kalerkantho


রাঙামাটির ৪৯ ইউপির ভোট স্থগিত

বিশেষ প্রতিনিধি   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রাঙামাটির ৪৯ ইউপির ভোট স্থগিত

পাহাড়ি জনপদে স্থানীয় কয়েকটি সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী তৎপরতা ও হুমকির কারণে রাঙামাটি জেলার ১০টি উপজেলার ৪৯টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের পরামর্শের ভিত্তিতে ইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপে ওই সব ইউপিতে ভোট হওয়ার কথা ছিল। এসব ইউপির ভোট ষষ্ঠ ধাপে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

এদিকে রাঙামাটিতে ভোট স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা। একই সঙ্গে ওই এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুসা মাতুব্বর কালের কণ্ঠকে বলেন, ভোট বন্ধ করার এই সিদ্ধান্তের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ। তবে এ এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ না হলে নির্বাচন পিছিয়ে দিয়েও কোনো লাভ নেই। জেলা বিএনপির সভাপতি হাজি মো. শাহ আলম  বলেন, যেসব এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে অনেক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি সেগুলোর নির্বাচন বন্ধ করে নির্বাচন কমিশন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু যেসব ইউনিয়নে সব দলের প্রার্থী ছিল সেগুলোর ভোট বন্ধ করা ঠিক হয়নি।

গত ২৭ মার্চ মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে রাঙামাটির ইউপিগুলোর মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ১৮টি এবং বিএনপি ২৭টিতে কোনো প্রার্থী দিতে পারেনি। রাঙামাটি সদর ও জুরাছড়ি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের কোনোটিতেই প্রধান দুই দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেননি। গত ১৫ মার্চ তৃতীয় ধাপে ঘোষিত ৬৮৫টি ইউপি থেকে এ পর্যন্ত ৬৪টি ইউপির ভোট স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল এই ধাপে ৬২১টি ইউপিতে ভোট হবে।

এদিকে এই ৬২১টি ইউপির মধ্যে ৪৬টিতে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। এ ছাড়া ৪৬টি ইউপির মধ্যে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তাঁরা ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন।

রাঙামাটি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সব রিটার্নিং অফিসারকে গতকাল পাঠানো ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মো. সামসুল আলমের সই করা এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারেনি, সেহেতু নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাঙামাটি জেলার ১০টি উপজেলার ৪৯টি ইউপির নির্বাচন তৃতীয় ধাপের পরিবর্তে ষষ্ঠ ধাপে তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশন নির্দেশনা প্রদান করেছেন। রাঙামাটি জেলার যে ৪৯টি ইউপির ভোট স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো হলো কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া, ফটিকছড়ি, ঘাগড়া, কলমপতি, জুরাছড়ি উপজেলার বনযোগীছড়া, দুমদুম্যা, জুরাছড়ি, মৈদং, বিলাইছড়ি উপজেলার বিলাইছড়ি, ফারুয়া, ক্যাংড়াছড়ি, লংগদু উপজেলার আটারকছড়া, ভাসান্যাদম, বগাচতর, গুলশাখালী, কালাপাকুজ্যা, লংগদু, মাইনীমুখ, রাজস্থলী উপজেলার বঙ্গালহালীয়া, ঘিলাছড়ি, গাইন্দা, বরকল উপজেলার এমাছড়া, বড়হরিণা, বরকল, ভূষণছড়া, সুবলং, নানিয়ারচর উপজেলার বুড়ীঘাট, ঘিলাছড়ি, নানিয়ারচর, সাবেক্ষ্যং, বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইছড়ি, বংগলতলী, সারোয়াতলী, খেদারমারা, মারিশ্যা, রূপকারী, সাজেক, আমতলী, রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা, বালুখালী, জীবতলী, কুতুকছড়ি, মগবান, সাপছড়ি, কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা, চিত্মরম, কাপ্তাই, ওয়াগ্গা, রাইখালী। এ ছাড়াও ভোটার তালিকায় জটিলতার কারণে তৃতীয়ধাপ থেকে বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলার আলীকদম, চৈক্ষ, কুরুপ পাতা, নয়াপাড়া—এই চারটি ইউপির ভোট স্থগিত করে  ষষ্ঠ ধাপে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপের আরো ১১টি ইউপির ভোট স্থগিত করা হয়। এগুলো হচ্ছে—ঢাকার কেরানীগঞ্জের শাক্তা, কুমিল্লার লাকসামের মুদাফরগঞ্জ ও বাকই, নীলফামারীর ডিমলার গয়াবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খগাখড়িবাড়ী, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের রায়গ্রাম ও শিমলা রোকনপুর, খাগড়াছড়ির মহালছড়ির সিন্দুকছড়ি, রামগড়ের হাফছড়ি এবং মাটিরাঙ্গার গুইমারা। ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস সম্পন্ন না হওয়া ও মামলাসহ বিভিন্ন কারণে এই ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

যে ৪৬ ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী নেই : এদিকে নির্বাচন স্থগিত রাখা ওই ইউপিগুলো বাদে ৬২১ ইউপির মধ্যে যে ৪৬টিতে বিএনপির প্রার্থী নেই সেগুলো হচ্ছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা, কুষ্টিয়ার খোকসার বেতবাড়িয়া ও গোপগ্রাম, খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ির বারমাছড়ি, মহালছড়ির ক্যায়াংঘাট ও মুবাছড়ি, দীঘিনালার কাবাখালী, খাগড়াছড়ি সদরের ভাইবোনছড়া, গোলাবাড়ী, কমলছড়ি,  পেরাছড়া, পানছড়ির লোগাং, গাইবান্ধা সদরের কামারজানি ও মোল্লারচর, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা, হাতিয়াড়া, কাশিয়ানী, মামুদপুর, নিজামকান্দি, ওড়াকান্দি, পারুলিয়া, পুইশুর, রাজপাট, শাজাইল ও সিংগা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জাফতনগর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বারঘরিয়া, মহারাজপুর ও নারায়ণপুর, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের জামাল, নারায়ণগঞ্জ সদরের আলারটেক ও কুতুবপুর, নীলফামারীর ডিমলার পশ্চিম ছাতনাই ও পূর্ব ছাতনাই, নোয়াখালী চাটখিলের খিলপাড়া, নড়াইল সদরের মুলীয়া, বান্দরবানের রুমার রুমা, মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের বৈলতলী, গাওনদিয়া  ও কুমারভোগ, রাজবাড়ী গোয়ালন্দের উজানচর, বালিয়াকান্দির ইসলামপুর ও জংগল, রংপুর মিঠাপুকুরের দুর্গাপুর, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ও মাদাতি এবং সিলেটের কানাইঘাটের সাতবাক।

এই ৪৬টি ইউপির মধ্যে কুষ্টিয়া খোকসার বেতবাড়ীয়া, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের জামাল এবং মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বৈলতলী, গাওনদিয়া  ও কুমারভোগ ইউপিতে আওয়ামী লীগের ছাড়া অন্য কোনো দলের বা স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই।


মন্তব্য