kalerkantho


ফাইনালে ইংল্যান্ড

ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ মুখোমুখি আজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ফাইনালে ইংল্যান্ড

চিরায়ত সেমিফাইনালের দল হিসেবে নিউজিল্যান্ডের যে ‘সুনাম’, সেটা অক্ষুণ্ন রইল। গত বছর বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ফাইনালে খেলার মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের এই তকমাটা ঘুচে যাওয়ার যে পথ তৈরি হয়েছিল, বিশ্ব টি-টোয়েন্টির সেমিফাইনালে হেরে সেটা অল্পতেই বন্ধ হয়ে গেল।

ব্যতিক্রমই যেমন নিয়মকে প্রমাণ করে, তেমনি বিশ্ব টি-টোয়েন্টির সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ৭ উইকেটের হারই মনে করাল পুরনো নিয়মটাকেই।

জেসন রয়ের ৪৪ বলে ৭৮ রানের দারুণ ইনিংসে ভর করে নিউজিল্যান্ডের ছুড়ে দেওয়া ১৫৪ রানের টার্গেটটা ৭ উইকেট ও ১৭ বল আগেই ছাড়িয়ে যায় ইংল্যান্ড। যার ফলে ছয় বছরের ভেতর দ্বিতীয়বারের মতো তারা পৌঁছে যায় বিশ্ব টি-টোয়েন্টির ফাইনালে। ৩ এপ্রিলের ফাইনালে তারা অপেক্ষায় থাকবে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের জয়ী দলের।

দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় টস জিতেও বোলিং নেন এউইন মরগান। মার্টিন গাপটিলকে মাত্র ১৫ রানেই ফিরিয়ে বিপদটা বাড়তে দেননি ডেভিড উইলি, উইকেটের পেছনে জস বাটলারের হাতে ক্যাচ দেন এই কিউই ওপেনার। ইনিংসের সূচনায় নামা কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ২৮ বলে ৩২ রানের ইনিংসটায় ছিল না টি-টোয়েন্টির ঝাঁজ। কলিন মুনরো ও কোরে অ্যান্ডারসনই যা একটু মেরে খেলছিলেন, তাঁদের ইনিংস দুটিও খুব একটা বড় হয়নি। মুনরো ৩২ বলে ৪৬ আর অ্যান্ডারসন ২৩ বলে ২৮ রান করে আউট হন।

লোয়ার মিডল অর্ডারে হতাশ করেছেন রস টেলর, গ্র্যান্ট এলিয়ট ও লুক রঞ্চি, এই তিনজনের সমন্বিত অবদান ১৩ রান! তাই সব মিলিয়ে ৮ উইকেটে ১৫৩ রানের বেশি জমা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। অবশ্য এ রকম পুঁজি নিয়েও তো ম্যাচ জিতিয়েছেন কিউই সিপনাররা, তাই আশা তো করতেই পারতেন কেন উইলিয়ামসন।

সেই আশায় জল ঢেলে দেন জেসন রয় ও অ্যালেক্স হেলস। দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে ৮ ওভার দুই বলেই উঠে যায় ৮২ রান। ১৯ বলে ২০ রান করে হেলস আউট হয়ে গেলেও রয় চালিয়ে যান ধ্বংসযজ্ঞ। ৪৪ বলে ১১ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ৭৮ রান করেন রয়, তাতেই পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের কাজটা সহজ হয়ে যায়। তাই ইশ সোধির পর পর ২ বলে রয় ও ইংলিশ অধিনায়ক মরগান আউট হলেও দুশ্চিন্তার কিছু ছিল না, কারণ দলের সেরা ব্যাটসম্যান জো রুট তো ছিলেন! জস বাটলারকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন রুট। সোধির করা ১৭তম ওভারে ২২ রান নিয়ে সব রোমাঞ্চেরই অবসান ঘটিয়ে দেন এই দুজন, মিচেল স্যান্টনারের করা নতুন ওভারের প্রথম বলটাতেই ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে ইংল্যান্ডকে ফাইনালে পৌঁছে দেন বাটলার।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইংল্যান্ডকে বাজির ঘোড়া বলতে অনেকেই ছিল অনিচ্ছুক। তাদের সাফল্যের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া হতো ব্রিটিশ গণমাধ্যমের বাড়াবাড়ি হিসেবে। সেই ইংল্যান্ডই নতুন করে লিখল ইতিহাস, ভারতের মাটিতে বিশ্ব টি-টোয়েন্টির ফাইনালে পৌঁছে গিয়ে।  


মন্তব্য