kalerkantho


বাণিজ্যের আড়ালে ৮০% অর্থপাচার

ফারজানা লাবনী   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাণিজ্যের আড়ালে ৮০% অর্থপাচার

বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয় তার ৮০ শতাংশই আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে। আমদানিতে কম দামের পণ্য বেশি দাম দেখিয়ে (ওভার ইনভয়েসিং) আর বেশি দামের পণ্য কম দেখিয়ে (আন্ডার ইনভয়েসিং) এই অর্থ পাচার হচ্ছে।

রপ্তানি বাণিজ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকেই সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশে রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাক খাতের অবদান প্রায় ৮২ শতাংশ।

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একাধিক শাখা অর্থপাচার নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে। এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা শাখা (সিআইসি), শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, শুল্ক মূল্যায়ন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর, ট্রান্সফার প্রাইজিং সেল এবং ট্যাকসেস অ্যান্ড লিগ্যাল এনফোর্সমেন্ট শাখা পৃথকভাবে প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে সব প্রতিবেদন থেকে তথ্য নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। সম্প্রতি এনবিআর ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রতিবেদনে অর্থপাচারের গতি-প্রকৃতি ও পাচার প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কেও সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, কঠোর নজরদারির মধ্যে আনা গেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার না হয়ে দেশের অর্থনীতিতে যোগ হতে পারে।

তবে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী শুল্ক শাখা এবং ব্যাংকের অসাধু কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে আমদানি-রপ্তানিতে অনিয়ম করছেন।

এ অপরাধ বন্ধে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো নজরদারি বাড়িয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে আরো মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তাঁরা।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশ থেকে কারা কিভাবে অর্থ পাচার করছে তা এনবিআরের একাধিক শাখা তদন্ত করছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনেও বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের ক্রমবর্ধমান চিত্র উঠে এসেছে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৮০ ভাগ পাচারই হচ্ছে বাণিজ্যের নামে। অসাধু ব্যবসায়ীরা আমদানি-রপ্তানির আড়ালে এ অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত। ’

এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থপাচারের অধিকাংশ ঘটনায় ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত। অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে তাঁরা অসাধু ব্যবসায়ীদের  সহযোগিতা করে থাকেন। বাংলাদেশি ক্রেতা-বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সমঝোতায় অর্থ পাচার হচ্ছে। বিশেষভাবে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে মিথ্যা তথ্যে এলসি খোলা, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য এনে অর্থ পাচার করা হচ্ছে।

জিএফআইয়ের প্রতিবেদনেও ভয়াবহ চিত্র : ওয়াশিংটনভিত্তিক গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইনটিগ্রিটির  (জিএফআই) প্রতিবেদনেও বাংলাদেশ থেকে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। পণ্য আমদানি-রপ্তানির আড়ালে বাংলাদেশ থেকে ২০১১ সালে ৪৭৫ কোটি ডলার, ২০১২ সালে ৬৫৫ কোটি ডলার, ২০১৩ সালে ৮৩৬ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। গত ১০ বছরে পণ্য আমদানি-রপ্তানির আড়ালে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে মোট ৪৯ হাজার ১৩ কোটি ডলার।

অপব্যবহারে বেশি অর্থপাচার : এনবিআরের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করেই সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হচ্ছে। বন্ড সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

এনবিআরের সর্বশেষ তথ্যানুসারে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের আওতায় বর্তমানে ছয় হাজার ২৭০টি বন্ডেড ওয়্যারহাউসের মধ্যে চার হাজার ২৭২টিই গার্মেন্ট বন্ড। আবার অকার্যকর অস্তিত্বহীন বন্ডেড ওয়্যারহাউস কাগজে-কলমে টিকিয়ে রেখে শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানি করে অর্থপাচার এবং সেই পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করছে এমন বন্ডেড ওয়্যারহাউসের মধ্যেও গার্মেন্ট বন্ড বেশি। গামেন্ট বন্ডগুলোতে যে অনিয়ম হয়েছে আর তাতে সরকার চলতি অর্থবছরে ৭২৯ কোটি দুই লাখ ৪৯ হাজার টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। এ সময় অন্যান্য খাতের বন্ডেড ওয়্যারহাউসের অনিয়মে সরকারের পাওনা (রাজস্ব ফাঁকি ও জরিমানা বাবদ) ৫৪ কোটি ৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এনবিআর চেয়ারম্যান কালের কণ্ঠকে বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের রপ্তানি বৃদ্ধিতে বন্ড সুবিধার নামে কারখানায় উৎপাদনে ব্যবহৃত শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ এ সুবিধার অপব্যবহারে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর শুধু বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে ৫৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাছে সরকার। এনবিআর সূত্র জানায়, নিজস্ব বন্ডেড ওয়্যারহাউসের নামে শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানি করে পোশাক খাতের প্রতিটি কারখানা। বন্ডেড ওয়্যারহাউসে শুল্কমুক্ত পণ্য এনে মজুদ রাখা হয়, যা পরে কারখানায় ব্যবহার করা হয়। বন্ড সুবিধা পাওয়ার অন্যতম শর্ত থাকে, ‘শুল্কমুক্তভাবে বন্ড সুবিধায় আমদানীকৃত কাঁচামাল রপ্তানীকৃত পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করতে হবে। শুল্কমুক্ত বন্ডেড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি করা যাবে না এবং বন্ড সুবিধায় যে পরিমাণ যে নামের পণ্য আমদানির কথা থাকে তাই আনতে হবে। ’

অর্থপাচার সম্পর্কিত এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জমা দেওয়া কাগজপত্রে যে পণ্য যে পরিমাণে আমদানির কথা উল্লেখ করছে প্রকৃতপক্ষে তা আমদানি করছে না। অনেক সময় মোটেও কোনো পণ্য বাংলাদেশে না এনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে, যা ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা করে পরে তুলে নিচ্ছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সাল থেকে পোশাক খাতে ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) ইস্যুর ক্ষমতা তৈরি পোশাক শিল্পের সংগঠন বিজিএমইকে দেওয়া হয়। অর্থাৎ এতে তৈরি পোশাক খাতের একটি কারখানা কি পরিমাণ কাঁচামাল বন্ডেড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করবে তা বিজিএমই নির্ধারণ করে দেয়। এ ক্ষেত্রে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কী পণ্য কী পরিমাণে শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বন্ডেড ওয়্যারহাউসের অস্তিত্ব আছে কি না তা নজরদারি করা ছাড়া এনবিআরের কিছুই করার থাকে না।

প্রতিবেদনে বন্ড সুবিধায় একটি প্রতিষ্ঠান শুল্কমুক্তভাবে কী পরিমাণ কাঁচামাল আমদানি করতে পারবে তা নির্ধারণে এনবিআরের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ জানিয়ে বলা হয়েছে, অনলাইনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখে, বিদেশে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং সরেজমিনে বন্ডেড ওয়্যারহাউস পরিদর্শনে বন্ডেড সুবিধায় শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন। এতে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার কমবে।  

এনবিআরের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক শিল্পের অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য, সুইডেন, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ডেনমার্ক, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ  কোরিয়া, রোমানিয়া, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, নরওয়ে, বেলজিয়াম, পোল্যান্ড, তুরস্ক, বেলারুশ, মরিশাস, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ ৩৭টি দেশে।

হুন্ডিতে পাচার : এনবিআরের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অর্জিত অর্থের পরিমাণ কত, তা কোন খাতে ব্যয় হয়েছে বা মুনাফার অর্থ কোথায় গচ্ছিত আছে তার উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ দেখাতে পারে না অনেক প্রতিষ্ঠান। এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা ব্যাংকিং চ্যানেল এড়িয়ে হুন্ডিতে অর্থ পাচার করছে।

অনুমোদনহীন বিদেশিদের মাধ্যমে অর্থপাচার : এনবিআরের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, তৈরি পোশাক খাতে অনুমোদনহীন বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। বলা হচ্ছে, তারা উচ্চ বেতন-ভাতায় এ দেশে কাজ করছে। আবার যৌথভাবে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তৈরি পোশাক ব্যবসা পরিচালনা করছে। বাংলাদেশে বসবাসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিকের সঙ্গে সমঝোতা থাকায় স্বরাষ্ট্র, বিনিয়োগ বোর্ড, এনবিআরসহ বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের নজরদারিতে আসছে না। এসব বিদেশি বেতন-ভাতা বা ব্যবসায়ের মুনাফা হিসেবে অঙ্কের মোটা অর্থ গ্রহণ করলেও রাজস্ব পরিশোধ করছে না। অর্জিত অর্থের বড় অংশ ব্যাংকিং চ্যানেল এড়িয়ে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এসব বিদেশির তথ্য সংগ্রহে এনবিআরে ডেটা ব্যাংক করলে রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও বাংলাদেশে অবৈধভাবে থাকার সুযোগও কমে যাবে।  

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে পাচার : এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রপ্তানমুখী শিল্পে ব্যবহৃত মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ন্যূনতম রাজস্ব আদায় করা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ব্যবসায়ীদের শূন্য রাজস্বও নির্ধারণ করা হয়। অনেক সময় আমদানীকৃত মূলধনী যন্ত্রপাতির মূল্য যা দেখানো তা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রেও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমদানিকারকের সমঝোতায় অর্থ পাচার হচ্ছে। অন্যদিকে আমদানি করা মূলধনী যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর বন্দরে ফেলে রাখার নজিরও অনেক। এসব মূলধনী যন্ত্রপাতির কার্টন খুলে তদন্ত করে দেখা যায়, এসবে  প্রকৃতপক্ষে মূলধনী যন্ত্রপাতি নেই। কম মূল্যের কিছু পণ্য রয়েছে অধিকাংশ কার্টনে। মূলধনী যন্ত্রপাতি শুল্কমুক্তভাবে আমদানির নামে আনা হচ্ছে অন্য পণ্য। বড় অঙ্কের মুনাফায় সেগুলো আবার অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এসব কার্টনের অধিকাংশই তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানি করা। প্রতিবেদনে আমদানীকৃত মূলধনী যন্ত্রপাতি ছয় মাসের মধ্যে খালাস করতে হবে।

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করে এনবিআর থেকে আরো বলা হয়, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করে তা অবশ্যই ছয় মাসের মধ্যে নির্দিষ্ট কারখানায় স্থাপন করতে হবে। একটি প্রতিষ্ঠান একবার মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করে খালাস করার এক বছর সময়ে আর মূলধনী যন্ত্রপাতির চালান আনতে পারবে না। বিশেষজ্ঞ কমিটি সরেজমিনে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কারখানা পরিদর্শন করে এর সত্যতা যাচাই করবে। এ বিষয়ে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা যা বলেন : তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পের নামে ব্যবসায়ী নামধারী কিছু ব্যক্তি দিনের পর দিন আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অনিয়ম করে অর্থ পাচার করছে জানিয়ে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এবং এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী কালের কণ্ঠকে বলেন, ৩০ বছর থেকে ব্যবসা করছি। তৈরি পোশাক শিল্পের গতিশীলতায় বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বহুগুণ বেড়েছে। এ খাতের অধিকাংশ ব্যবসায়ী সৎ বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। তবে সব জায়গায় কিছু অসৎ ব্যক্তি থাকে। এসব অসৎ ব্যক্তির যোগসাজশে অনিয়ম হয়। এতে শুধু যে অসৎ ব্যবসায়ীরা জড়িত তা নয়, অসাধু কাস্টম কর্মকর্তা, অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচারের মতো ঘটনা ঘটছে।  

বন্ড সুবিধাপ্রাপ্তির পরিমাণ নির্ধারণে ইউডি ইস্যুতে এনবিআরের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে ব্যবসায়ী এ নেতা বলেন, সরকারি নিয়ন্ত্রণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়বে। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

একই মত জানিয়ে বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মো. হাতেম উদাহরণ দিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, গত বছর এফআরসি গার্মেন্টের নামে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় ১২টি চালানে সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে একটি প্রতিষ্ঠান। আবার তারেক গার্মেন্টের নামে জাল কাগজপত্র দেখিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় কোটি কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে একটি প্রতিষ্ঠান। এমন অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যাবে। এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠান শুল্ক শাখার অসাধু ব্যক্তিদের সহায়তা ছাড়া কিভাবে আমদানি করে এমন প্রশ্ন করে ব্যবসায়ী এ নেতা বলেন, এসব অসাধু ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে ব্যবসায়ী সংগঠন তৎপরতা বাড়িয়েছে। শুল্ক শাখা থেকেও নজরদারি বাড়াতে হবে।

বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি মো. নাসির কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ইউডি ইস্যুতে এখন বিজিএমইএর পরিচালকরা কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করতে না পারে।


মন্তব্য