kalerkantho


নেচেগেয়ে হোটেলে ফিরল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



নেচেগেয়ে হোটেলে ফিরল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

কড়া পাহারায় ওয়াংখেড়ে থেকে ফেরা টিম বাসটি যখন মুম্বাইয়ের মেরিন ড্রাইভ এলাকার ট্রাইডেন্ট হোটেলের গাড়ি-বারান্দায় এসে দাঁড়াল, তখনো লবিতে অনেক উৎসাহী মুখ। বাস থেকে একে একে নামলেন ডোয়াইন ব্রাভো আর ড্যারেন সামি, এর পরই শুরু হলো উদ্দাম নৃত্য! অবশ্য শুরু হলো বললে ভুল হবে, আন্দ্রে রাসেলের ম্যাচ জেতানো ছক্কার পর মাঠে, ড্রেসিংরুমে যে আনন্দনৃত্য শুরু হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের, হোটেলে ফিরে লিফটে ওঠার আগ পর্যন্ত চলেছে সেই উল্লাস। সেই একই গানের তালে, যে গানটা বিশ্ব টি-টোয়েন্টি শুরুর আগে সবাইকে শুনিয়েছিলেন ব্রাভো। চ্যাম্পিয়ন গানের তালে তালে সেই নাচ নাচতে নাচতেই গেইল-ব্রাভো-সামিরা ঢুকেছেন হোটেলে। গানের কথা আর সুরে তাঁরা ইংল্যান্ডকেও বোধহয় একটা বার্তা দিয়ে দিলেন, রবিবারের ফাইনাল শেষেও এই নাচগানই চলবে!

রাসেলের ছক্কা যখন মাঝ আকাশে ভাসছে, তখনই বিজ্ঞাপনের এলইডি বোর্ড টপকে মাঠে ঢুকে পড়েন ডাগআউটে বসে থাকা বাকি সতীর্থরা। মাঠে এক দফা উদ্যাপনের পর ড্রেসিংরুমে ফিরে খালি গায়ে নেচেগেয়ে মাত করে দিয়েছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা। খাবার রাখার পাত্রের ঢাকনাকে ঢোল বানিয়ে চামচের বাড়িতে ধাতব শব্দের ঝংকার তুলেছেন ব্রাভো, পানির বোতল ঠুকে সেই তালে তাল মিলিয়েছেন সুলেমান বেন, জনসন চার্লসরা। গেইলও তাণ্ডবনৃত্যে মেতেছেন, আর ভারতকে হারিয়ে পাওয়া এই জয়ে ক্যারিবীয়দের আনন্দ বিরসবদনে দেখেছেন ড্রেসিংরুমের ভারতীয় কর্মীরা! হোটেলে ফেরার পর গাড়ি থেকে নেমেই তাঁদের যে নাচের শুরু সেটা কখন যে থেমেছে সেটা বলা মুশকিল, কারণ একই তারিখে বিকেলে মেয়েদের বিশ্ব টি-টোয়েন্টির ফাইনাল নিশ্চিত করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মহিলা ক্রিকেটাররাও যে ছিলেন হোটেলে।

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে ড্যারেন সামি জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে বাংলাদেশে হয়ে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ক্যারিবীয় তরুণদের সাফল্যই অনুপ্রাণিত করেছে তাঁদের, ‘আজকে আমরা অনেক বড় একটা ধাপ এগিয়ে গেলাম। আমরা একটা লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছি। বছরের শুরুতে আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল বিশ্বকাপ জিতেছে, যেটা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় মেয়েদের দলও ফাইনালে উঠল। দেখা যাচ্ছে এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটি দলই ফাইনাল খেলছে, যেটা ক্যারিবিয়ানের মানুষের কাছে খুব বড় একটা প্রাপ্তি। ’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডের সঙ্গে বেতন নিয়ে গোলমাল আছে খেলোয়াড়দের। উইনিং শটটা যাঁর ব্যাট থেকে এসেছে, সেই রাসেল নেই কেন্দ্রীয় চুক্তিতে। সামি, ব্রাভো, গেইলও চুক্তির বাইরে। অথচ জয়ের নায়ক তো তাঁরাই! সেই ক্ষোভটাই সংবাদ সম্মেলনে ঝাড়লেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক, ‘আমার মনে হয় ছেলেদের দলটা একটা কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। টুর্নামেন্টের আগে আগে কী হয়েছে, সেটা তো সবাই জানেন। তাই আমরা মনে করি, লড়াইটা আসলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ও দলের সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে বাদবাকি গোটা বিশ্বের। ’

ক্যারিবীয় সংস্কৃতি বলে, এখানকার লোকজন ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায় না। কাল কী হবে, সেই ভাবনায় ডুবে না থেকে আজকের দিনটাকে হাসি, আনন্দ আর নাচগানে উদ্যাপনেই তাদের প্রবল আগ্রহ। ক্রিকেটাররাই বা এর বাইরে থাকেন কিভাবে! অনেকেই বলছেন, সেমিফাইনাল জিতে অতিরিক্ত উদ্যাপন করে ফাইনালে আবার চুপসে যাবে না তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ? আফগানিস্তানের সঙ্গে হেরেও তাদের বিজয় উল্লাসে গেইলের শরিক হয়ে যাওয়া নিয়ে যাদের বিস্ময়, তারা হয়তো ক্যারিবীয়দের জীবনযাত্রা সম্পর্কেই অজ্ঞাত! ইংল্যান্ডের সঙ্গে সেঞ্চুরির আগের দিনও নাইটক্লাবে উদ্দাম পার্টি করেছেন গেইল-ব্রাভোরা। উৎসবই যাঁদের জীবনের রসদ, জীবনের সেরা উৎসবটাও মেতে ওঠার জন্য তাঁরা কতটা তৎপর হতে পারেন, সেটা কে-ই বা আন্দাজ করতে পারে!


মন্তব্য