kalerkantho

25th march banner

দ্বিতীয় ধাপেও নিহত ৮

কেন্দ্র দখল ব্যালট ছিনতাই সহিংসতায় ২৩ জেলায় আহত ৩২৫, ৩৫ কেন্দ্র স্থগিত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



দ্বিতীয় ধাপেও নিহত ৮

চাঁদপুরের ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদে সিল মারা ব্যালট পেপারের স্তূপ (বাঁয়ে); বগুড়ার শিবগঞ্জে রায়নগর ইউনিয়নের অনন্তবালা কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন সুদামপুর গ্রামের তিন বৃদ্ধা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দ্বিতীয় ধাপে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের ৬৩৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ভোট বর্জন ও ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় গুলি ও বোমায় প্রাণ গেছে শিশুসহ আটজনের। ২৩ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সংঘর্ষে পুলিশ, আনসারসহ ৩২৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকেই আছে গুলিবিদ্ধ। গত ২২ মার্চ প্রথম ধাপের নির্বাচনে ব্যাপক সংঘাত-সহিংসতায় প্রাণ হারায় নারীসহ ১১ জন, আহত হয় ছয় শতাধিক।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গতকাল দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ৩৫টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এ ধাপে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ছয় হাজার ২০৫টি। আমাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : সন্দ্বীপে গোলাগুলিতে তিনজনের মৃত্যু : চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নের চর বাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করতে গিয়ে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ কনস্টেবল আল আমিনসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন চর বাউরিয়া এলাকার মো. সানাউল্লাহ (২৭), ইব্রাহীম (২৮) ও জামাল (৩২)।

অন্যদিকে জেলার তিনটি উপজেলায় দুপুরেই ভোট বর্জন করেছে বিএনপি।

জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘সারা দিন ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে দুই প্রার্থীর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটায়। ’ তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অন্যজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান বলে জানা গেছে। আহত কনস্টেবল আল আমিন রাঙামাটি থেকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে চট্টগ্রামে এসেছেন জানিয়ে এসপি বলেন, ‘তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হচ্ছে। ’

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘বিকেলে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী জামাল উদ্দিন ও বিদ্রোহী প্রার্থী জিল্লুর রহমানের সমর্থকরা চর বাউরিয়া স্কুল কেন্দ্র দখল করতে এলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় পুলিশ ১৭ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ’

তবে ঘটনাস্থল ওই ইউনিয়নে নির্বাচনী দায়িত্বপালনকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওবাইদুর রহমান বলেন, দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আর স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, মেম্বার পদপ্রার্থী বেলাল ও সাহেদের সমর্থকরা গোলাগুলি করে এবং ঘটনাস্থলে দুই প্রার্থীই ছিলেন।

ওদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও মারধরের অভিযোগ এনে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, মিরসরাই এবং সন্দ্বীপ উপজেলায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরী। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি ফৌজদারহাটে এই ঘোষণা দেন।

যশোরে ভাজাওয়ালার মৃত্যু : যশোরে নির্বাচনের মাঠে সহিংসতায় একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। নির্বাচনে সহিংসতা, কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগে ছয়টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। তিনজন প্রিসাইডিং অফিসার ও দুজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে আটক করা হয়েছে। যশোর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে নির্বাচনকে ঘিরে এসব ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের চাঁচড়া ভাতুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বোমাবাজি ও গোলাগুলিতে বিষু আলী (৭৫) নামের এক ভাজাওয়ালা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আবদুল হক, বকুল, নাসির, অমল নামের আরো চারজন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে সাত-আটজন সন্ত্রাসী ভাতুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে ব্যাপক বোমাবাজি শুরু করে। তারা কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণও করে। এভাবে সন্ত্রাসীরা কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষায় গুলিবর্ষণ শুরু করে। এই বোমা হামলা ও গোলাগুলির একপর্যায়ে বোমার আঘাতে বিষু আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোহাম্মদ সেলিম জানান, কেন্দ্রের বাইরে দুই পাশ থেকে সন্ত্রাসীরা বোমাবর্ষণ শুরু করলে আত্মরক্ষায় কেন্দ্রের ভেতর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর সদস্যরা গুলিবর্ষণ করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে এই কেন্দ্রের পাশের চাঁচড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণও স্থগিত করা হয়।

যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, স্থানীয় বিল্লাল মেম্বার ও হেলালের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এ বোমা হামলা করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে।

এর আগে সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের আড়পাড়া স্কুল কেন্দ্রের বাইরে প্রতিপক্ষের হামলায় হাসান আলী (৩০) নামের যুবলীগকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে প্রতিপক্ষ মেম্বার প্রার্থীর হামলায় আহত হয়েছেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী শুকুর আলী (৪০)। এর আগে উপশহর ইউনিয়নের শহীদ স্মরণী স্কুল কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল ইসলাম কামালের ওপর হামলা চালালে ঠেকাতে গিয়ে আহত হন কামালের ছেলে মেহেরাব ইসলাম। তবে এ হামলা অতিউৎসাহীদের কাজ দাবি করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী এহসানুর রহমান লিটু বলেছেন, হামলাকারীরা আওয়ামী লীগের কেউ নয়। বিকেলে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে উপশহর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশের এএসআই হুমায়ুন কবিরকে ক্লোজ করা হয়েছে।  

কেরানীগঞ্জে স্কুল ছাত্র নিহত : কেরানীগঞ্জে সহিংসতায় প্রাণ গেছে মো. শুভ কাজী নামের ১০ বছরের এক স্কুল ছাত্রের। সে উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নের মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। গতকাল সকাল ১১টার দিকে ওই স্কুলকেন্দ্রে একদল যুবক ১৫-২০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে শুভ মারা যায়।

এ ইউনিয়নের বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নুরুল হক রিপন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে শুভ নিহত হওয়ার ঘটনায় আমি ফের নির্বাচনের দাবি জানিয়ে ভোট বর্জন করলাম। ’

এদিকে দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের চরকতুব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা প্রতীকের প্রার্থী মো. আবুল বাশারের পক্ষে একদল যুবক কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাধা দেন। পরে উভয় পক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় এক আনসার সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলিবর্ষণ করলে রনি (২০), মাসুম (৩৫) ও অজ্ঞাতপরিচয় এক ভোটার গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া তেঘরিয়া ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে সরকারদলীয় লোকজনের হামলায় অজ্ঞাতপরিচয় এক আনসার সদস্যের মাথা ফেটে যায়।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি ফেরদাউস হোসেন বলেন, ‘শিশু শুভকে যেসব নরপশুরা গুলি করে হত্যা করেছে আমরা তাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করব।

জামালপুরে ব্যাপক সহিংসতা, নিহত ১ : জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর, নাংলা, কুলিয়া, নয়ানগর, শ্যামপুর ও চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নে এবং সদর উপজেলার দিগপাইত ও তিতপল্লা ইউনিয়নে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা বিএনপি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারে। এ সময় মেলান্দহের শ্যামপুর ইউনিয়নের বালুচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উত্তর বালুচর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৫০) নিহত হন এবং মাহমুদপুরে ৫০ জন আহত হন। গুরুতর আহত আব্দুর রহিম, শহিদ জামান, শফিকুল ইসলাম, ফকির আলী, আনোয়ার হোসেন, ইজ্জত আলী, কুব্বাত আলী, আব্দুর রশিদ ও আব্দুল খালেককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সহিংসতায় আরো অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে।

মাদারীপুরে গুলিতে একজনের প্রাণহানি : মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ধুরাইল গ্রামের সুজন মৃধা (৩০) নিহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যায় দক্ষিণ বিরঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার সময় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাহবুবুর রহমানের কর্মী সুজন মৃধা একটি ব্যালট বাক্স নিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ নিয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মজিবুর রহমানের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মাহবুবুর রহমানের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় সুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষকালে পুলিশের গুলিতে সুজন নিহত হন। তবে পুলিশ তা অস্বীকার করেছে।

২৩ জেলায় সহিংসতা, আহত ৩২৫ ভোলা : ভোলার চার উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে কেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ, গুলি ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন গুলিবিদ্ধসহ ৫৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজনকে শুরুতর অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতাল ও বরিশাল মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশের শটগানের গুলিতে এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার আফজাল হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশের কনস্টেবল জুলহাস বলেন, তিনি শটগান নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় অসাবধানতাবশত গুলি বের হয়ে যায়।

মাদারীপুর : মাদারীপুরে গতকাল সকালে ভোটগ্রহণের শুরুতেই সংঘর্ষ, হামলা, ব্যালট ছিনতাই, বাক্স ভাঙচুর, গুলি, বোমাবাজি, ভোট বর্জনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংঘর্ষ-হামলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটমাঝি ইউনিয়নের তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

শেরপুর : শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ছয় ইউনিয়নে কেন্দ্র দখল নিয়ে প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে প্রিসাইডিং অফিসারসহ ২০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাত রাউন্ড গুলি ছুড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী। নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী রোস্তম আলী ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

নরসিংদী : নরসিংদীর শিবপুর ও বেলাব উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রে জাল ভোটের অভিযোগ উঠেছে। এসব কেন্দ্রে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। সহিংসতার ঘটনা ঘটে শিবপুরের সাধারচর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাধারচর উচ্চ বিদ্যালয়, যোশর ইউনিয়নের ছোটাবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জয়নগরের অষ্টআনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের বয়ড়া ইউনিয়নের উজান বয়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে হুমায়ুন ইমাম সিরাজ নামের একজন আহত হয়েছেন। তিনি ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাসান ইমাম বাবুর ছোট ভাই। জাল ভোট ও পুলিশের কাছ থেকে শটগান ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় পুলিশ গুলি ছোড়ে বলে জানা গেছে।

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে সহিংসতায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে আটজনকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাওরাঞ্চল : কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে ১১টি ইউনিয়নে ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র স্থগিত, গুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে সাত-আটটি এলাকায় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও বিজিবির প্রহারে অন্তত ১০ জন কমবেশি আহত হয়েছে। এ ছাড়া একটি ইউনিয়নে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১২ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিজের শটগানের গুলিতে একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ : শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলার বেশির ভাগ কেন্দ্রেই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। তবে ৯টি কেন্দ্র দখলের চেষ্টার সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণে দুই আনসার সদস্যসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। বিচ্ছিন্ন ঘটনায় আরো পাঁচজন আহত হয়েছে। এ ছাড়া সিরাজদিখানের নয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ছয় মাসের জেল দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শ্রীনগর উপজেলার কোলাপাড়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সময় এক মহিলাকে লাঠিপেটার কারণে জনতা এক পুলিশকে আটক করে।

মাগুরা : মাগুরা সদর উপজেলার হাজীপুর, রাঘবদাইড়, মঘী ইউনিয়নে ১০টি ভোটকেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কোনো এজেন্ট দেখা যায়নি। এর মধ্যে একটি কেন্দ্রে ছাত্রলীগ ও এক ইউপি সদস্যের সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পাঁচজন আহত হয়েছে।

নাটোরের লালপুরে চারটি ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন বর্জনসহ সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর, দুই ইউপি সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে বিপ্লব নামে একজন নিহত এবং তিনজন বিএনপি সমর্থক আহত হয়েছে। এদিকে শ্রীরামগাড়ী কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারকে মারধর ও ২৪৬টি ব্যালট পেপার ছিনতাই করার অভিযোগে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

বিভিন্ন স্থানে জাল ভোট, পুলিশের গুলি, ভোট বর্জন :  কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নে পেরপেটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে এক আওয়ামী লীগ সমর্থকের বাড়ি থেকে বস্তাভর্তি ১৫টি ককটেল উদ্ধার করেছে বিজিবি। এ সময় ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের আগেই রেজাল্ট শিটে প্রার্থীর এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিএনপি প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। ভূঞাপুরের ছয়টি ইউনিয়নে কেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ, গুলি ও জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ১৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্ণী ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই চেষ্টা প্রতিরোধে পুলিশ ছয় রাউন্ড গুলি চালিয়েছে। নোয়াখালীর কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ভোট বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। তবে ৯টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। কয়েকটি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। কুড়িগ্রামের দুটি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। তবে ভূরুঙ্গামারীর বলদিয়া ইউনিয়নের দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

কক্সবাজারের পেকুয়ায় কেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ, ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে দুটি ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রে প্রকাশ্যে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। বগুড়ায় ভোট গণনাকালে ভোটকেন্দ্রে ককটেল হামলার সময় পুলিশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত  এক প্রার্থীকে ককটেলসহ গ্রেপ্তার করেছে।


মন্তব্য