kalerkantho


ফ্লাইওভারের একাংশ উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

স্কুলেই ট্রাফিক আইন শিক্ষা জরুরি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



স্কুলেই ট্রাফিক আইন শিক্ষা জরুরি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত অংশের উদ্বোধন করেন। ছবি : পিএমও

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে স্কুল পর্যায়েই ট্রাফিক আইন শিক্ষা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘স্কুলে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তাহলেই এসব দুর্ঘটনা কমতে পারে। ’

গতকাল বুধবার সকালে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত অংশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর এ উপলক্ষে বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা শহরের সৌন্দর্যবর্ধন ও নগরবাসীর যাতায়াত সহজ করতে কাজ করছে তাঁর সরকার। এ জন্য তিনি যত্রতত্র রাস্তা পারাপার বন্ধ করতে নগরবাসী ও ট্রাফিক পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে কী কারণে সেটা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে হবে। শুধু চালককে  দোষ দিলে হবে না। দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তির দোষ কতটুকু বা কী, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। সড়ক ব্যবহারে সে নিয়মকানুন মেনেছিল কি না, সেটাও দেখা দরকার।

’ তিনি বলেন, ‘কোনো অ্যাক্সিডেন্ট হলেই গাড়ি ভাঙা, আগুন দেওয়া, মানুষকে প্রহার করা, এসব পরিহার করতে হবে। ’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘যাঁরা ট্রাফিকের দায়িত্বে আছেন তাঁদেরও জনগণকে সচেতন করা, তাদের ট্রাফিক আইন শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে। এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি। ’

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি ‘সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট’ এবং ‘ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়ায় তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। প্রকল্পের বাকি অংশ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘রূপকল্প ২০২১ অনুযায়ী আমরা ঢাকা মহানগরীকে একটি বিশ্বমানের মেট্রোপলিশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকা শহরের যানজট কমাতে ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমি মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য ঢাকাবাসীর, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে এই ফ্লাইওভার নির্মাণের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। যেমন তারা বন্ধ করেছিল তৃণমূলের প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আমাদের সরকার গৃহীত কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা কার্যক্রম। এমনকি তারা সৌদি অর্থায়নে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও বন্ধ করে দিলে ২০০৮ সালে পুনরায় সরকার গঠনের পর তা সম্পন্ন করি। ’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ঢাকা মহানগরের জন্য একটি সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলি। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকায় হাতিরঝিল প্রকল্প, কুড়িল-বিশ্বরোড বহুমুখী উড়াল সড়ক, মিরপুর-বিমানবন্দর জিল্লুর রহমান উড়াল সড়ক, বনানী ওভারপাস উদ্বোধন করেছি। এ ছাড়া মেয়র হানিফ উড়াল সড়ক, টঙ্গীতে আহসানউল্লাহ মাস্টার উড়াল সড়ক এবং চট্টগ্রামে বহদ্দারহাট উড়াল সড়ক জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার উত্তরা থেকে মিরপুর হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি এবং হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। ’ তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন এক হাজার কোটি টাকার ঊর্ধ্বে সাতটি মেগা প্রকল্পের মধ্যে ‘ফাস্ট ট্রাক প্রকল্প’ এবং ‘মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট’-এর কাজ এগিয়ে চলেছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, শিক্ষা-দীক্ষায় আমরা উন্নত হচ্ছি। দেশকে আরো উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কারণ আমরা জাতির পিতার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা স্বাধীন জাতি। বিশ্বে আমরা মর্যাদার সঙ্গে চলতে চাই। মাথা উঁচু করে চলতে চাই। ’

এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ এইচ এম মুতায়ইরি। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এম এ মালেক ও এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী শ্যামা প্রসাদ অধিকারী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, ঢাকা সিটি উত্তরের মেয়র আনিসুল হক ও দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকসহ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস।

এদিকে ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নাজমুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুরো প্রকল্পের ৭০ ভাগের মতো কাজ শেষ হয়েছে। তিন ধাপের মধ্যে এক ভাগের কাজ শেষ হওয়ায় তা খুলে দেওয়া হয়েছে। আর বাংলামোটর থেকে মৌচাক অংশ আগামী জুন মাসে খুলে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে বাকি অংশটুকু ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারিতে খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ’


মন্তব্য