kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণে উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণে উদ্যোগ

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে রয়েছে।

তবে ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ ও শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ১৬ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে পরিপত্র জারি হতে পারে। তবে অকটেন, পেট্রল, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম কমবে কি না, কমালে কতটুকু কমবে এবং তা কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামী মাসে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফার্নেস তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ফার্নেস তেলের দাম লিটারপ্রতি কত কমানো হবে তার ঘোষণা আসবে। ’

এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ‘সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়ে একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে রয়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুতই সিদ্ধান্ত আসবে।

জানা গেছে, গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে। তবে সূত্র জানায়, সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমানোর প্রস্তাব থাকলেও এই মুহৃর্তে ফার্নেস তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের লিটার ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তা লিটারপ্রতি ১৫-১৬ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।

বিশ্ববাজারে দুই বছর ধরে জ্বালানি তেলের দাম কমছে। এতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) গত বছর লাভ করেছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এ বছর প্রথম দুই মাসে বিপিসির মুনাফা হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা, বছর শেষে তা গিয়ে দাঁড়াবে ১০ হাজার কোটি টাকার মতো।

এর আগে, গত ৬ জানুয়ারি জ্বালানি উপদেষ্টা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। চিঠিতে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে আমাদের কিছু করণীয় আছে। এটা স্বীকার করতেই হবে—বিশ্ববাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। দাম কমানোর প্রক্রিয়া হিসেবে অর্থমন্ত্রী জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে বলেন, যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটিতে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। অর্থমন্ত্রীর চিঠি পাওয়ার পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করতে জ্বালানি সচিবকে নির্দেশ দেন।

বিশ্বব্যাংকও গত বছর থেকেই জ্বালানির তেলের দাম কমাতে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে। একাধিকবার বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর অনুরোধ করেছেন।  

জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিপিসি প্রতি লিটার অকটেনে ৪০, পেট্রলে ৩৫, ডিজেল ও কেরোসিনে ২০ এবং ফার্নেস তেলে ১৫ টাকার বেশি মুনাফা করছে। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তেল আমদানিতে বিপিসির চেয়ে খরচ কম পড়ছে। কারণ বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরাসরি ফার্নেস তেল আমদানি করছে তাদের কাছ থেকে সরকার কোনো ট্যাক্স ও ভ্যাট নেয় না। উল্টো লিটারপ্রতি ৯ শতাংশ প্রণোদনা দেয়। এ কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফার্নেস তেলের দাম লিটারপ্রতি পড়ছে ২৫ টাকা। অন্যদিকে বিপিসি প্রতি লিটার ফার্নেস তেলের দাম নিচ্ছে ৬৫ টাকা। এর মধ্যে ট্যাক্স ও ভ্যাটও রয়েছে। এর পরও প্রতি লিটার ফার্নেস তেলে বিপিসির মুনাফা হচ্ছে ১৫ টাকার বেশি। ডিজেল আমদানিতে প্রতি লিটারে দাম ট্যাক্স-ভ্যাট ও বিপণন কম্পানির কমিশনসহ বিপিসির ৪০ টাকার বেশি পড়ে না। আর প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে ৬৮ টাকায়। লিটারপ্রতি অকটেনে ৪০ টাকা, পেট্রলে ৩৫ টাকা লাভ করছে বিপিসি।

সর্বশেষ ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের সময় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেই হারে বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেন ৯৯, পেট্রল ৯৬ এবং কেরোসিন ও ডিজেল ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


মন্তব্য