kalerkantho


তনুর লাশ তুলে ফের ময়নাতদন্ত

হাত পা গলায় আঘাতের চিহ্ন

‘তনুর মৃত্যুতে প্রত্যেক সেনা সদস্য ব্যথিত’

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা-ঢাকা ও মুরাদনগর প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হাত পা গলায় আঘাতের চিহ্ন

তনুর লাশ গতকাল কুমিল্লার মুরাদপুরের পারিবারিক কবরস্থান থেকে উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

নিহত কলেজ ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর পুনঃ ময়নাতদন্ত হয়েছে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। এর আগে দুপুরের দিকে মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থান থেকে তনুর লাশ উত্তোলন করা হয়।

লাশ তোলার পর দ্বিতীয় সুরতহালে তনুর হাতে, পায়ে ও গলার পেছনের অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মনজুর হোসেন জানান, তনুর লাশ ডিকম্পোজ হয়ে গেছে। হাতে, পায়ে, গলায় রক্ত জমাট বাঁধা পাওয়া গেছে।

গত ২০ মার্চ রাতে তনুকে দুর্বৃত্তরা খুন করে তার বাসার অদূরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস রোডের পাশের একটি জঙ্গলে ফেলে যায়। এ ঘটনার পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মচারী ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। শুরুতে মামলা তদন্ত করেন ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাইফুল ইসলাম। পরে অধিকতর তদন্তের জন্য ২৫ মার্চ রাতে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা বিভাগে ন্যাস্ত করা হলেও এর কোনো কূলকিনারা না হওয়ায় মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডিতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডিএনএ পরীক্ষা, সুরতহাল প্রস্তুতসহ পুনঃ ময়নাতদন্তের জন্য গত সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি এ কে এম মনজুর আলমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগম তনুর লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর গতকাল প্রথম শ্রেণির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুত্ফুন নাহার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজগর আলীর উপস্থিতিতে তনুর লাশ তোলা হয়।

গতকাল সন্ধ্যায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক কামাদা প্রসাদ সাহার নেতৃত্বে গঠিত একটি টিম তনুর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন কুমেকের সহযোগী অধ্যাপক ডা. করুনা রানী কর্মকার, প্রভাষক ডা. ওমর ফারুক। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তনুর লাশ পুলিশের তত্ত্বাবধানে পুনরায় দাফনের জন্য তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে গতকাল দুপুর ২টায় কুমিল্লা সেনানিবাস ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা ঢাকা থেকে আসা একদল সাংবাদিক ও কুমিল্লা থেকে যাওয়া আরেক দল সাংবাদিককে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। এ সময় কুমিল্লা সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শওকত আলম, ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মাসুদুর রহমান, ডিজিএফআইয়ের কুমিল্লা প্রধান কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন, আইএসপিআরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রেজা উল করিম শাম্মিসহ শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কুমিল্লা সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শওকত আলম সাংবাদিকদের ঘটনার প্রতিটি স্থান ঘুরিয়ে দেখান এবং কোথায় কী পাওয়া গেছে তা বর্ণনা করেন। পরে সেনানিবাসের পাহাড় হাউসের বাসার সামনে নিহত তনুর বাবা-মায়ের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলার জন্য নিয়ে যান।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শওকত আলম জানান, সড়কের কালভার্টের পূর্ব পাশে তনুর এক পাটি জুতা, অন্য পাশে মোবাইল ফোনের কাভার এবং সে স্থান থেকে সোজা জঙ্গলের ভেতরে আরো এক পাটি জুতা এবং তার কিছু দূরে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি জানান, লাশ পাওয়ার স্থানটির ১০ গজ দূরে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি তা সাংবাদিকদের ঘুরিয়ে দেখান।

নিহত তনুর বাবা এয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার সময় তিনজনকে ওই এলাকায় দৌড়াদৌড়ি করতে কেউ কেউ দেখেছে। তারা সৈনিক ক্লাবের দিকে দৌড়াদৌড়ি করেছে। কিন্তু আমি দেখিনি। ’ তারা সেনানিবাসেরই লোক বলে স্থানীয়রা তাকে জানিয়েছে।

তনুর বাবা বলেন, ‘আমার ধারণা, যা কিছু হয়েছে, তনু যেখানে প্রাইভেট পড়াত, সেদিক থেকেই হয়েছে। ’

এয়ার হোসেন আরো বলেন, ‘তনুর জুতা যখন আমি ও আমার প্রতিবেশী শিক্ষক পাই, তখন আমরা আশপাশে খুঁজতে থাকি এবং জঙ্গলে তার লাশ পাই। জঙ্গলের ভেতর দিয়ে সীমানাপ্রাচীরের পাশ দিয়ে যে মেঠোপথ, সে পথের দিকে তনুর দুই পা ছিল এবং তার চোখ খোলা ছিল। তনুর নাকে রক্ত ও মাথার পেছনে জখম ছিল। তার ওড়না পাশে পড়ে থাকলেও কামিজ ও সালোয়ার পরা ছিল। ’

এয়ার হোসেন এসব বর্ণনা দেওয়ার সময় তনুর মা আনোয়ারা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। একসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘র‌্যাব সদস্যরা আমার ছেলে ও মেয়ের ওপর নানা চাপ তৈরি করেছে। চুল ধরে টানাটানি করেছে। আমাদের বাসায় না রেখে গেস্ট হাউসে রেখে যায়। আমার ছেলেকে দেখেছি মাথার ব্যথায় কাতর হতে। আমার ছেলেকে এবং নাইজুকে (তনুর চাচাতো বোন) সারা রাত আলাদা আলাদা জায়গায় রেখেছে, উল্টাপাল্টা প্রশ্নের পর প্রশ্ন করেছে। ’

আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ঘটনার দিন তনু আমাকে আনতে না যাওয়ার কথা বলে বলেছে টেইলারিং থেকে কাপড় আনতে যাবে, যেগুলো পরে সে ২৬ মার্চ স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের কাছ থেকে পুরস্কার আনতে যাবে। কিন্তু তাকে আনতে না যাওয়ার কথা বলায় আমি রাগ করেছি কি না, আমাকে জড়িয়ে ধরে জানতে চেয়েছে। ’ 

তনুর লাশ দেখতে ভিড়: তনুর লাশ ওঠানোর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সকাল ৮টা থেকে উপজেলার মির্জাপুর গ্রাম ছাড়াও আশপাশের এলাকার হাজার হাজার মানুষ কবরের কাছে ভিড় জমায়। এ সময় মির্জাপুর গ্রামের যাত্রাপুর এ কে উচ্চ বিদ্যালয় ও কোদালকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তনু হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।

এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তনু আমাদের মেয়ে। আমরা তার হত্যার বিচার চাই। সামরিক-বেসামরিক বুঝি না, আমরা প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবি করছি। ’

এ সময় অন্যদের সঙ্গে তনুর বাবা এয়ার হোসেন এবং ভাই নাজমুল হাসানও উপস্থিত ছিলেন।

১১ দিন পর প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ : তনু হত্যাকাণ্ডের তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তনুর লাশ উদ্ধারের পর সংগৃহীত আলামতে অনেক বিষয় অস্পষ্ট রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনও ছিল দায়সারা। এ কারণে গতকাল লাশ তুলে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের সঙ্গে নতুন করে আলামত সংগ্রহ শুরু করেছে তদন্তকারীরা। গতকাল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করলেও তাদের হাতে মামলার নথিপত্র পৌঁছায়নি। বহুল আলোচিত এই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুমিল্লার সিআইডির পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে। গতকাল পর্যন্ত এক ডজন আলামত সংগ্রহ করে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে যেকোনো ঘটনা ঘটলেই র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। তনুর মৃত্যুতেও আমরা একইভাবে তদন্ত করছি। ঘাতকদের ধরতে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের কয়েকটি টিম কাজ করছে। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে মামলার তদন্তের স্বার্থে এক কেজি ওজনের মাটি ও ঘাস আনা হয়েছে। এগুলো র‌্যাবের ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হবে। প্রতিটি তদন্তেই পুলিশকে সহায়তা করে র‌্যাব। আশা করি দ্রুত ঘাতকদের ধরা সম্ভব হবে।

সিআইডির কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের বিশেষ সুপার (এসএস) ড. মো. নাজমুল করীম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আলামত সংগ্রহে আমরা সন্তুষ্ট নই। এখনো আলামত সংগ্রহ করছি। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনসহ কয়েকটি আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্য সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও আমরা সহায়তা নিচ্ছি। ’ তদন্তের অগ্রগতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন শুধু তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করছি। আজ (গতকাল) পুনরায় সুরতহাল ও প্রাথমিক কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছি। আগের তদন্তের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করে কাজ করব। তবে যার কাছে যে তথ্য আছে আমরা সব জানতে চাই। সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চাই। ’

প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অব্যাহত : তনু হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকায় গণজাগরণ মঞ্চের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও গতকাল দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত মানববন্ধন করে। রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। একই ব্যানারে গতকাল মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে আগামী ৩ এপ্রিল সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ঘোষণা দেয় তারা।

এ ছাড়া তনু হত্যাকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। গতকাল শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক এ এস এম মাকসুদ কামাল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সন্তানতুল্য ছাত্রীর প্রতি নির্মমতায় শিক্ষকরা গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। ধর্ষণ ও হত্যা কোনো তুচ্ছ ঘটনা নয়। এটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। এ অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়িয়ে শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে।

কুমিল্লায় ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যশিল্পী সোহাগী জাহান তনু হত্যার বিচারের দাবিতে গতকালও কুমিল্লা ছিল উত্তাল। গতকাল সকাল ১১টায় ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে। সকাল সাড়ে ১১টায় টাউন হলের সামনে কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে। ভিক্টোরিয়া কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিককর্মীদের স্লোগানে স্লোগানে বিকেলে পূবালী চত্বর উত্তাল ছিল। এ ছাড়া গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বানে কুমিল্লার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত মানববন্ধন করে।

সিলেট নগরে বিকেলে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পৃথক মানববন্ধন করে। বিয়ানীবাজারে গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বানে পিএইচজি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করা হয়।

দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—স্পিকার : তনুর হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। গতকাল সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার বলেন, ‘সকল ধরনের নারী নিপীড়ন প্রতিরোধে সরকার অবশ্যই আন্তরিক। তনুর হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতেও সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। ’ পরে স্পিকার বালাগঞ্জ উপজেলায় ‘বালাগঞ্জ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের’ বৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

তনুর মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রত্যেক সেনা সদস্য ব্যথিত—আইএসপিআর : তনুর মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রত্যেক সেনা সদস্য দারুণভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম শাম্মি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২০ মার্চ রাত আনুমানিক ১১টায় কুমিল্লা সেনানিবাসের সীমানাসংলগ্ন এলাকায় তনুর মৃতদেহ পাওয়া যায়। দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই মধ্যে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তনুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী প্রথম থেকেই সব তদন্তকারী সংস্থাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা আন্তরিকতার সঙ্গে প্রদান করছে। অথচ কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনী সম্পর্কে অনুমাননির্ভর বক্তব্য প্রদান/প্রচার করছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে, যা মোটেই কাম্য নয়। সোহাগী জাহান তনুর বাবা মো. ইয়ার হোসেন ৩০ বছর ধরে কুমিল্লা সেনানিবাস ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের একজন বেসামরিক কর্মচারী, যিনি আমাদের সেনাপরিবারেরই সদস্য এবং তনু কুমিল্লা সেনানিবাসে বড় হয়েছে, ও আমাদেরই সন্তান। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রত্যেক সেনা সদস্য দারুণভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত। সেনাবাহিনী জনসাধারণেরই অংশ এবং দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এ ব্যাপারে সবার দায়িত্বশীল বক্তব্য/প্রচার একান্তভাবে কাম্য। সেনাবাহিনীও প্রত্যাশা করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তদন্ত প্রক্রিয়ায় আন্তরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।


মন্তব্য