kalerkantho


উৎকণ্ঠার মধ্যে আজ ৬৩৯ ইউপিতে ভোট

বিশেষ প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



উৎকণ্ঠার মধ্যে আজ ৬৩৯ ইউপিতে ভোট

দ্বিতীয় ধাপে আজ বৃহস্পতিবার দেশের ৪৭ জেলার ৭৮টি উপজেলার ৬৩৯ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোট আজ। ভোটগ্রহণ চলবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এ উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধাপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর হতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর পরও প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎকণ্ঠা। ভোটের আগেই যশোরে হত্যা, বোমা হামলা আর ব্যাপক সহিংস ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস রয়েছে।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ ১৫টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছেন শক্ত অবস্থানে। তাঁদের মধ্যে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিপুলসংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থীও রয়েছেন। ভোটগ্রহণ পরিবেশ শান্ত রাখতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় পৌনে দুই লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের পাহারায় রয়েছেন ২০ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ধাপে ব্যাপক সহিংসতা ও ভোটের আগের রাতে বেশ কিছু কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মেরে বক্সে ঢুকিয়ে রাখার ঘটনায় এবারের নির্বাচনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কোনো কেন্দ্রে অনিয়মের ঘটনা ঘটলে ওই কেন্দ্রের নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা রয়েছে। ইতিমধ্যে পক্ষপাতের দায়ে ঝিনাইদহের মহেশপুর ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার ওসিকে প্রত্যাহার করেছে ইসি। প্রথম ধাপের নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনায় ১১ জন পুলিশ সদস্যকে সাসপেন্ড এবং একজন এসপি ও পাঁচ ওসিকে ভর্ত্সনা করেছে ইসি।  

এরই মধ্যে অন্তত ১৪ জন প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এ ১৪টিতে শুধু সদস্য পদে নির্বাচন হবে। ৫৪টি ইউপিতে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই।

দ্বিতীয় ধাপের এই ৬৩৯ ইউপিতে দুই হাজার ৬৬২ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ২১ হাজার ২৫৯ জন সাধারণ সদস্য ও ছয় হাজার ৪৯৮ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থী রয়েছেন। স্বতন্ত্রভাবে এক হাজার ৫৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অর্থাৎ প্রতি ইউপিতে গড়ে দুইজনের বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। এঁদের বড় অংশই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী। এ নির্বাচনে মোট ভোটার এক কোটি ১২ লাখ ১২ হাজার ৩৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ২৩২ ও নারী ভোটার ৫৫ লাখ ৮৪ হাজার ৭০৭ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ছয় হাজার ২০৫ ও ভোটকক্ষের সংখ্যা ৩২ হাজার ২১টি।

যশোর থেকে বিশেষ প্রতিনিধি ফখরে আলম জানান, হত্যা, বোমা হামলা আর ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে আজ যশোর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হবে। ভোটের আগেই আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থী চেয়ারম্যান হয়ে গেছেন। তাঁরা হচ্ছেন আরবপুর ইউনিয়নের শাহারুল ইসলাম, দেয়াড়া ইউনিয়নের আনিচুর রহমান ও নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের মোদাচ্ছের রহমান। তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাঁরা পারিবারিক কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার কথা বললেও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু অভিযোগ করেন, অব্যাহত হুমকির কারণেই ওই তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চূড়ামনকাঠি, চাঁচড়া, নওয়াপাড়া, উপশহর, লেবুতলা, কাশিমপুর ইউনিয়নে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছে। আর গত ২৩ মার্চ যুবলীগ নেতা আলমগীর হত্যা মামলার আসামি রাসেল রামনগর ইউনিয়নের রাজারহাটে খুন হন। গত মঙ্গলবার কাশিমপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস আলীকে হত্যা করা হয়। ফলে অনেকের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিজিবি এখন মাঠে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

রংপুর অফিস থেকে স্বপন চৌধুরী জানান, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেলেও সহিংস ঘটনার আশঙ্কা করছেন ভোটাররা। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। আজ নির্বাচন হচ্ছে চৈত্রকোল, ভেণ্ডাবাড়ী, বড়দরগা, কুমেদপুর, মদনখালী, টুকুরিয়া, শানেরহাট, পাঁচগাছি, মিঠিপুর, চতরা ও কাবিলপুরে।

দলীয় প্রতীকে প্রথম এই নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভোটার জানান, পীরগঞ্জ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ি ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকা। এখানে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হোক—তা চাইবে না স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সে কারণে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার কে এন রায় নিয়তি জানান, পীরগঞ্জের ১১টি ইউনিয়নে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ১০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৭টি ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য