযান চলছিল। সকালে খবর পেয়ে সোনারায় বাজার থেকে ওবায়দুলকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্র জানায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এইচ এম আজিমুল হক দুপুর ১২টার দিকে ওবায়দুলকে নিয়ে ডোমার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এ এলাকায় ওবায়দুলের অবস্থানের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব দফায় দফায় অভিযান চালাচ্ছিল। এ সময় পুলিশ তার ছবি এলাকাবাসীকে দেখিয়ে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা চায়।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ডোমার থানা চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত থেকে নীলফামারী পুলিশ, ডিএমপি পুলিশ ও র‌্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ডোমার উপজেলার সোনারায় বাজার থেকে রিশা হত্যা মামলার আসামি  ওবায়দুলকে গ্রেপ্তার করে।

ডিএমপি রমনা জোনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আজিমুল হক জানান, সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যা মামলার আসামি ওবায়দুল খানকে গ্রেপ্তারের জন্য ১৫ সদস্যের দল নিয়ে পাঁচ দিন ধরে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, বীরগঞ্জ, নীলফামারীসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেন।

গত ২৪ আগস্ট বুধবার পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলের সামনের ওভারব্রিজ পার হওয়ার সময় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশাকে ছুরিকাঘাত করে বখাটে ওবায়দুল। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গত রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। এ ঘটনায় নিহত রিশার মা তানিয়া হোসেন বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামি ওবায়দুল ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্সের একটি দর্জির দোকানের কাটিং মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিল। তার বাড়ি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে। ওবায়দুল দুই বছর ধরে ঢাকায় অবস্থান করছিল।

রিশার পরিবারের প্রতিক্রিয়া :  রিশা হত্যায় অভিযুক্ত ওবায়দুল গ্রেপ্তারের পর দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে স্বজন ও রিশার পরিবারের সদস্যরা। রিশার বাবা রমজান হোসেন বলেন, ‘শুনেছি, জানোয়ারটাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু এতে আমার খুশি হওয়ার কী আছে! আমি তো মেয়েকে আর ফিরে পাব না। এমন তো অনেক খুনিই আটক হয়। আবার আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে যায়। আমার একটাই দাবি, মেয়ের ঘাতকের যেন ফাঁসি হয়। ’

গতকাল দুপুরে কথা হয় রিশার বেশ কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে। তারা দাবি করে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ওবায়দুলের ফাঁসি কার্যকর করার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও রিশার ছবি পোস্ট করে অনেকেই ঘাতক ওবায়দুলের ফাঁসির দাবি জানিয়েছে।


মন্তব্য