kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


‘ঘরের মাঠেই’ মুখোমুখি ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ড

মাসুদ পারভেজ   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘ঘরের মাঠেই’ মুখোমুখি ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ড

ক্রিকেটে ‘ঘরের মাঠ-পরের মাঠ’ বলে একটি ব্যাপার আছেই। বিশেষ করে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে আয়োজকদের ঘরের মাঠের সুবিধা নেওয়ার ব্যাপারটি ক্রিকেট সংবিধানে অনুমোদিত একটি ব্যাপারই। একই সঙ্গে সফরকারীদের বিরুদ্ধ কন্ডিশনে এসে আরো বেশি চিড়ে-চ্যাপ্টা হওয়া নিয়েও তো কম আলোচনার ঝড় ওঠে না। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, আজ দিল্লিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালের আগেও কিনা ‘নিজের মাঠ-পরের মাঠ’ প্রসঙ্গ চলে আসছে। অথচ যাবতীয় হিসাব উল্টে দিয়ে শেষ চারে পৌঁছে যাওয়া দুটো দলের জন্যই ভারত দূরের বিদেশ। সেখানে নিউজিল্যান্ড কিংবা ইংল্যান্ড, কারো পক্ষেই আসলে ঘরের মাঠের সুবিধা নেওয়ার কথা নয়।

কিন্তু ওই যে বলা হলো, দুই দলই হিসাব উল্টে দিয়ে উঠে এসেছে সেমিফাইনালে। অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর আগেও ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এদের শামিল হওয়ার ব্যাপারটি অনেকের কাছেই ছিল দূরতম কল্পনা। কারণ ভারতীয় উপমহাদেশে এসে এখানকার স্পিন উপযোগী উইকেটে নিউজিল্যান্ড কিংবা ইংল্যান্ড অতীতে বহুবার এমন হাবুডুবু খেয়েছে যে এবারও তাদের সাফল্যের আশা কেউ করেনি। কিন্তু সাধারণ্যে ছড়িয়ে পড়া ব্যর্থতার আগাম ছবিটা দুই দলই কী দারুণ দক্ষতায়ই না বদলে দিয়েছে! বদলে দিয়ে দুই দলই শিরোপা থেকে এখন মাত্র দুই ম্যাচ দূরত্বে দাঁড়িয়ে। যে দূরত্ব অতিক্রম করে কেন উইলিয়ামসন কিংবা এউইন মরগ্যানকে ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে দেখার কল্পনাও এখন আর অতিরঞ্জন নয় কিছুতেই।

সাধারণ ধারণার বিপরীতে গিয়ে কিউই এবং ইংলিশদের সেমিফাইনালে চলে আসাও ক্রিকেটীয় দক্ষতার চূড়ান্ত রূপ দেখিয়ে। স্পিন উপযোগী উইকেটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ভারতকেই উল্টো স্পিন বিষে নীল করা নিউজিল্যান্ড এমনকি ম্যাচের পর ম্যাচ বাইরে বসিয়ে রেখেছে দুই পেসার টিম সাউদি ও ট্রেন্ট বোল্টকে। অনেকের চোখেই যাঁরা দুজন নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা পেস জুটি। তাঁরা বসে থেকে দেখছেন স্পিন সহায়ক উইকেটে স্পিনারদের দিয়েই কিভাবে সাফল্য তুলে নিচ্ছে দল। চার ম্যাচেই টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়া কিউইরা মূলত লেগস্পিনার ইশ সোধি আর বাঁহাতি স্পিনার মিচেল স্যান্টনারের ঘূর্ণিতেই কাবু করছে প্রতিপক্ষকে। এ দুজন মিলে ইতিমধ্যেই তুলে নিয়েছেন ১৭ উইকেট। বিদেশে এসেও যেন তাদের কাছে ঘরের মাঠের মতোই চেনা হয়ে গেছে ভারতের উইকেট।

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইংল্যান্ডও তো কম যাচ্ছে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৮৩ রান করেও হেরে শুরু করা ইংলিশরা তাদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে পরের ম্যাচেই। দক্ষিণ আফ্রিকার ২২৯ রান তাড়া করে জেতা মরগ্যানের দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি থেকেও ম্যাচ বের করে আনার দক্ষতা দেখিয়েছে। আর সেমিফাইনালটি যখন তারা খেলতে চলেছে দিল্লিতে, তখন ইংলিশ অধিনায়ক এটিকে তাদের ‘নিজের মাঠ’ বলে দিতেও দ্বিধা করছেন না। এই অর্থে যে নিউজিল্যান্ড যেখানে টুর্নামেন্টে তাদের পঞ্চম ম্যাচটি খেলতে চলেছে পঞ্চম ভেন্যুতে, সেখানে দিল্লিতে এটি ইংল্যান্ডের টানা তৃতীয় ম্যাচ। আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের সুপার টেন পর্বের শেষ দুটো ম্যাচও তো তারা এখানেই খেলেছে। এ জন্যই গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মরগ্যানকে বারবারই ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ নিয়ে কথা বলতে শোনা গেল, ‘দিল্লিতে আমরা বেশ অভ্যস্তই হয়ে উঠেছি। এখানে লোকজন দারুণ সমর্থনও দিচ্ছে আমাদের। একই সঙ্গে এখানে খেলা প্রথম ম্যাচের তুলনায় উইকেটের সঙ্গেও অনেক বেশি মানিয়ে নিতে পেরেছি আমরা। ’

মরগ্যান যখন দিল্লির চেনা উইকেটের ফায়দা তুলে ফাইনালে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তখন উইলিয়ামসনেরও নির্ভার থাকার কারণ আছে যথেষ্টই। যেখানে গিয়েই খেলুন না কেন তাঁর স্পিনাররা ঠিকই সাফল্যের ফুল ফুটিয়ে দিচ্ছেন যখন, তখন আর সমস্যা কোথায়! দিল্লি ইংলিশদের খুব চেনা হয়ে উঠতে পারে; কিন্তু গোটা ভারতবর্ষের উইকেটও তো হাতের তালুর মতোই যেন চিনে ফেলছে কিউইরাও। তাই আজকের সেমিফাইনালের দল দুটো ভিনদেশি হলেও তারা খেলছে ঘরেই মাঠেই, পরের মাঠে কিছুতেই নয়!


মন্তব্য